যুক্তরাষ্ট্র-চীনের মতো দুই পরাশক্তি যখন দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসে, তখন বিশ্ববাসী বিভিন্ন বৈশ্বিক অমীমাংসিত ইস্যুর সমাধান চায়। বিশ্লেষকরা বলছেন, এবার ওয়াশিংটনের বৈঠক থেকে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকৃত অর্থে বড় ধরনের কোনো সমাধান নিয়ে আসতে পারেননি।
বহুল প্রতীক্ষিত বৈঠকে আনুষ্ঠানিক কোনো চুক্তির চেয়ে ব্যক্তিগত সম্পর্ক জোরদারের প্রতীকী বার্তায় বেশি জোর দেয়া হয়েছে। রয়েছে পরিমিত কিছু অর্থনৈতিক ছাড় এবং সম্পর্ক স্থিতিশীল করার সাধারণ কিছু প্রস্তাব। কোনো দরকষাকষিতে না গিয়ে দ্বিপক্ষীয় বিতর্কিত বিষয়গুলো এখনও অমীমাংসিত।
তাইওয়ান প্রণালির উত্তেজনা কমানো, এ সংক্রান্ত মতপার্থক্য নিয়ন্ত্রণে রাখা; চীন-যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যবিরোধ কমানো, বৈশ্বিক সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার সমঝোতা; দু’দেশের বাজারে বাধাহীন প্রবেশাধিকার, রাষ্ট্রীয় ভর্তুকি কমানো কিংবা ইরানের মতো আঞ্চলিক সংঘাতপূর্ণ জটিল ইস্যুগুলোর সমাধান এবারের বৈঠকে এড়িয়ে যাওয়া হয়।
আরও পড়ুন:
এছাড়া ইরানের অর্থায়ন বা ব্যাংকিং খাতে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এবং ইরানকে গোয়েন্দা তথ্য বা স্যাটেলাইট ইমেজ দিয়ে চীনা সহায়তার অভিযোগের মতো স্পর্শকাতর ভূরাজনৈতিক বিষয়গুলোও কার্যকর আলোচনা ছাড়াই পাশ কাটানো হয়েছে।
অত্যাধুনিক চিপ বা সেমিকন্ডাক্টরের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এবং চীনের বিরল মৃত্তিকা ধাতু রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের মতো কঠোর প্রযুক্তিগত প্রতিবন্ধকতাগুলোর স্থায়ী সমাধানও বৈঠকে হয়নি।
এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে, চলমান নানবিধ বৈশ্বিক ইস্যুতে যদি বড় কোনো সিদ্ধান্ত না-ই আসে তবে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের মধ্যে আয়োজিত এ বৈঠকের অর্থ কী?
বিশ্লেষকরা বলছেন, কোনো এক পরাশক্তিকে আপোস করতে বলা বা দরকষাকষির চেয়ে দু’পক্ষের সংলাপ চালু রাখাটাই সহজ কাজ।
এখানেই শেষ নয়। বিভ্রান্তি আরও বেড়েছে বেইজিংকে দেয়া ওয়াশিংটনের অস্ত্রবিক্রির প্রস্তাব নিয়ে চীনে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ডেভিড পারডুর বক্তব্য নিয়ে। ফক্স নিউজকে দেয়া সাক্ষাৎকারে মার্কিন রাষ্ট্রদূত মন্তব্য করেন, শীর্ষ সম্মেলনের সময় ট্রাম্প শি-কে অস্ত্র বিক্রির প্রস্তাব দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর স্পষ্ট করে জানায়, মার্কিন আইনে চীনের কাছে অস্ত্র বিক্রি নিষিদ্ধ এবং এমন কোনো পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের নেই।





