রাজনৈতিক বাস্তবতায় নতুন আলোচনায় তেহরানের সামরিক-কৌশলগত সক্ষমতা

প্রতীকী ছবি
বিদেশে এখন
0

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতে তেহরান কেন একাই লড়ে যাচ্ছে? পশ্চিমা আধিপত্যের বিরুদ্ধে ইরানের লড়াকু ভূমিকা বিশ্বজুড়ে কিছু নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর কাছে বেশ প্রশংসা পেয়েছে। মার্কিন নীতির বিরুদ্ধে তেহরানের সামরিক ও কৌশলগত চ্যালেঞ্জ জানানোর সক্ষমতা আধুনিক যুদ্ধের সংজ্ঞাও বদলে দিয়েছে। তবে আরব দেশগুলোর সঙ্গে তেহরানের পুরনো দ্বন্দ্ব এখনও স্পষ্ট। বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমান ইরানি শাসনব্যবস্থা উপসাগরীয় অঞ্চলের রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে নিজেদের দাবিদাওয়া নিয়ে অনড় ইরান। এখন পর্যন্ত এ অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিয়ে কোনো ইতিবাচক পূর্বাভাস নেই। প্রতিবেশী অনেক মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ ইরানের পক্ষে-বিপক্ষে সরাসরি সংঘাতে না জড়িয়ে সতর্ক বা নিরপেক্ষ অবস্থান বেছে নিয়েছে।

এরকম প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ইরানের প্রতিরোধ ও আপোশহীন নীতি মুসলিম বিশ্বের সাধারণ মানুষের একটি অংশ ইরানীদের বীরের জাতি হিসেবে আখ্যা দিচ্ছে। আবার অনেকেই আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোতে ইরানের ইতিবাচক ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।

ধর্মীয় বিভাজন, রাজনৈতিক ক্ষমতা দখলের লড়াই এবং আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতা নিয়ে ইরানের সঙ্গে আরব দেশগুলোর দ্বন্দ্ব একেবারে প্রকাশ্য।

হুথিদের মতো ইরানি মিত্রদের বিরুদ্ধে আরব দেশগুলোর নিরাপত্তা উদ্বেগ এই দূরত্ব আরও বাড়িয়েছে। ইয়েমেন, ইরাক ও লেবাননসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ইরানের প্রক্সি বা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপর। যা সৌদি আরব ও উপসাগরীয় অঞ্চলের ওপর সরাসরি নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করেছে।

সাধারণ ইরানিরাও মনে করেন, ওমান ও অন্যান্য আরব দেশগুলোকে বিশ্বাসযোগ্য নয়। তাদের অভিযোগ, এই দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে ব্যর্থ। তাই এ যুদ্ধে নিজস্ব পথ বেছে নেবে ইরান। হরমুজের নিয়ন্ত্রণসহ নিজদের ভাগ্য নিজেরাই নির্ধারণ করবে।

আরও পড়ুন:

এমন প্রেক্ষাপটে কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা হরমুজ নিয়ে বিকল্প সমাধান খুঁজতে ওমানের সঙ্গে আলোচনা করছে।

যদিও এসব দেশের এত কূটনীতিক দৌড়ঝাঁপ উপেক্ষা করে ইরান সাফ জানিয়েছে, এখন নৌপথে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে তাদের নির্ধারিত রুট ও নিয়মই মানতে হবে।

তাই আঞ্চলিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার প্রেক্ষাপটে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলের রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বর্তমানে দেশটি এ অঞ্চলের প্রত্যক্ষ ও পদ্ধতিগত হুমকি ছাড়া আর কিছুই নয়। জিসিসির পক্ষ থেকেও একই বার্তা।

উপসাগরীয় দেশগুলোর সামরিক সুরক্ষার প্রধান উৎস যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলো। তাই আমেরিকা ও ইসরাইলবিরোধী বলয়ের নেতৃত্ব হিসেবে আরব দেশগুলোর বিপক্ষে ইরান। এছাড়া হরমুজে ইরানের কড়াকড়ি নিয়ন্ত্রণ এসব দেশের অর্থনীতির জন্য বড় হুমকি।

সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, চলমান সংঘাতে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার উদ্দেশ্যে ইরানের প্রায় ৮৩ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা উপসাগরীয় দেশগুলোকে লক্ষ্য করে চালানো হয়। যার মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত সবচেয়ে বেশিবার লক্ষ্যবস্তু হয়।

তাই অস্বস্তিকর উপসংহারে বিশ্লেষকেরা বলছেন, ইরানকে নিজের ভাগ্য নিজেকেই নির্ধারণ করতে হবে। কোন আরব দেশকে সারথি হিসেবে পাশে পাবে না তেহরান।

এসএইচ