আজ (বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই) দুপুরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে সমসাময়িক বিষয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, ‘দেশের শিক্ষার মান ক্ষুণ্ন হয়—এমন কোনো দাবি বা অপসংস্কৃতিকে প্রশ্রয় দেয়া হবে না। কিছু স্পটে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে জনগণের যে ভোগান্তি হচ্ছে, তার পেছনে সরকারকে বিব্রত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত নির্দিষ্ট কিছু মহলের ইন্ধন রয়েছে। এমনকি আন্দোলনকারীদের মধ্যে অনেকে প্রকৃত পরীক্ষার্থী বা ছাত্র-ছাত্রীও নন।’
তিনি স্পষ্ট করেন যে, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে যেসব শিক্ষার্থী চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের স্থগিত পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি, তাদের জন্য পুনরায় পরীক্ষার সুযোগ রাখা হয়েছে।
এছাড়া পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ের প্রশ্নপত্রের ত্রুটি খতিয়ে দেখতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের যথোপযুক্ত নম্বর (ক্রেডিট) প্রদানের ঘোষণা দেয়া হয়েছে, ফলে প্রকৃত পরীক্ষার্থীরা এ সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট বলেও জানান তিনি।
তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পুলিশ কর্তৃক শিক্ষার্থীদের ওপর বলপ্রয়োগের ছড়ানো ছবি ও ভিডিওগুলোকে ‘ডিসইনফরমেশন’ বা অপপ্রচার হিসেবে অভিহিত করেন।
আরও পড়ুন:
বিদেশে পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনার অগ্রগতি সম্পর্কে মন্ত্রী জানান, ইন্টারপোলের রেড নোটিশের ভিত্তিতে আরব আমিরাতে (ইউএই) একজন এবং ভারতে তিনজনসহ মোট চারজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে ওসমান হাদি হত্যা মামলার আসামিরাও রয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) সরকারের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে মাত্র তিন দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় আইনি নথিপত্র ও ওয়ারেন্টের কপি পাঠানো হয়েছে। ভারতের সাথে বিদ্যমান এক্সট্রাডিশন চুক্তি অনুযায়ী, সে দেশে আটক আসামিদেরও দ্রুত ফেরত আনার প্রক্রিয়া চলছে। স্থানীয় আদালতে বেআইনি অনুপ্রবেশের মামলার কারণে ভারত কিছুটা সময় নিলেও চুক্তি অনুযায়ী মামলা চলমান থাকা অবস্থাতেও আসামিদের প্রত্যর্পণ সম্ভব।’
জুলাই-আগস্ট ছাত্র গণঅভ্যুত্থানের শহিদদের তালিকা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘স্বৈরাচারী সরকার পতনের প্রাক্কালে হাসপাতাল থেকে বহু নথিপত্র গায়েব, চিকিৎসায় বাধা এবং মরদেহ গুম করার কারণে প্রকৃত সংখ্যা নিরূপণে জটিলতা তৈরি হয়েছিলো। জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শহিদের সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ৪০০ বলা হলেও সরকারের ধারণা এ সংখ্যা ২ হাজারের বেশি।’
তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে ডিএনএ টেস্ট ও গণকবর অনুসন্ধানের মাধ্যমে নিখোঁজদের পরিচয় নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া চলছে, যার ফলে নথিবদ্ধ শহিদের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে। বর্তমানে সরকারের পক্ষ থেকে ১৫ হাজারেরও বেশি শহিদ ও আহতদের সুনির্দিষ্ট গেজেট ও তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে এবং আহতদের ক, খ ও গ—এই তিন শ্রেণিতে বিন্যস্ত করে চিকিৎসাসহ অন্যান্য সহায়তা দেয়া হচ্ছে।’
আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচন সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘বর্ষাকালীন আবহাওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করে আগামী সেপ্টেম্বর-অক্টোবর নাগাদ স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর সঙ্গে যৌথ বৈঠকের মাধ্যমে ইউনিয়ন পরিষদসহ স্থানীয় সরকার নির্বাচনের চূড়ান্ত সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে।’
তিনি দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও জনপ্রত্যাশা পূরণে সরকার সম্পূর্ণ সচেতন রয়েছে বলেও জানান।





