রাত ১২টায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কারওয়ান বাজারে আসছে সবজিবোঝাই ট্রাক। পাইকারি সবজির বিক্রিও শুরু হয়েছে মধ্যরাত থেকে। ভোরের আলো পর্যন্ত চলে কেনাবেচা।
দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ফুলকপি বোঝাই ট্রাকগুলো রাজধানী ঢাকায় এসেছে গতকাল (বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর) রাত ১০টা থেকে ১২টা নাগাদ।
সরকার খরচ, শ্রমিকের খরচ মিটিয়ে ভোরে এই ফুলকপিগুলো বিক্রি হয়েছে ১৫ টাকা দরে। তবে সময়ের ব্যবধানে সেটি আরও কমেছে। এই ফুলকপির দাম পাইকারি বাজারে কমে এসেছে মাত্র ১০ টাকায়, কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এখন দেখার বিষয়, একই ফুলকপি খুচরা বাজারে কত টাকায় বিক্রি হচ্ছে?
গন্তব্য এবার সবজি বাজারে। পাইকারি বাজার থেকে মাত্র ২০ গজ দূরে খুচরা বাজারে কত টাকায় বিক্রি হচ্ছে ফুলকপি? জানতে চাই সেই খোঁজ।
পাইকারি বাজারে ফুলকপিটির দাম ছিল ১৫ টাকা। পরবর্তীতে সময় যখন বেড়েছে, ১০ টাকা প্রতিপিস বিক্রি হয়েছে পাইকারি বাজারে এবং পরবর্তীতে ৫ টাকারও হাক ডাক আমরা শুনতে পেয়েছি।
তবে সময়ের ব্যবধানে অল্প কিছু দূরেই মূলত এইটি যখন খুচরা বাজারে এসেছে, তখন এটি বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকায়। অর্থাৎ কয়েক মিনিটের ব্যবধানেই এই ফুলকপিটির দাম বেড়েছে ১৫ থেকে ২০ টাকা।
শুধু ফুলকপি নয়, পাইকারি ও খুচরা বাজারে প্রতিটা সবজির দামের ব্যবধান ২০ থেকে ৪০ টাকা। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৫০ টাকা পর্যন্ত।
আরও পড়ুন:
দুই বাজারের দাম পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, প্রতি কেজি বেগুন পাইকারি বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা, অথচ ১ কেজির বদলে ক্রেতাদের কিনতে হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা দরে। করলা ৫০ টাকা বিক্রি হলেও খুচরা বাজারে ৮০ থেকে ১০০ টাকা, মরিচ প্রতি কেজি ২০ টাকা পাইকারি বাজারে অথচ খুচরা বাজারে মিলছে না ৫০ এর নিচে। একই চিত্র ঢেঁরস, মূল পটলের ক্ষেত্রেও। প্রতিটি সবজিতে দামের ব্যবধান সর্বনিম্ন ৩০ টাকা।
ক্রেতাদের মধ্যে একজন বলেন, ‘শীতকালে সবসময় শুনে আসছি যে, শীতকালে জিনিসপত্রের দাম কম, তাও আমরা বাজারে এসে দেখতেছি একটু তো বেশি দাম।’
এ তো গেল বাজারের চিত্র। রাজধানীর অধিকাংশ এলাকার বাসিন্দা সবজি কেনেন ভ্যান থেকে। তবে সেখানে পাইকারি বাজারের থেকে দামের ব্যবধান দুই থেকে তিন গুণের বেশি। যে মরিচের দাম পাইকারি বাজারে ২০ টাকা কেজি, সেটি মহল্লার ভ্যানে ১০০ টাকা। বাকি সবজিতেও দামের ব্যবধান ১০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত। প্রশ্ন হলো— কেন এত ব্যবধান?
বিক্রেতাদের দাবি, পাইকারি বাজারে কেনার পরও আছে বিভিন্ন খরচ। এতেই বাড়ছে সবজির দাম।
বিক্রেতাদের মধ্যে একজন বলেন, ‘এখানেও খরচ হলো, মিন্টু বাড়া আছে ৪০ টাকা, আবার দুইডা তিনটা পচা যায়, এইটাতে পোষানি লাগে না, আবার জোড়া ৫০ বেচি, লাস্টে দিয়া ২০ টাকা বেচি।’
অন্য একজন বলেন, ‘পরিবহন খরচ আছে, লেবার খরচ আছে, রাস্তাঘাটে একটা খরচ আছে, টোল খরচ আছে, তাহলে অবশ্যই এইটা বৃদ্ধি পাওয়ার স্বাভাবিক ব্যাপার।’
জাহিদুল ইসলাম, প্রায় ২১ বছর ধরে কারওয়ান বাজারে কাজ করেন মিন্টুর। তার ভাষ্যমতে, ১০০টি ফুলকপি বাজারে আনতে তারা নেন ৪০ টাকা। এছাড়া আর কোনো খরচ নেই কারওয়ান বাজারে। আর রাজধানীর যে সকল বাজারেই এখান থেকে পণ্য যায়, সেটার অটো ভাড়াও ১০০ টাকার মধ্যে।
আরও পড়ুন:
জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘৫০ কেজি ওমারথা থেকে ওমারথা নিয়ে আসলে, মুরগি পটি নিয়ে আসলে ৫০ টাকা দেয়। ৪০ কেজি নিয়ে আসলে কেউ তো ৪০ টাকাও দেয়।’
বাজারে এমন ব্যবধানে মনিটরিংয়ের অভাবকে দুষছেন ক্রেতারা। সরকারি বিক্রয় কেন্দ্র স্থাপনের দাবি অনেকের।
ক্রেতাদের মধ্যে একজন বলেন, ‘ক্রেতার ভোগান্তি হচ্ছে, কৃষকের ভোগান্তি হচ্ছে, মাঝখান থেকে লাভটা যাদের হচ্ছে, সেটা হলো যে আপনার এই থার্ড পার্টি।’
অন্য একজন বলেন, ‘সরকারের আউটলেট বাড়াইতে হবে, সরকারিভাবে করতে হবে। ওখানে সরকারি কর্মকর্তা থাকতে হবে, শ্রম লেভেলের লোক থাকতে হবে, লেবার থাকতে হবে।’
যদিও গত সপ্তাহের চেয়ে কিছুটা কমেছে সবজির দাম—দাবি অনেক ব্যবসায়ীর। ক্রেতা-মন্দের কথাও বলছেন কেউ কেউ। তবে বাজার মনিটরিং করা গেলে হাত বদলেই দামের যে তারতম্য তা কমিয়ে আনা সম্ভব।





