২৯ অ্যাকাউন্টে আ.লীগের পক্ষে এআই দিয়ে ভুয়া খবর তৈরি করতো গাইবান্ধার এক ব্যক্তি: অ্যানথ্রোপিক

আওয়ামী লীগ ও অ্যানথ্রোপিক লোগো
দেশে এখন
0

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রায় ১৬ মাস ধরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পক্ষে প্রচার এবং বিরোধীদলগুলোর বিরুদ্ধে ধারাবাহিক ভুয়া খবর ছড়িয়েছেন গাইবান্ধার এক ব্যক্তি। মার্কিন এআই গবেষণাপ্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিক তাদের সাম্প্রতিক এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য উন্মোচন করেছে।

ডিটেকটিং অ্যান্ড কাউন্টারিং মিসইউজ অব এআই শীর্ষক ১৫৪ পৃষ্ঠার ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, অপপ্রচারে যুক্ত ব্যক্তি অ্যানথ্রোপিকের তৈরি এআই চ্যাটবট ক্লাউডের ২৯টি অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে এই কার্যক্রম পরিচালনা করতেন। একটি নির্দিষ্ট প্রোগ্রামিং কোড ব্যবহার করে তিনি অন্তত ৩০০টি সম্পূর্ণ মনগড়া খবর, ১ হাজার ৫০০টি ভুয়া শিরোনাম এবং ১ হাজার ৫০০টি ছবির প্রম্পট তৈরি করেন। ক্লাউড সরাসরি ছবি তৈরি করতে পারে না বলে সেই প্রম্পটগুলো দিয়ে অন্য এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ছবি বানানো হতো।

এসব মনগড়া বিষয়বস্তু দিয়ে ভিডিও তৈরি করে ফেসবুক লাইভ, ইউটিউব ও টিকটকের মাধ্যমে ছড়ানো হতো। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার কম শিক্ষিত মানুষ ও প্রবাসীদের লক্ষ্য করে এসব অপপ্রচার চালানো হতো। ওই ব্যক্তির গোপন নথি থেকে জানা যায়, সংবাদের বার্তাগুলো বেশ উত্তপ্ত ও আক্রমণাত্মক ভাষায় লেখা হতো যেন সাধারণ মানুষ এগুলোকে আসল খবর বলে বিশ্বাস করে। তিনি নিজের নোটে লিখেছিলেন, ‘এই খবর যে ভুয়া তা কেউ জানে না।’

প্রচারিত এসব ভুয়া সংবাদের মূল লক্ষ্য ছিল বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক কমিটির মতো রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের আক্রমণ করা। মনগড়া সংবাদে দাবি করা হতো, বিরোধী দলগুলো দেশে তালেবানি শাসন কায়েম করার চেষ্টা করছে এবং নিরাপত্তা বাহিনীতে নিজেদের লোক ঢোকাচ্ছে। এছাড়া তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বশীল ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের বিরুদ্ধে ভুয়া হত্যাচেষ্টার গল্প, দুর্নীতির মিথ্যা অভিযোগ এবং তাদের বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার এজেন্ট হিসেবে দেখানোর অপচেষ্টা করা হতো।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, অপপ্রচারে ছড়ানো কিছু বার্তা ভারতের ভূরাজনৈতিক স্বার্থের সঙ্গে মিলে যায়। তবে এতে ভারতের বা কোনো রাষ্ট্রের সরাসরি সম্পৃক্ততা, অর্থায়ন বা নির্দেশনার প্রমাণ মেলেনি। অ্যানথ্রোপিক জানায়, তৎকালীন সময়ে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় না থাকায় কোনো সরকারের হয়ে নয়, বরং বিরোধী একটি রাজনৈতিক দলের স্বার্থে এ কার্যক্রম চালানো হয়েছিল।

অ্যানথ্রোপিক অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধানের মাধ্যমে অপপ্রচারে ব্যবহৃত তাদের ক্লাউডের হাইকু, সনেট ও ওপাস মডেলের অ্যাকাউন্টগুলো চিহ্নিত করে তা বন্ধ করে দিয়েছে। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্ল্যাটফর্মগুলোতেও এ-সংক্রান্ত তথ্য পৌঁছে দেয়া হয়েছে।

—দ্য প্রিন্টের প্রতিবেদনে অবলম্বনে

এএম