আজ (সোমবার, ১৮ মে) দুপুরে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা দায়রা জজ শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাকে পুলিশ প্রহরায় জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার বিবরণ ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে ফরিদপুর সদর উপজেলার ডিক্রিরচর ইউনিয়নের সাঘা বিশ্বাসের ডাঙ্গী গ্রামের মো. ফারুক মাতুব্বরের মেয়ে স্মৃতি আক্তারের সঙ্গে একই উপজেলার অম্বিকাপুর ইউনিয়নের আজাহার মণ্ডলের পাড়া গ্রামের শাহীন মীরের বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।
আরও পড়ুন
বিয়ের পর থেকেই শাহীন মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন এবং যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী স্মৃতির ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতে থাকেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়। মেয়ের সংসারের কথা চিন্তা করে ২০২১ সালে নিহতের পরিবার প্রায় এক লাখ টাকা যৌতুক দেয়। কিন্তু এরপরও শাহীন আরও তিন লাখ টাকা দাবি করে নির্যাতন অব্যাহত রাখেন।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ২০২২ সালের ২৮ জানুয়ারি সন্ধ্যা থেকে রাতের কোনো এক সময়ে যৌতুকের দাবিকে কেন্দ্র করে স্মৃতি আক্তারকে ঘরের ভেতরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে মরদেহ ঘরের চৌকিতে ফেলে রেখে আসামিরা পালিয়ে যায়। পরদিন স্থানীয়দের খবরে কোতোয়ালি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা ফারুক মাতুব্বর বাদী হয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত শেষে ২০২২ সালের ৩০ এপ্রিল কোতোয়ালি থানার এস আই সুজন বিশ্বাস শাহীন মীরকে একমাত্র অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। সাক্ষ্য ও শুনানি শেষে এ রায় ঘোষণা করেন আদালতের বিচারক।
বিষয়টি নিশ্চিত করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী ভুঁইয়া রতন জানান, আদালতের এ রায়ে আমরা সন্তুষ্ট।





