পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সরকারের জন্য পাঁচ মাস সময় খুবই কম। সময়ের হিসেবে দীর্ঘ না হলেও গণতান্ত্রিক সরকারের জন্য প্রতিটি ক্ষণই জনগণের প্রতি দায়িত্ব পালনের পরীক্ষা এবং প্রতিটি পদক্ষেপ জবাবদিহিতার চ্যালেঞ্জ ও জনসেবার প্রতিফলন।
দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ভঙ্গুর অর্থনীতি, দুর্বল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মধ্যে বর্তমান সরকার ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণ করে। প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলা করে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে জনগণের প্রতি অঙ্গীকার বাস্তবায়নে মনোযোগ দেয় সরকার। নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এ সরকারের পাঁচ মাসে বেশি মনোযোগ ছিল -ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও খাল খননের মতো কর্মসূচিতে।
সরকারের এসব উদ্যোগকে কার্যকর উল্লেখ করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেন, পাঁচ মাসে বিপুল সংখ্যক জনগোষ্ঠীর মুখে হাসি ফুটিয়েছে সরকার। কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার তার যে কর্মসূচিগুলো, সেই কর্মসূচিগুলো আমরা বাস্তবায়নের যে ডাইমেনশনটা দেখছি, এটা অভূতপূর্ব এক কথায় আমরা বলবো। জনগণের স্বার্থে যে কাজ অগ্রগামী হয়, সে কাজ কখনো পিছিয়ে পড়ে না বা ওটা শ্লথ হয় না। আমি মনে করি যে, সেই কাজগুলো অব্যাহত চলছে এবং এগুলোর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই যে অবজেক্টিভ যেটা, সেই লক্ষ্য পূরণে মানে এটা দারুণভাবে সাফল্য লাভ করবে।’
সরকার নির্বাচনি ইশতেহার দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। এই অল্প সময়ে সরকার যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে তা থেকে বোঝা যায় সরকার সফলতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এমনটাই মন্তব্য করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ডা. সাখাওয়াৎ হোসেন সায়ন্ত।
তিনি বলেন, ‘সরকার দায়িত্ব নিয়েছে এরকম একটা ভঙ্গুর অবস্থায়, কিন্তু তাদের ওপর এক্সপেকটেশন হাই। এই দুইটার সমন্বয় করে চলাটা যেকোনো কারো জন্য খুব দুরূহ। সরকার যতগুলো উদ্যোগ নিয়েছে এখনও পর্যন্ত খুব বড় বড় উদ্যোগ নিয়েছে এবং তারা তাদের কর্মসূচি, তাদের কার্যক্রম চলমান রেখেছে। ফলে এইটা আশা জাগাচ্ছে।’
সরকার চালাতে গিয়ে এই পাঁচমাসে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাব সামলাতে হয়েছে সরকারকে। এরপরও জনগণের স্বস্তির কথা মাথায় রেখে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ানো হয়নি। এই প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন বলেন, অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে অর্থনৈতিক কাঠামো গড়াই সরকারের লক্ষ্য।
আরও পড়ুন:
তিনি বলেন, ‘সারা বিশ্বজুড়ে যখন জ্বালানির দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি হয়েছে, বৈশ্বিক সংকটের কারণে, তখনই কিন্তু জ্বালানির দাম বাংলাদেশে যথেষ্ট নিয়ন্ত্রণে ছিলো। কিছুদিন আগে নতুন সরকারের প্রথম বাজেট প্রণীত হয়েছে। সেখানে আমরা দেখলাম প্রধানমন্ত্রী নিজে দায়িত্ব নিয়ে যে ৬০টির বেশি প্রোডাক্ট ডে-টু-ডে প্রয়োজন হয়, নিত্য নৈমিত্তিক প্রতিটি পণ্যের দ্রব্যমূল্য সীমিত রাখার জন্য সেখানে ট্যাক্সের প্রোভিশন কমিয়েছেন। জনগণের দীর্ঘদিনের যে জনজীবনে প্রত্যাশিত বিষয়গুলো ছিলো, প্রায় প্রত্যেকটাই কিন্তু নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির আলোকে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সরকার প্রতিপালন করে চলেছে।’
বিনিয়োগ বাড়াতেও সরকারের গুরুত্ব রয়েছে। চীন ও মালয়েশিয়া সফরেও জনগণের স্বার্থ, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে প্রাধান্য দিয়ে বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান, শিক্ষা-স্বাস্থ্য-ট্যুরিজম বিষয়ে শীর্ষ স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্ণধারদের সঙ্গে আলোচনা করেছে সরকার।
তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী প্রথম বিদেশ সফরের ভেতরে, আমরা দেখেছি মালয়েশিয়াতে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে এবং চীনে গিয়েছেন। এবং প্রতিটা ক্ষেত্রে তিনি বাংলাদেশের স্বার্থ, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব সেটিকে প্রাধান্য দিয়েই কিন্তু দ্বিপাক্ষিক এবং বহুপাক্ষিক বিভিন্ন পর্যায়ে যুক্ত হয়েছেন। বাংলাদেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে উনি নিশ্চিত করেছেন জনগণের যে অভিপ্রায়, সেটি যেন প্রস্ফুটিত হয়। আমরা এমন একটি ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে চাই যেখানে আমাদের যে বিশাল ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড রয়েছে, তরুণ প্রজন্ম, তাদের যে স্বপ্ন রয়েছে, তাদের যে লক্ষ্য রয়েছে, তাদের জীবনে যে ভিশন রয়েছে, সেটাকে যেন সরকার তার পলিসির মাধ্যমে বাস্তবায়ন করাতে পারে।’
এই সরকারের পাঁচ মাসের কর্মসূচি থেকে বোঝা যায় সামনের দিনগুলোতে সফলতার সঙ্গে এগিয়ে যাবে এই সরকার। এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।





