আওয়ামী লীগের শাসনে ইসির প্রতি জনআস্থা শূন্যে নেমেছিল: রাষ্ট্রপতি

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন
দেশে এখন
0

আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদী শাসনে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রতি জনআস্থা শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনা হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনে দেয়া ভাষণে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী শাসনামলে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নির্বাচন কমিশনের প্রতি জনআস্থা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা হয়েছিল। ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের প্রতি জনগণের আস্থা ফিরে এসেছে।’

‘নির্বাচন কমিশন যাতে জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসে বলীয়ান থাকতে পারে, বর্তমান সরকার আগামী দিনের নির্বাচনী কার্যক্রমে সেটি সমুন্নত রাখবে। নির্বাচন কমিশনের মতো দেশের প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে আইনানুযায়ী স্বাধীনভাবে নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে, বর্তমান সরকার সেটি নিশ্চিত করবে,’ যোগ করেন তিনি।

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, বর্তমানে দেশে ভোটার সংখ্যা প্রায় ১২ কোটি ৭৭ লাখ। সদ্য অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে প্রথমবারের মতো ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে ১৫ লাখের বেশি প্রবাসী নিবন্ধিত হয়েছেন। এটি নির্বাচন কমিশনের একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ।

আরও পড়ুন:

রাষ্ট্রপতি বলেন, জনগণের রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ছাড়া দেশে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। রাষ্ট্র পরিচালনার সব কার্যক্রমে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা ও চর্চার ক্ষেত্রে বর্তমান সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একটি ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে সরকার একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক, স্বনির্ভর ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পথে এগিয়ে চলছে।

‘এক্ষেত্রে নবগঠিত সরকারের সামনে দারিদ্র্য বিমোচন, দুর্নীতি দমন ও আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণই বিরাট চ্যালেঞ্জ। পথ কঠিন হলেও রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে এই বাধা অতিক্রম অসম্ভব নয়। সরকারি এবং বিরোধী দলগুলো ঐকমত্যের ভিত্তিতে কাজ করলে খুব সহজেই দ্রুততার সঙ্গে লক্ষ্যে পৌঁছানো যাবে।’

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আরও বলেন, ‘যেসব পরিকল্পনাকে সামনে রেখে বর্তমান সরকার জনরায়ে সরকার গঠন করতে সক্ষম হয়েছে, সে অনুযায়ী কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। জাতীয় অগ্রগতি ও উন্নয়নের জন্য সরকারি ও বিরোধী দলীয় সম্মানিত সংসদ সদস্যরা জাতির নিকট দায়বদ্ধ। ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়—এ বিশ্বাসে উদ্বুদ্ধ হয়ে সবাই মিলেমিশে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে আমরাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গঠন করতে সক্ষম হব, ইনশাআল্লাহ।’

এসএইচ