জুয়েলারি ব্যবসায় মন্দাভাব, কমছে স্বর্ণ ক্রয়ের চাহিদা

স্বর্ণের বাজার
বাজার , স্বর্ণের বাজার
দেশে এখন
0

স্বর্ণের বাজারে আকাশছোঁয়া দামে সোনালি স্বপ্ন ফিকে হয়ে আসছে মধ্যবিত্তের। বিক্রেতারা বলছেন, অলংকার বাজার থেকে হারিয়ে যাচ্ছে ক্রেতা। এতে জুয়েলারি ব্যবসায় দেখা দিয়েছে মন্দাভাব। অনেকেই নতুনের বদলে পুরানো গয়না ভেঙে রূপান্তর করে চাহিদা পূরণ করছেন। বিয়েসহ অন্যান্য সামাজিক অনুষ্ঠানের উপহার ছাড়া নতুন গহনার চাহিদা নেই একেবারেই।

ভালো মানের প্রতি ভরি স্বর্ণের বর্তমান বাজার মূল্য ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকার বেশি। স্বর্ণের মূল্যবৃদ্ধিতে ভূরাজনীতি, ডলারের বিনিময় হার ও লাগামহীন মূল্যস্ফীতির বড় ভূমিকা রয়েছে। যে কারণে গত একযুগে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তদের জন্য স্বর্ণ বিলাসী পণ্যে পরিণত হয়েছে। একই কারণে ম্লান হয়েছে নারীর আবেগ, বিয়ে-শাদীতেও কমেছে এর ব্যবহার।

এক সময় স্বর্ণ স্থানীয় সংস্কৃতি ও পারিবারিক ঐতিহ্যের স্মারক ছিলো। এমনকি সংকটে স্বর্ণ দিয়েছে নিরাপত্তা ও ভরসা। কিন্তু দুর্মূল্যের কারণে পাল্টে গেছে সে চিত্র।

বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি-বাজুস এর তথ্য বলছে, বিশ্ব বাজারে অস্থিরতার কারণে ২০০৯ সালের পর থেকে বাড়তে থাকে স্বর্ণের দাম। সে সময় প্রতি ভরি স্বর্ণের মূল্য ছিল ৫৯ হাজার ৮৭১ টাকার কাছাকাছি, ১৭ বছরের ব্যবধানে সেই স্বর্ণের দর বৃদ্ধি পেয়েছে হয়েছে চার গুণ।

ক্যাবের সহ-সভাপতি বলছেন, স্বর্ণের দাম নাগালের বাইরে চলে যাওয়ায় সামাজিক অনুষ্ঠানের জন্য সাধারণ মানুষের নতুন গয়না কেনার বদলে পুরোনো গয়না রূপান্তর করে চাহিদা পূরণ করছে।

আমদানি শুল্ক ও অন্যান্য আইনি জটিলতা সংকটকে আরো ঘনীভূত করেছে বলে মনে করেন জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা। আগের তুলনায় ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ বেচাকেনা কমেছে বলে জানান তারা। জানান, স্বর্ণের বাজারে রীতিমতো চলছে মন্দাভাব।

দেশে স্বর্ণের বার্ষিক চাহিদা ২০ থেকে ৪০ টন। এর মধ্যে ১০ শতাংশ পুরোনো অলংকার থেকে পূরণ হয়। বাকিটা ব্যাগেজ রুলের আওতায় বিদেশ থেকে দেশে আসে।

এসএইচ