দেশে জঙ্গি অস্তিত্ব নিয়ে ভিন্নমত; পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের দাবি পুলিশের

অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড
দেশে এখন
0

সম্প্রতি দেশে জঙ্গি অস্তিত্ব নিয়ে নানা মহলে চলছে আলোচনা। সরকারের পক্ষ থেকে কেউ বলছে অস্তিত্ব নেই, আবার কেউ বলছে আছে। যদিও দেশে নিষিদ্ধ উগ্রবাদী সংগঠনের অস্তিত্ব একেবারে উড়িয়ে দিচ্ছে না বিশ্লেষকরা। তবে এ নিয়ে ভয়ের কিছু নেই বলে জানিয়েছে পুলিশ।

১৩ এপ্রিল, সোমবার। মহেশপুর উপজেলার পলিয়ানপুর সীমান্তের ইছামতি নদীতে একটি মরদেহ ভেসে থাকতে দেখে স্থানীয়রা। পরে তারা পুলিশকে খবর দিলে মরদেহটি উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। লাশ শনাক্তে আঙ্গুলের ছাপ নিয়ে পরিচয় খোঁজার পরও পরিচয় না পেয়ে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করে দেয় পুলিশ। এদিকে এই ঘটনার ১২ দিন পর যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী এক আফগান নাগরিক মরদেহটি তার ভাই এর বলে দাবি করে।

এমন অবস্থায় স্থানীয় দায়িত্বরত পুলিশের কাছে জানতে চাওয়া হয় মৃত ওই অজ্ঞাত ব্যক্তির পরিচয় ও মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে।

ঝিনাইদহ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘পোস্টমর্টেম রিপোর্ট পেলেই আমরা বলতে পারব যে মৃত্যুর মূল কারণ কী। তদন্তাধীন রয়েছে। আমরা এখনো এটা বলতে পারছি না যে, মরদেহ কীভাবে এসেছে। এটা তদন্ত চলছে। যুক্তরাজ্য প্রবাসী আফগান নাগরিক উনার নাম ওয়াইস মোহাম্মদী, উনি মহেশপুর থানায় এসে দাবি করেন যে ওই মৃতদেহটি তার ভাই হাসপুত মোহাম্মদীর।’

এই ঘটনার ১০ দিন পর, ২৩ এপ্রিল একটি বাহিনীর চাকরীচ্যুত দুই সদস্যের নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি উগ্রবাদী সংগঠনের সাথে যোগাযোগের তথ্য আছে উল্লেখ করে দেশের বিভিন্ন ইউনিটে একটি চিঠি পাঠায় পুলিশ সদর দপ্তর। যেখানে দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোয় জঙ্গি হামলার আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে সতর্কতা ও নিরাপত্তা জোরদারে নির্দেশ দেয়া হয়।

এরই মধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে উগ্রবাদী সন্দেহে ৪ জনকে আটক করে ডিবি পুলিশ। যদিও গ্রেপ্তারকৃতদের সঙ্গে নিষিদ্ধ উগ্রবাদী বা জঙ্গি সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ততা আছে কি না বিষয়টি নিশ্চিত করেনি পুলিশ। এরবাইরেও পুলিশের কাছে প্রশ্ন ছিলো নগরীর নিরাপত্তা নিয়ে।

আরও পড়ুন:

ডিএমপি মুখপাত্র বলেন, ‘সিটিটিসি তদন্ত করছে, সেটি এখনো প্রকাশ করার মতো কিছু আমাকে বলা হয়নি। সন্ত্রাসমূলক ঘটনা যে-ই ঘটানোর চেষ্টা করুক, সেটি উগ্রবাদী সংগঠন হোক অথবা অন্য কোনো যে কোনো সংগঠন হোক, তাদেরকে আমরা চেষ্টা করি তথ্য সংগ্রহ করে এবং তাদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য আমাদের সে চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।’

এদিকে দেশে জঙ্গিবাদী তৎপরতা নিয়ে সরকারের মধ্যেই রয়েছে ভিন্নমত। সম্প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জঙ্গীবাদ শব্দটার স্বীকৃতি দিতে রাজী নন তিনি। বরং ফ্যাসিবাদী আমলে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার হতো বলেই মত তার। তবে, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. জাহেদুর রহমান অবশ্য বলেন, দেশে জঙ্গি থাকলেও, ভয়ের কিছু নেই।

এ ধরনের ঘটনা ও আলোচনার বিবেচনায় জঙ্গী তৎপরতা নিয়ে নিরাপত্তা বিশ্লেষক কর্নেল জগলুল আহসানের কাছে জানতে চাইলে বলেন, দেশে, নিষিদ্ধ সংগঠন বা গোষ্ঠীর তৎপরতা একেবারে উড়িয়ে দেয়া যায় না। ৫ আগস্টের পর আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তাকে কাজে লাগাতে পারে এসব গোষ্ঠী। কেবল বাংলাদেশই অভ্যন্তরই নয়, আঞ্চলিক রাজনীতি অস্থির করতেই অপতৎপরা হতে পারে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক কর্নেল (অব) জগলুল আহসান বলেন, ‘ইন্টারন্যাশনাল ফ্যাক্টর, ডোমেস্টিক ফ্যাক্টর, পলিটিকাল পাওয়ার স্ট্রাগল ফ্যাক্টর, ল অ্যান্ড অর্ডার সিচুয়েশন এবং একটা অভ্যুত্থান পরবর্তী একটা দেশে পাওয়ার চেঞ্জের যে টার্ময়েল—এগুলো একটা ভোলাটাইল সিচুয়েশনের মধ্য দিয়ে তারা ওই জেল পালানো যারা গিয়েছে তারা রিইউনাইট হতে পারে।’

নিষিদ্ধ সংগঠনগুলোর আয়ের উৎস চিহ্নিত করে, সেগুলো বন্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখার তাগিদ দেন এ নিরাপত্তা বিশ্লেষক।

এফএস