রাজধানীতে জলকপাটগুলোর অচলাবস্থা; নজিরবিহীন জলাবদ্ধতার দায় আসলে কাদের?

রাজধানীতে জলাবদ্ধতার ছবি
দেশে এখন
0

বর্ষা শুরু হতে না হতেই নজিরবিহীন জলাবদ্ধতার কবলে পড়লো রাজধানী ঢাকা। এবার এমন সব এলাকা তলিয়েছে, যেখানে আগে কখনোই পানি জমেনি। কিন্তু শহর জুড়ে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা ড্রেন, কিংবা শহরের পানি বের করতে নির্মাণ করা ৪৪টি জলকপাট, আর হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে বসানো ৭টি পাম্পিং স্টেশন থাকা সত্ত্বেও কেন হলো এমন দশা? গেলো দুই বছরে চলেছে কি ‘ড্রেন-ক্লিন প্রকল্প’? বর্ষা মোকাবিলায় কী পরিকল্পনাই-বা ছিলো নয়া নগর কর্তাদের?

ঢাকার নিচু এলাকায় বর্ষায় জলাবদ্ধতা চিরচেনা বাস্তবতা। এবারের চিত্রটা ছিলো একটু ভিন্ন। শুধু নিচু এলাকাই নয়, রাজধানীর যেসব এলাকায় আগে পানি জমতো না সেসব এলাকাও এবার ডুবেছিল বৃষ্টির পানিতে। প্রশ্ন উঠেছে, ঢাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে কোটি কোটি টাকা খরচের পরও কেন এই বেহাল দশায় পড়তে হলো নগরবাসিকে?

খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, রাজধানীর জমে থাকা পানি নদীতে বের করে দেয়ার জন্য ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৪৪টি স্লুইস গেট আর ৭টি পাম্পিং স্টেশন থাকলেও তা কাজে আসেনি। বছরের পর বছর রক্ষণাবেক্ষণ না করায় স্লুইস গেটগুলোর অধিকাংশই অচল। যেসব সচল সেগুলোর জন্য নেই পর্যাপ্ত জনবল। নজরদারি অভাবে দখলও হয়েছে বেশ কিছু স্লুইস গেট।

স্থানীয়রা মনে করেন, বৃষ্টির সময় স্লুইস গেটগুলো খোলা থাকলে পানি দ্রুত নেমে যেত। এছাড়া অবৈধ দখলের কবলে থাকায় বেশ অনেক বছর যাবৎ স্লুইস গেট এলাকায় যেতে পারেন না বলে দাবি করেন সংশ্লিষ্টরা।

একই অবস্থা পাম্প স্টেশনগুলোরও। পানি সেচে ফেলার অধিকাংশ ভারী পাম্প মেশিনই যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে অকেজো হয়ে পড়ে আছে। এই যেমন, রাজধানীর গোড়ান চটবাড়ি এলাকার পাম্পিং স্টেশন। মোট ৯টি পাম্প দিয়ে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৭০ হাজার লিটার পানি শহর থেকে তুরাগে ঠেলে দেয়ার কথা থাকলেও, বাস্তব সক্ষমতার পরিমান মাত্র ২৫ হাজার লিটার। ৯টি পাম্পিং মেশিনের ৩ টি নষ্ট হয়েছে ২০১৬ সালে, যা আজও অকেজো।

আরও পড়ুন:

এছাড়া নতুন ৬টির মধ্যেও নষ্ট ১টি আর ১টি বন্ধ যান্ত্রিক জটিলতায়। যা এবারের জলাবদ্ধতায় উত্তর সিটির পানি দ্রুত নিষ্কাশন না হওয়ার বড় কারণ। একই দশা ঢাকা দক্ষিন সিটির আওতাধীন কমলাপুর টিটিপাড়া পাম্পিং স্টেশনের। ৩টি আধুনিক পাম্পিং মোটরের নষ্ট দুইটি। আর আগের ৬টি পাম্পের মধ্যে সচল ৪টি, সেটিও অকার্যকর হয়ে পড়েছে পলিথিন বোতল ও বাসা-বাড়ির বর্জ্যের কারণে। এদিকে সূত্রাপুর ও বাড্ডা ও কল্যানপুর এলাকার পাম্পিং স্টেশনের গল্পও একই।

অভিযোগ আছে গেল দুই বছরে ড্রেন পরিস্কার কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে, যা অল্প বৃষ্টিতে শহর তলিয়ে দিতে বড় ভুমিকা রেখেছে। সরকারের নতুন প্রশাসক দায়িত্ব নেয়ার পরও গতি পায়নি কার্যক্রম। প্রশ্ন হলো, বর্ষা মৌসুমের কোনো প্রস্তুতি ছিলো কি দুই সিটি করপোরেশনের?

এ নিয়ে কথা বলতেও রাজি হয়নি ঢাকা উত্তর সিটির দায়িত্বরত কেউই। জানতে চাইলে প্রশাসকও এড়িয়ে যান এখন টেলিভিশনের প্রশ্ন।

তবে দক্ষিণ সিটি প্রশাসক বলছে, স্লুইস গেটের অধিকাংশ নষ্ট ও জনবল সংকটে কার্যক্রম বন্ধ সব কটির। নতুন আউটলেট তৈরি ও অচল পাম্প সচলে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস তার।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান বলেন, ‘আমরা পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে সে স্লুইস গেটগুলো পেয়েছি তার সবগুলোই নষ্ট, একটিও চালু নেই। এগুলো সচল করতে আমরা কনসালট্যান্ট নিয়োগ করেছি। তারা ভিজিট করে আমাদের একটি প্রতিবেদন দিয়েছে। এখন সেগুলো ঠিক করতে হবে।’

এসএইচ