সংবিধান আমাদের আবেগ ও লাখ শহিদের রক্তের সঙ্গে জড়িত: মির্জা ফখরুল

সংসদে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
দেশে এখন
0

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সংবিধান আমাদের আবেগ ও ১৯৭১ সালের লাখ শহিদের রক্তে সঙ্গে জড়িত। আজ (বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল) সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম।

মন্ত্রী বলেন, ‘এই সংবিধানের অনেকগুলো আর্টিকেল ও অধ্যায় রয়েছে, যেগুলো বারবার পরিবর্তন হয়েছে এবং এই সংবিধানকে কেটে কেটে বলা যেতে পারে একটা কাঁটাছেড়া পাতায় পরিণত করা হয়েছে। এই সংবিধানের জন্য আমরা যুদ্ধ করেছি, লড়াই করেছি।’

তিনি বলেন, ‘আমাদেরকে সংস্কার বিরোধী বলে চিহ্নিত করবার চেষ্টা করেন, পোস্টার নিয়ে এসেছেন, পার্লামেন্টে বলেছেন আমরা সংস্কার চাই না। সংস্কারের জনক তো আমরাই।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আজকে যে রাষ্ট্রপতির ব্যাপারে আমরা কথা বলছি, রাষ্ট্রপতি যেই হোন না কেন, তিনি একটি ইন্সটিটিউশন, কোনো ব্যক্তি নয়। একটা প্রতিষ্ঠান, সেই প্রতিষ্ঠানকেই আমরা রক্ষা করেছি আমাদের প্রয়োজনে। কারণ ৫ আগস্টের পরে যদি এই রাষ্ট্রপতি না থাকতেন তাহলে রাষ্ট্রে একটা অরাজকতা, একটা নৈরাজ্য সৃষ্টি হতো।’

আরও পড়ুন:

জামায়াতে ইসলামীর প্রতি ইঙ্গিত করে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘তারা বলছেন-আমাদের চেহারা বদলে গেছে, আমাদের চেহারা বদলায়নি। তারা হঠাৎ করেই বদলে গেল।’

তিনি বলেন, ‘উনারা বলছেন যে, আমাদের চেহারা বদলে গেছে, আমাদের চেহারা বদলায়নি। তারা হঠাৎ করেই বদলে গেল, হঠাৎ মনে হলো যে- তারা ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য একটা ইঙ্গিত পেয়ে গেছেন এবং ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য সবকিছু তৈরি হয়ে গেছে। তখন তারা যে সমস্ত উক্তি এবং যে সমস্ত কথা বলেছেন বিভিন্ন বক্তব্যের মধ্য দিয়ে, এই বক্তব্যগুলো গণতন্ত্রকে সাহায্য করেনি।’

মন্ত্রী বলেন, ‘আজকে যে দূরত্ব, এই দূরত্ব সৃষ্টি হওয়ার একটা কারণ ছিল। আপনারা নির্বাচনকে অস্বীকার করছেন, বলছেন যে নির্বাচনে ইঞ্জিনিয়ারিং করা হয়েছে। এটা কেউই মেনে নেবে না। মেনে নেয়নি এই দেশের মানুষ, সেটা মেনে নেবে না।’

আরও পড়ুন:

তিনি বলেন, ‘১৯৭১ সালে যখন গণহত্যা চালাচ্ছিল সেই সময়ে স্বাধীনতার ঘোষক শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা শুনে যিনি যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছিল তিনি আজকের সংসদের স্পিকার।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের ইতিহাস, এটা আমাদের বুকেই আমরা ধারণ করি, এটা এই দেশের সব মানুষই ধারণ করে। যখন এই কথাগুলো এই বিষয়গুলো নিয়ে কোনো কটাক্ষ করা হয়, তখন তো অবশ্যই আমরাও কষ্ট পাই। এই লাখো মানুষ যারা সংগ্রাম করেছে, লড়াই করেছে- তারাও কিন্তু মানুষ একইভাবে কষ্ট পায়।’

তিনি বলেন, ‘লন্ডনে যে ঐতিহাসিক বৈঠক আমাদের চেয়ারম্যান এবং তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে হয়েছে, সেই বৈঠক সম্পর্কে তারা (বিরোধীদল) বিদ্রুপ ও কটাক্ষ করে বলেছেন, সেখানে নাকি কি একটা ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত হয়েছে। যার ফলে আজকে বিএনপি এই পার্লামেন্টে মেজরিটি নিয়ে বসে আছে, অত্যন্ত দুঃখজনক। আমি তীব্র নিন্দা জানাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই ধরনের কথা কখনোই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না, লন্ডন বৈঠক হয়েছিল বলেই আজকে আমরা এখানে সবাই। কারণ লন্ডন বৈঠকেই নির্বাচনের তারিখ হয়েছিল। ওই বৈঠকেই প্রধান উপদেষ্টা রাজি হয়েছিলেন যে দ্রুত ফেব্রুয়ারির মধ্যে তিনি নির্বাচন দেবেন। এটাই হচ্ছে বাস্তবতা। এটাও আমাদেরকে সবাইকে স্বীকার করে নিতে হবে।’

এসএস