ভালো দামের আশায় অপেক্ষায় খামারিরা, সরবরাহ পর্যাপ্ত

খামারি
এখন জনপদে
দেশে এখন
0

দরজায় কড়া নাড়ছে ঈদুল আজহা। শেষ সময়ে কোরবানির পশু নিয়ে প্রস্তুত যশোরের খামারিরা। গরু পালনে খাবারের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় খরচ বেড়েছে। তাই ভালো দামের প্রত্যাশা খামারিদের। অন্যদিকে মৌলভীবাজারে প্রস্তুত করা হয়েছে ৭৪ হাজার ৫৮৪টি পশু। দামও নাগালের মধ্যেই রয়েছে বলে জানান ক্রেতা বিক্রেতারা।

যশোরে শেষ সময়ে ব্যস্ততা বেড়েছে খামারিদের। বিভিন্ন খামারে পালিত শাহীওয়াল, জিদ্দি এবং ফ্রিজিয়ান জাতের গরু নজর কাড়ছে। খামারিদের দাবি, খাদ্যের দাম বেশি তার ওপর পরিচর্যার খরচও বেড়েছে। এ অবস্থায় কাঙ্ক্ষিত দাম না পেলে লোকসানে পড়তে হবে তাদের।

খামারিদের মধ্যে একজন বলেন, ‘দেশি গরু আছে, ফ্রিজিয়ান গরু আছে, ব্ল্যাক বিউটি আছে, শাহিওয়াল আছে। আর আপনার এই দেশি ফ্রিজিয়ানের মধ্যেই একটা আছে ক্রস, জার্সি আছে।’

অন্য একজন বলেন, ‘প্রাকৃতিক খাবার আমরা বেশি খাওয়াই। এতে কোনো ইনজেকশন বা কোনো মোটাতাজাকরণ কোনো ওষুধ আমরা খাওয়াই না।’

প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্য মতে, জেলায় খামারি রয়েছে ১৩ হাজার ৬৪০ জন। এবছর কোরবানির জন্য তারা এক লাখ ৯৭৭টি গবাদি পশু প্রস্তুত করেছেন। বছরজুড়ে খামারিদের নানাভাবে সহযোগিতাও করা হয়েছে।

যশোরের জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডা. মো. সিদ্দীকুর রহমান বলেন, ‘এই যেসব খামারি গরু হৃষ্টপুষ্টকরণ করেছে, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর থেকে তাদেরকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। শুধু প্রশিক্ষণ না, আমরা এসব খামারির বাড়ি বাড়ি যেয়ে দেখতে পেয়েছি সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং প্রাকৃতিক খাবার দিয়েই খামারিটি তার গরু হৃষ্টপুষ্টকরণ করেছে। এই যশোর জেলার চাহিদা মিটিয়েও কিন্তু উদ্বৃত্ত অংশ দেশের বিভিন্ন স্থানে যায়, এই গবাদি পশুর জোগান দিতে।’

আরও পড়ুন:

এদিকে মৌলভীবাজারে এবছর কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে ৭৪ হাজার ৫৮৪টি পশু। খামার এবং হাটগুলোতে গরুসহ অন্যান্য পশু বেচা-কেনা পুরোপুরি জমে উঠেছে। এবার জেলায় আলোচনায় রয়েছে ষাঁড় ‘কালো মানিক’। এক টনেরও বেশি ওজনের কালো মানিকের দাম হাঁকা হচ্ছে আট লাখ টাকা।

খামারি আব্দুল গাফ্ফার বলেন, ‘গরুগুলা সব চলে এইখানে, আপনারা দেখতেছেন আমার খামারের চারদিকে ঘাস আছে। ঘাস এবং খড় আমার নিজস্ব আর দানাদার দিয়েই গরুগুলা লালন-পালন করা হইছে। এগুলোকে অন্য ধরনের মোটাতাজাকরণের জন্য অন্য কোনো ধরনের খাবার দেয়া হয় নাই।’

প্রাণিসম্পদের পক্ষ থেকেও নেয়া হয়েছে ব্যবস্থা। প্রতিটি বাজারে গঠন করা হয়েছে মেডিকেল টিম। এতে ডাক্তারের পাশাপাশি কর্মকর্তারাও কাজ করছেন।

মৌলভীবাজার জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আশরাফুল আলম খান বলেন, ‘এবছর আমাদের চাহিদা ৭১ হাজার ৭৭২টি, আর আমাদের এবছর উৎপাদন হচ্ছে ৭৪ হাজার ৫৮৪টি। আমাদের এবছর ঘাটতি নাই। আমাদের ২ হাজার ৮১২টি উদ্বৃত্ত আছে। আমরা আশা করছি যে এবার কোরবানি তে ক্রেতা এবং বিক্রেতা উভয়েই লাভবান হবেন।’

বাজারে জাল টাকা শনাক্ত ও পশুবাহী যানবাহন নির্বিঘ্নে চলাচলের জন্য পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে নানা পদক্ষেপ।

মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নোবেল চাকমা বলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে আমাদের চেকপোস্ট থাকবে। বিশেষ করে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে যাতে চোরাচালান না হয় ভারত থেকে, সে বিষয়ে আমাদের বিজিবির সঙ্গে সমন্বয় করে আমাদের চেকপোস্টের ব্যবস্থা থাকবে। এছাড়া টহল জোরদার থাকবে আমাদের। বিশেষ করে যে গরুর গাড়িগুলা আসবে, পশুর গাড়িগুলা আসবে, সেগুলোতে যাতে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি না হয়, সে বিষয়ে আমাদের আইজিপি স্যারের সর্বোচ্চ নির্দেশনা আছে এবং সে বিষয়ে আমরা আমাদের এখানে টহল জোরদার রাখবো।’

ভারত থেকে অবৈধভাবে গরু আসা বন্ধ থাকায় পশু পালনের পাশাপাশি ভালো দাম পাওয়ার আশা করছেন খামারিরা।

এসএস