রাজধানীর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন সুলতান। ঈদের ছুটি শেষে প্রথম কর্মদিবসে দুপুর পর্যন্ত জ্বালানির অপেক্ষায় তাকে বসে থাকতে হচ্ছে ফিলিং স্টেশনের লাইনে।
ভুক্তভোগী সুলতান বলেন, ‘অফিস ৯টা থেকে ছিলো, সকাল থেকে এখানে দাড়িয়ে আছি। লরি থেকে তেল নামলো তারপর আমাদের দেয়ার ব্যবস্থা করা হলো।’
ঈদের ছুটি শেষে কাজে ফেরা অনেকের অভিজ্ঞতাই এরকম। বেশিরভাগ পাম্পেই মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত পৌঁছায়নি কোনো জ্বালানিবাহী লরি।
গ্রাহকরা জানান, তারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তেল পাচ্ছেন না। তেলের জন্য তাদের তিন থেকে চারটি পাম্পে ঘুরতে হচ্ছে তাদের। আশেপাশের ফিলিং স্টেশনগুলোতে সমানভাবে তেল বণ্টন করার দাবি জানান তারা।
মহাখালীর সাউদার্ন ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে আছে যানবাহন। স্টেশন ইনচার্জের দাবি, দৈনিক চাহিদার তুলনায় এক-চতুর্থাংশ জ্বালানি পাচ্ছেন তারা, যা দিয়ে সর্বোচ্চ চার ঘণ্টা পাম্প চালু রাখা সম্ভব।
স্টেশন ইনচার্জ বলেন, ‘সাধারণত ১৪ থেকে ১৫ হাজার বিক্রি হয়। আমরা ২২ থেকে ২৭ হাজার অকটেন নিয়ে আসি। সেখানে আমদের তেল এসেছে সারে ৪ হাজার। আগের থেকে এখন কম তেল পাচ্ছি।’
আরও পড়ুন:
এদিকে, সচিবালয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ দাবি করেছেন, হঠাৎ বিক্রি বেড়ে যাওয়ায় জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দিয়েছে। প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল না নিলে সরবরাহ ঠিক থাকবে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, ‘ডিমান্ড এমন হঠাৎ করে বেড়ে গেছে, যারা সারা দিনে যে তেল বিক্রি করতো; এখন তিন ঘণ্টায় শেষ হয়ে যাচ্ছে।’
কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে তেলের ডিপোতে শত শত লরি দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে আছে জ্বালানি নেয়ার অপেক্ষায়। চালকদের অভিযোগ, নির্ধারিত কোটা শেষ হয়ে গেলে ডিপো থেকে সরবরাহ বন্ধ করে দেয়া হয়। পুরো দিন অপেক্ষা করেই ফিরতে হয় খালি হাতে।
এদিকে পদ্মা অয়েল ডিপোতে প্রবেশ করতে গেলে পড়তে হয় বাধার মুখে। এমনকি সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়েও দেয়া হয় ভুল তথ্য।
সরকার বলছে জ্বালানি সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই, তবে মাঠ পর্যায়ের এ চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। চাহিদা, সরবরাহ আর ব্যবস্থাপনার এ অসামঞ্জস্যই এখন ভোগান্তির প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।





