আজ (বৃহস্পতিবার, ৭ মে) সচিবালয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে দেশের শীর্ষস্থানীয় লেদারগুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের ১৮০ দিনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে দ্রুত সময়ের মধ্যে এই পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। যেহেতু প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়মিতভাবে এ ধরনের জুতা উৎপাদন করে।’ তাই অল্প সময়ের মধ্যেই কার্যক্রম বাস্তবায়ন সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘সরকার প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্য একটি পাইলট কর্মসূচি হাতে নিয়েছে, যার মাধ্যমে প্রথম ধাপে প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মাঝে মানসম্মত স্কুল জুতা বিতরণ করা হবে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে দেশের বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের সিএসআর কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সরকারকে অনুদান দেবে বলে আশ্বাস দিয়েছে।’
তিনি উল্লেখ করেন, প্রাথমিকভাবে প্রত্যেক উপজেলায় দু’টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির সব শিক্ষার্থীকে (প্রায় এক লাখ শিক্ষার্থী) জুতা বিতরণের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে, যাতে সীমিত পরিসরে দ্রুত ও কার্যকরভাবে পাইলট হিসেবে বাস্তবায়ন করা যায়।
আরও পড়ুন:
ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘আমরা চাই এ উদ্যোগটি শুধু একটি বিতরণ কর্মসূচি না হয়ে শিশুদের জন্য একটি মর্যাদাপূর্ণ ও সমন্বিত সহায়তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হোক। এ জন্য জুতার মান, স্টাইল ও উৎপাদন প্রক্রিয়ায় একটি নির্দিষ্ট সমন্বয় থাকা অত্যন্ত জরুরি এবং দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জুতার গুণগত মানে বড় ধরনের বৈষম্য থাকলে সেটি শিশুদের মধ্যে অসম অভিজ্ঞতা তৈরি করতে পারে।’ তাই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মতামতের ভিত্তিতে একটি গ্রহণযোগ্য মান নির্ধারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সভায় টেকনিক্যাল ও কোয়ালিটি স্ট্যান্ডার্ড নির্ধারণে একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন প্রতিমন্ত্রী। কমিটিতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, সংশ্লিষ্ট টেকনিক্যাল বিশেষজ্ঞ, লেদার ইনস্টিটিউট ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত করার পাশাপাশি সহযোগী প্রতিটি কোম্পানির একজন প্রতিনিধি রাখার নির্দেশনা দেন।
এছাড়া ডিজাইন, মান যাচাই (কোয়ালিটি চেকিং), সার্টিফিকেশন যেন আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী হয়, সেজন্য টেকনিক্যাল এক্সপার্টদের সম্পৃক্ততার ওপর গুরুত্বারোপও করেন তিনি।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে ড্রেস ও ফুটওয়্যার সামগ্রী বিতরণের লক্ষ্যে আয়োজিত সভায় বাটা, অ্যাপেক্স, প্রাণ-আরএফএল, বসুন্ধরা গ্রুপসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাখাওয়াৎ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।




