নোয়াখালীর মোহাম্মদ হোসেন বলেন, ‘প্রতিনিয়ত আমাকে তারা মানসিক যন্ত্রণা দিয়েছে। তুমি আমাদের ১ লাখ টাকা দাও তা না হলে নেপাল থেকে বের হতে পাবে না।’
দালালের প্রতারণায় ইউরোপের স্বপ্ন ভেঙেছে নোয়াখালীর মোহাম্মদ হোসেনের। আলবেনিয়া যেতে মালিবাগের ইউনিক গ্লোবাল উইংয়ের মাধ্যমে দালালের হাতে তুলে দেন সাড়ে ৭ লাখ টাকা। অথচ তাকে নিয়ে যাওয়া হয় নেপালে। সেখানে একটি গেস্ট হাউজে ১ মাস ১০ দিন জিম্মি থাকার পর দেশে ফিরে আসেন প্রতারণার শিকার এ যুবক।
মোহাম্মদ হোসেন বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে আমাকে ট্রাভেল এজেন্সি থেকে নেপালে পাঠিয়েছে আর সেখান যাওয়ার পর দেখা যায় সে টিকেটের মেয়াদ নাই।’
অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর ভারতের ভিসা বন্ধ হয়ে গেলে পর্যটকদের পছন্দের দেশ হয়ে উঠে নেপাল। ইউরোপের বিভিন্ন দেশের ভিসার আবেদন, বায়োমেট্রিক সংগ্রহ মতো কাজের সূত্রে যাতায়াতসহ বাংলাদেশি পর্যটকদের ভিড় বাড়তে থাকে সেখানে। এতেই সক্রিয় হয়ে উঠে প্রতারক চক্র।
পর্যটকের আড়ালে ইউরোপ নেয়ার গল্প তৈরি করে এসব চক্র। গন্তব্য ইউরোপ হলেও নেপাল যাবার পর জিম্মি করে আদায় করা হয় টাকা। এ টাকা আবার খরচ হয় সেখানকার ক্যাসিনোতে।
আরও পড়ুন:
ভুক্তভোগী একজন বলেন, ‘মানবপাচারকারী দলের বর্তমানে ২০০ থেকে ৩০০ জন সক্রিয় আছে নেপালে। প্রতিদিন গড়ে নেপালে এই দালাল চক্র ২০ থেকে ৩০ জন নিয়ে আসে।’
এমন কিছু চক্রের নেতৃত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ, নেপাল, ভারত ও কিছু পাকিস্তানি নাগরিক। এরই মধ্যে ভুক্তভোগী কয়েকজন বাংলাদেশিকে উদ্ধারের কথা জানালেন নেপালের বাংলাদেশ দূতাবাস।
নেপালে বাংলাদেশ দূতাবাসের হেড অব চ্যান্সেরি মো. শোয়েব আব্দুল্লাহ বলেন, ‘বাংলাদেশ, নেপাল, ভারত ও কিছু পাকিস্তানি নাগরিক মিলে একটা চক্র তৈরি হয়েছে। যারা নেপালে নিয়ে এসে মানবপাচারের কাজ করছে। গত মানে আমরা ৫ জনকে উদ্ধার করেছি। অবাক করা বিষয় হলো যারা এখানে যাদেরকে নির্যাতন করছে তারা ও বাংলাদেশি।’
পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ বলছে, মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত এজেন্সি ও দালালদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। নেপালগামী যাত্রীদের বিষয়ে আরও যাচাই বাছাই করতে বিমানবন্দরের বিশেষ পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করছে সিআইডি।
সিআইডি সিরিয়াস ক্রাইম-অর্গানাইজড ক্রাইমের এসএসপি মোহাম্মদ বদরুল আলম মোল্লা বলেন, ‘এই এজেন্সিগুলোর তালিকা আমরা প্রস্তুত করেছি এবং সঙ্গে সঙ্গে দালালদের তালিকা ও প্রস্তুত করেছি। আর যারা জড়িত তাদেরকে আমরা আইনের আওতায় নিয়ে আসছি।’
তবে নেপালে আটকে থাকা ভুক্তভোগী বা পরিবার থেকে অভিযোগ পেলে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নেপাল পুলিশ ও ইন্টারপোলের সহযোগিতা নেয়া হবে বলছেন এ কর্মকর্তা।
মোহাম্মদ বদরুল আলম মোল্লা বলেন, ‘নেপাল পুলিশ ও ইন্টারপোলের সহায়তা ও নিয়ে উদ্ধার করতে পারি। এমনকি আমাদের ইন্টাপোলে আমাদের পুলিশের শাখাও রয়েছে।’
সিআইডি বলছে, প্রতারণা এড়াতে সচেতনতার বিকল্প নেই। বিদেশ গমনের আগে চূড়ান্তভাবে ভিসা যাচাইয়ের পরামর্শ সংশ্লিষ্টদের।





