আজ (সোমবার, ১৬ মার্চ) দিনাজপুর সার্কিট হাউস মাঠে সুধী সমাবেশে ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
দিনাজপুর তার কাছে একটি বিশেষ আবেগের জায়গা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘এই শহরের সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত স্মৃতি জড়িয়ে আছে। মানুষ সাধারণত জিজ্ঞেস করে— নানা বাড়ি কোথায়? কিন্তু দিনাজপুরের কথা মনে হলেই আমার কাছে নানি বাড়ির কথাটাই আগে মনে পড়ে। শহরের বালুবাড়ি ও ঘাসিপাড়ায় আমার নানা-নানির বাড়ির অনেক স্মৃতি রয়েছে।’
এলাকার প্রতি সেই টানেই দায়িত্বের জায়গা থেকে দিনাজপুরের উন্নয়নে কাজ করার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। সমাবেশে জেলা প্রশাসক, চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘এলাকার বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা তারা তুলে ধরেছেন এবং সরকার সেগুলো গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে যে প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল, সরকার গঠনের পর থেকেই সেগুলোর বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। আলহামদুলিল্লাহ, আমরা সরকার গঠন করার পর প্রায় এক মাসের মধ্যে মানুষের কাছে যে ওয়াদা করেছি, তার অনেকগুলোর কাজ শুরু করেছি।’
এর অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় খাল খনন কর্মসূচি শুরু করার কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘দিনাজপুরের কাহারোল এলাকা থেকে আজ এ কর্মসূচির কাজ শুরু হয়েছে। অনেক বছর ধরে আমাদের নদী-নালা ও খালগুলো ভরাট হয়ে গেছে। ফলে শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট দেখা দিচ্ছে, আবার বর্ষায় হঠাৎ পানি এলে তা আশপাশের ফসল ও বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত করছে।’
আরও পড়ুন:
সরকার আগামী পাঁচ বছরে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা নিয়েছে বলে জানান তিনি। সেইসঙ্গে এর মাধ্যমে কৃষিকাজে পানি ব্যবহার সহজ হবে এবং ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমবে বলেও আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।
ভূগর্ভস্থ পানির অতিরিক্ত ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘আগে যেখানে ১০০ থেকে ১৫০ ফুট গভীরে পানি পাওয়া যেত, এখন অনেক ক্ষেত্রে ৬০০ থেকে ৭০০ ফুট নিচে যেতে হচ্ছে। খাল ও নদী খননের মাধ্যমে যদি পানি ধরে রাখা যায়, তাহলে ভূগর্ভস্থ পানিও ধীরে ধীরে রিচার্জ হবে এবং আর্সেনিক সমস্যাও কমতে শুরু করবে।’
সমাবেশে নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘দেশের প্রায় চার কোটি পরিবারের প্রত্যেক নারী প্রধানদের জন্য একটি “ফ্যামিলি কার্ড” দেয়ার পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে। বাংলাদেশের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। নারীদের পেছনে রেখে আমরা এ দেশকে সামনে এগিয়ে নিতে পারবো না।’
তিনি জানান, এ ফ্যামিলি কার্ডের পাইলট প্রকল্প এরই মধ্যে শুরু হয়েছে এবং দেশের ১৫টি এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়েছে। এর মধ্যে দিনাজপুর-৬ আসনেও প্রকল্পটি চালু হয়েছে বলে জানান তিনি। তার মতে, প্রকল্পটি সফল হলে ধীরে ধীরে সারা দেশে এর পরিসর বাড়ানো হবে।
সমাজের ধর্মীয় নেতাদের জন্যও সরকারের পক্ষ থেকে সম্মানীর ব্যবস্থা করা হয়েছে বলেও জানান তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘আমরা নির্বাচনের আগে বলেছিলাম, যারা মসজিদে ইমাম, মোয়াজ্জেম, খতিব হিসেবে কাজ করেন এবং বিভিন্ন ধর্মের ধর্মীয় গুরু আছেন, তাদের জন্য একটা সম্মানির ব্যবস্থা করবো। আলহামদুলিল্লাহ, কয়েকদিন আগে আমরা সেই কাজটিও শুরু করেছি।’
এছাড়া প্রত্যাশিত দেশ গড়তে সরকার সর্বাত্মক কাজ করে যাবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এ সুধী সমাবেশ ও ইফতার মাহফিলে দিনাজপুর জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। বক্তব্যের শুরুতে উপস্থিত সুধীজন ও এলাকাবাসীকে শুভেচ্ছাও জানান প্রধানমন্ত্রী।





