নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্ভাবনা; বিনিয়োগ বাড়ানোর পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের

নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন
দেশে এখন
0

দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের চাপ সামলাতে আদর্শ বিকল্প হতে পারে নবায়নযোগ্য জ্বালানি। তবে উৎপাদন সক্ষমতার মাত্র ৪ শতাংশের কাছাকাছি জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা গেছে, যা সংকট মোকাবিলায় যথেষ্ট নয় বলছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, বিদ্যুতের চাপ সামলাতে নেট মিটারিং ও স্মার্ট গ্রিডের স্পষ্ট রূপরেখা দেয়া জরুরি। পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি যৌথ উদ্যোগে এই খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোরও পরামর্শ তাদের।

জ্বালানি সংকটে নাজেহাল বিশ্ব। ঝুঁকিতে বাংলাদেশও। বিশেষ করে আমদানি-নির্ভরতায় বাড়ছে শঙ্কা। ইরান যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি আমদানি ব্যয় বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বৃদ্ধি না পাওয়ায় জ্বালানি নিরাপত্তা ঘিরে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। চলতি গ্রীষ্ম মৌসুমে দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের চাপ সামলানোর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নবায়নযোগ্য জ্বালানিই হতে পারে আদর্শ বিকল্প।

কিন্তু নবায়নযোগ্য জ্বালানির বাস্তব অবস্থা কতটা আশাপ্রদ? মোটা দাগে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারে বাংলাদেশ এখনো অনেকটাই পিছিয়ে। মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার ৫ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি হলেও গ্রিডে যোগ করা গেছে মাত্র ৩ দশমিক ৬৯ শতাংশ। যা বৈশ্বিক সংকট থেকে সুরক্ষা দিতে যথেষ্ট নয়।

বেসরকারি সংস্থা চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভের গবেষণা বলছে, বিদ্যুৎ খাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি নির্ভর নির্ভরযোগ্য রূপান্তরের জন্য ২০৪০ সাল পর্যন্ত ৩২ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ প্রয়োজন। যার প্রথম পর্যায় ২০৩০ সালের মধ্যে যোগান দিতে হবে ৮ দশমিক ৭২ বিলিয়ন ডলার। বলা হচ্ছে, এ বিনিয়োগে ১ ডলারের বিপরীতে ১৭ ডলারের অর্থনৈতিক সুফল পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে হবে। বিশেষ করে বিদ্যুতের চাপ সামলাতে অফ গ্রিড মাধ্যমকে বিবেচনা, নেট মিটারিং ও স্মার্ট গ্রিডের স্পষ্ট রূপরেখা দেয়ার পরামর্শ তাদের। পাশাপাশি কমিউনিটি গ্রিডের মাধ্যমে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় কৃষি জমির পরিবর্তে শিল্প ভবনের ছাদ, সৌরশক্তিচালিত সেচ ব্যবস্থা ও ভাসমান সৌরবিদ্যুতে অগ্রাধিকার দেন তারা।

আরও পড়ুন:

চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভ প্রধান নির্বাহী এম জাকির হোসাইন খান বলেন, ‘গ্রিডে দেয়ার জন্য যে ধরনের সিস্টেম অপারেট করতে হবে এর পাশাপাশি অগ্রিডে চলে যেতে হবে। প্রতিটি গ্রামভিত্তিক অগ্রিড সিস্টেমে চলে যেতে হবে। আপনি এ মুহূর্তে ২০ মিলিয়ন ডলার খরচ করে বাংলাদেশের ট্রান্সমিশনে আপগ্রেড আনতে পারবেন না। কোনো জায়গা ব্যবহার করে করতে হবে না। শুধুমাত্র ইন্ডাস্ট্রিয়াল রুফটপ ব্যবহার করে সোলার করলে ডিজেলে কনভার্ট করলে সাড়ে তিন হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া সম্ভব।’

নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বেসরকারি খাতে ছোট ছোট উদ্যোগ থাকলেও সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের অভাবে এই খাতকে এগিয়ে নেয়া যায়নি বলে মন্তব্য এ জ্বালানি বিশেষজ্ঞের। বিদ্যুৎ সংকট কাটাতে সরকারি-বেসরকারি যৌথ উদ্যোগে জাতীয় গ্রিডে ২ থেকে ৩ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ যুক্ত করার পাশাপাশি এই খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর পরামর্শ তার।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. ম. তামিম বলেন, ‘এটি দ্রুত করতে হবে। সবার সঙ্গে যুক্ত হয়ে প্রাইভেট-পাবলিক পার্টনারশিপের মাধ্যমে ও পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি-ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির সঙ্গে মিলে, প্ল্যানিং করে করলে ২ থেকে ৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আগামী ২ থেকে ৩ বছরে যুক্ত করা সম্ভব।’

এরই মধ্যে ২০৩০ সাল নাগাদ সরকার মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে আনার পরিকল্পনা সরকারের। তবে জ্বালানি রূপান্তর ও বৈশ্বিক চাপ সামাল দিয়ে তা কতটা বাস্তবে রূপ নেবে সেটিই এখন দেখার বিষয়।

এফএস