আজ (বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর) এখন টেলিভিশনের স্পোর্টসবিষয়ক নিয়মিত অনুষ্ঠানে ‘এখন মাঠে’ অতিথি ছিলেন আসিফ মাহমুদ। সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন তিনি। এসময় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচন, বিপিএল, ফিক্সিং, ক্রীড়াঙ্গনে রাজনৈতিক প্রভাব এবং তার সময়ের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে কথা বলেন তিনি।
সাক্ষাৎকারের চুম্বক অংশ পাঠকদের উদ্দেশে দেয়া হলো,—
এখন টিভি: আপনি যখন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিয়েছিলেন, তখন সংস্কার ও পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছিল। কী কী করতে চেয়েছিলেন এবং কতটুকু করতে পেরেছেন?
আসিফ মাহমুদ: স্পোর্টসে আমাদের লক্ষ্য খুব স্পষ্ট ছিল। আমরা মূলত দুটি বিষয় করতে চেয়েছিলাম। একটি হলো স্পোর্টসকে রাজনীতি থেকে আলাদা করা, আরেকটি হলো বিকেন্দ্রীকরণ। আওয়ামী লীগের সময় স্পোর্টসে রাজনীতি ঢোকার কী ফল হয়েছে, আমরা তা দেখেছি।
আমাদের সময়ে বিসিবি, বাফুফেসহ বিভিন্ন কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে অনেক রাজনৈতিক চাপ ছিল। তারপরও অনেকের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হলেও আমরা ক্রীড়াঙ্গনকে রাজনীতির বাইরে রাখার চেষ্টা করেছি।
রাজনৈতিক দলগুলোও বারবার বলে, তারা স্পোর্টসে রাজনীতি আনবে না। গণঅভ্যুত্থানের পর বিএনপির মহাসচিব (তৎকালীন), বর্তমানে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছ থেকেও আমরা এটি শুনেছি। বর্তমান প্রধানমন্ত্রীও বারবার বলেছেন। কিন্তু ক্ষমতায় গেলে আসলে কেউ এই কথা রাখে না।
এখন টিভি: আপনারা কি সেটা রাখতে পেরেছিলেন?
আসিফ মাহমুদ: আমাদের সময়ে প্রথমবারের মতো দুজন সাবেক অধিনায়ক বিসিবির সভাপতি হয়েছেন। বাংলাদেশের ক্রিকেটের প্রায় ৫০ বছরের ইতিহাসে এটি প্রথম। আমরা যে নির্বাচন করেছি, সেখানে যারা এসেছেন, তাদের মধ্যে কয়জনের রাজনৈতিক পরিচয় ছিল?
কিন্তু আজ বিসিবিতে ২৫ জনের মধ্যে রাজনৈতিক পরিচয় ছাড়া চার-পাঁচজনকেও খুঁজে পাওয়া কঠিন। পরিবর্তনের ফল পেতে সময় লাগে। অরাজনৈতিক ও বিশেষজ্ঞদের নিয়ে আসলে তাদের কাজের ফলাফল দেখার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় দিতে হয়। প্রথম দিন থেকেই তো পরিবর্তনের ফল পাওয়া সম্ভব নয়।
কিন্তু সেই সময় তাদের দেয়া হয়নি। ওই বোর্ড অবৈধভাবে ভেঙে দিয়ে আবার আরেকটি বোর্ড করা হয়েছে। আমরা দেখেছি, সেখানে স্পোর্টসের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই—শুধু বাবা মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী, এমন পরিচয়ে অনেকে পরিচালক হয়েছেন এবং গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ সামলাচ্ছেন। অর্থাৎ, আমরা যে জায়গা থেকে স্পোর্টসকে রাজনীতিমুক্ত করেছিলাম, আবার সেখানেই রাজনীতি ঢুকেছে।
‘বিপিএল না করার চিন্তা ছিল, খেলোয়াড়দের স্বার্থে করতে হয়েছে’
এখন টিভি: বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ (বিপিএল) আপনারা ঠিকঠাক করতে পেরেছিলেন?
আসিফ মাহমুদ: এবার বিসিবি বিপিএল করতে পারছে না। গতবার এবং তার আগেরবারও বিপিএল আয়োজনের সময় আমাদের মনে হয়েছিল, হয়তো একটি বিপিএল না করে পরবর্তী বিপিএল আরও ভালোভাবে আয়োজনের প্রস্তুতি নেয়া যায়।
কিন্তু তখন খেলোয়াড়দের একটা আকুতি ছিল। তারা সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন। বর্তমান বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল তখন খেলোয়াড়দের সঙ্গে নিয়ে বোর্ড সভাপতির কাছে গিয়েছিলেন। খেলোয়াড়রা বলেছিলেন, ‘এটা আমাদের রুটি-রুজির বিষয়, বিপিএল করতে হবে।’
খেলোয়াড়দের কথা চিন্তা করেই তখন বিপিএল আয়োজন করতে হয়েছিল। এখন যাদের চাপে বিপিএল করতে হয়েছিল, তারাই বলছেন বিপিএলে লোকসান হয়েছে, এখন তারা বিপিএল করতে পারবেন না। এ ধরনের দ্বৈত অবস্থান স্পোর্টসে দেখা যাচ্ছে।
বিপিএলে ছয়-সাতটি দলে অন্তত ১৫০ জনের বেশি খেলোয়াড় অংশ নেন। এর সঙ্গে আরও অনেক মানুষের কর্মসংস্থান জড়িত। সবাই তো মুখপাত্র নন, সবাই সামনে এসে কথা বলেন না। দু-চারজন কথা বললেই সেটিকে সব খেলোয়াড়ের মতামত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। অধিকাংশ খেলোয়াড়ের জন্য বিপিএল বন্ধ হওয়া বড় ধরনের ক্ষতি।
‘স্বল্প সময়ে বিপিএল আয়োজন করায় সমস্যাগুলো হয়েছিল’
এখন টিভি: আপনারা যে বিপিএল আয়োজন করেছিলেন, সেখানে তো পারিশ্রমিক বকেয়া, হোটেল পরিবর্তন, ম্যাচ না খেলা, ফিক্সিংয়ের অভিযোগসহ নানা বিতর্ক হয়েছিল।
আসিফ মাহমুদ: বাংলাদেশে খুব কম বিপিএলই ঠিকঠাকভাবে আয়োজন করা সম্ভব হয়েছে। ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ বাংলাদেশে এখনো ভালোভাবে বিকশিত হয়নি।
বিশেষ করে আমাদের সময়ের বিপিএল আয়োজনের জন্য খুব কম সময় পাওয়া গিয়েছিল। গণঅভ্যুত্থানের পর নতুন সরকার ও নতুন বোর্ড দায়িত্ব নেয়ার দুই-তিন মাসের মধ্যে বিপিএল আয়োজন করা স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে খুবই চ্যালেঞ্জিং।
এর মধ্যে রাজনৈতিকভাবে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি ফ্র্যাঞ্চাইজি দলের মালিক দেশ ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন। আমরা তাদের পাইনি। ফলে তিন মাসের মধ্যে নতুন দল ও নতুন ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিপিএল আয়োজন করতে হয়েছিল। এ কারণেই কিছু সমস্যা হয়েছিল।
পরবর্তী বিপিএলে এসব সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছে। ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর কাছ থেকে টাকা রেখে দেয়ার ব্যবস্থাও করা হয়েছিল, যাতে খেলোয়াড়দের বেতনসহ অন্যান্য পাওনা পরিশোধ করা যায়। প্রথম বিপিএলে কয়েকজন বিদেশি খেলোয়াড়কে পারিশ্রমিক না দেয়ায় বাংলাদেশের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন হয়েছিল।
‘ফিক্সিংয়ের বিষয়ে আমরা জিরো টলারেন্সে ছিলাম’
এখন টিভি: ফিক্সিংয়ের অভিযোগের বিষয়ে কী বলবেন? সম্প্রতি যাদের নাম এসেছে, তাদের মধ্যে আপনাদের দলের একজনের নামও রয়েছে।
আসিফ মাহমুদ: ফিক্সিংয়ের ব্যাপারে আমরা শুরু থেকেই খুব কঠোর ছিলাম। যে তদন্ত প্রতিবেদনে নাম এসেছে, সেটি সাম্প্রতিক সময়ে করা হয়নি। আমাদের সরকার এবং সর্বশেষ যে বোর্ড ছিল, তাদের সময়েই তদন্ত হয়েছে।
আমাদের দলের অঙ্গসংগঠনের একজনের নাম এসেছে। তবে তার নাম আসার আগেই, প্রায় এক মাস আগে তাকে দল থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছিল। এখন তিনি আমাদের সঙ্গে নেই।
ফিক্সিংয়ের বিষয়ে নিয়মিত রিপোর্ট হয়। কিন্তু কারা জড়িত, তা অনেক সময় প্রকাশ্যে আসে না এবং ব্যবস্থাও নেয়া হয় না। যে পরিচালকের বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে, তার বিরুদ্ধেও আগের বোর্ড ব্যবস্থা নিয়েছিল এবং পরবর্তী বোর্ড তাকে নিষিদ্ধ করেছে। এ বিষয়ে আমাদের অবস্থান জিরো টলারেন্স।
‘অভিযোগ ওঠার আগেই তিনি দল থেকে অব্যাহতি পেয়েছিলেন’
এখন টিভি: যার বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে, তিনি বিসিবিতে ঢুকলেন কীভাবে? আপনারা তো ক্রীড়াঙ্গনকে রাজনীতিমুক্ত করার কথা বলেছিলেন।
আসিফ মাহমুদ: আমি তাকে ব্যক্তিগতভাবে চিনি না। অভিযোগ আসার পর খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি, তিনি আমাদের যুবশক্তির একজন কেন্দ্রীয় নেতা ছিলেন। সম্ভবত জেলা পর্যায়ে স্পোর্টস কমিটি গঠনের সময় ওই কমিটির মাধ্যমে ডিসির পক্ষ থেকে ছাত্র প্রতিনিধি হিসেবে তিনি এসেছিলেন।
তবে তিনি আমাদের দল থেকে প্রায় এক-দেড় মাস আগেই অব্যাহতি পেয়েছেন। যুবশক্তির পক্ষ থেকেও বিষয়টি জানানো হয়েছিল। কিন্তু গণমাধ্যমে সেটি সেভাবে আসেনি। এক মাস পরও তাকে আমাদের নেতা হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে, যদিও তিনি এখন আর দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নন।
‘নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় কাউকে ঠেকানোর সুযোগ সরকারের নেই’
এখন টিভি: আপনার সময়ে বিসিবিতে যারা এসেছিলেন, তাদের অধিকাংশের রাজনৈতিক পরিচয় ছিল না। কিন্তু তাদের ক্রিকেটীয় বা সংগঠক হিসেবে পরিচয় কতটা ছিল?
আসিফ মাহমুদ: এখানে একটি বিষয় হচ্ছে, নির্বাচনের মাধ্যমে যারা কাউন্সিলরদের ম্যান্ডেট নিয়ে এসেছেন, তারাই নির্বাচিত হয়েছেন। আমাদের নীতিগত অবস্থান ছিল, রাজনৈতিক পরিচয়ের কাউকে আমরা উৎসাহিত করব না। কিন্তু নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় কে ভোট পেয়ে আসবেন, সেটা তো সরকারের হাতে নেই।
ক্লাবের মাধ্যমে কেউ নির্বাচিত হলে এবং তার রাজনৈতিক পরিচয় থাকলেও তাকে সরিয়ে দেয়ার সুযোগ নেই। আমরা নীতিগতভাবে যতটা সম্ভব ক্রীড়াঙ্গনকে রাজনীতিমুক্ত রাখার চেষ্টা করেছি।
বিশেষ করে বোর্ডের সভাপতি যাতে রাজনৈতিকভাবে সংশ্লিষ্ট না হন, সেটি আমরা গুরুত্ব দিয়েছি। আমাদের সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে সংশ্লিষ্ট অনেকেরই বিসিবিতে আসার আগ্রহ ছিল। কিন্তু তাদের আমরা নিরুৎসাহিত করেছি।
‘বিসিবির কাউন্সিলর নির্বাচনের বর্তমান প্রক্রিয়া অবৈধ’
এখন টিভি: কাউন্সিলর নির্বাচন-প্রক্রিয়াটি কি ঠিক ছিল?
আসিফ মাহমুদ: বিসিবির সংবিধানে বলা আছে, জেলা ক্রীড়া সংস্থার প্রতিনিধি কাউন্সিলর হবেন। গত ৪০ বছর ধরে এই সংবিধান কেউ মানেনি। আওয়ামী লীগের সময় জেলা সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদকরা বিসিবির কাউন্সিলর হয়েছেন।
আমরা যখন সংবিধান অনুযায়ী কাউন্সিলর পাঠানোর কথা বললাম, তখন ডিসিরাও বিষয়টি বুঝতে পারেননি। তারা আগের চর্চা অনুযায়ী স্থানীয় বিএনপি নেতাদের নাম পাঠিয়েছিলেন। পরে বিসিবি থেকে চিঠি দিয়ে সংবিধান অনুযায়ী কাউন্সিলর পাঠাতে বলা হয়।
বিসিবি আমাদের সহযোগিতা চেয়েছিল। পরে আমি মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে বিষয়টি জানাই। তিনিও চিঠি দেন, যাতে জেলা ক্রীড়া সংস্থা থেকে সংবিধান অনুযায়ী প্রতিনিধি পাঠানো হয়।
কিন্তু সর্বশেষ নির্বাচনেও এই নিয়ম মানা হয়নি। আমার মতে, পুরো প্রক্রিয়াটিই অবৈধ। কেউ আদালতে চ্যালেঞ্জ করলে বিসিবির সংবিধানের ব্যাখ্যা অনুযায়ী এটি অবৈধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
‘১৫ ক্লাবকে ক্রিকেটের ইকোসিস্টেম থেকে বাদ দেয়া উচিত’
এখন টিভি: আপনার সময়ে যে নির্বাচন হয়েছিল, সেটি কতটা সুষ্ঠু ছিল?
আসিফ মাহমুদ: ওই নির্বাচনের সময় দুটি বিষয়ে তারা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন এবং উচ্চ আদালতেও নির্বাচনের পক্ষেই রায় হয়েছে।
একটি অভিযোগ ছিল কাউন্সিলর নিয়ে। কিন্তু কাউন্সিলর নির্বাচনের বিষয়টি বিসিবির সংবিধানেই আছে। আরেকটি অভিযোগ ছিল ১৫টি ক্লাব নিয়ে।
এই ১৫টি ক্লাবের অনিয়ম নিয়ে রিপোর্ট হয়েছে, তদন্ত হয়েছে, দুদকও তদন্ত করেছে। বিষয়টি যদি আমার হাতে থাকত, আমি কখনোই ওই ১৫টি ক্লাবকে ভোট দেয়ার সুযোগ দিতাম না। আদালত প্রথমে তাদের ভোটের অধিকার বাতিল করেছিল, পরে আবার রায়ে ভোট দেয়ার সুযোগ দিয়েছে।
আমার ব্যক্তিগত মত হলো, তাদের বাংলাদেশের ক্রিকেটের ইকোসিস্টেম থেকে পুরোপুরি বাদ দেয়া দরকার ছিল।
‘ই-ভোটিং নির্বাচনেরই একটি প্রক্রিয়া’
এখন টিভি: বিসিবি নির্বাচনে ই-ভোটিং কেন হয়েছিল? অভিযোগ রয়েছে, নির্বাচনের আগের রাতেই বেশিরভাগ ভোট হয়ে গিয়েছিল।
আসিফ মাহমুদ: ই-ভোটিং তো ভোট দেয়ারই একটি প্রক্রিয়া। যারা তখন ই-ভোটিং নিয়ে সমালোচনা করেছিলেন, তারাই এবার কেন ই-ভোটিং করলেন?
ই-ভোটিংয়ের মাধ্যমে আগের রাতেই নিশ্চিত করা হয়েছিল, কাউন্সিলররা তাদের প্যানেল অনুযায়ী ভোট দিচ্ছেন। যারা ই-ভোটিংয়ের বিরুদ্ধে এত কথা বলেছেন, তারাই আবার ই-ভোটিংয়ের মাধ্যমে নির্বাচন করেছেন।
তবে আমার মনে হয়, ই-ভোটিংয়ে কারা ভোট দিতে পারবেন, তার একটা সীমা থাকা উচিত। কারণ ক্লাবগুলো অনেক সময় ক্লাস্টার হিসেবে কাজ করে। একজন বা দু-তিনজন মিলে একাধিক ক্লাব নিয়ন্ত্রণ করেন। তারা নিশ্চিত হতে চান, তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন ক্লাবের কাউন্সিলর তাদের পছন্দের প্যানেলকে ভোট দিচ্ছেন কি না। এ কারণেই ই-ভোটিংয়ের প্রতি ক্লাব সংগঠকদের আগ্রহ থাকে।
‘আমার সহকারীরা বিসিবিতে গিয়ে খবরদারি করেনি’
এখন টিভি: অভিযোগ আছে, আপনার ব্যক্তিগত সহকারীরা বিসিবি নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করেছিলেন।
আসিফ মাহমুদ: মুখের কথার ভিত্তিতে অনেক অভিযোগ করা হয়। দুঃখজনকভাবে ক্রীড়া ও ক্রিকেটের ইকোসিস্টেমে কিছু ফ্রিল্যান্সার রয়েছেন, যারা কোনো তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই যখন যার বিরুদ্ধে ইচ্ছা অভিযোগ করেন।
আপনি এখন দেখছেন, খেলা চলাকালে বর্তমান ক্রীড়াপ্রতিমন্ত্রীর এপিএস মাঠে গিয়ে কখনো ব্যাটিং বা বোলিং শেখাচ্ছেন। আমার কোনো সহকারীকে কি আপনি আমার উপস্থিতি ছাড়া বিসিবিতে গিয়ে খবরদারি করতে বা প্রভাব বিস্তার করতে দেখেছেন?
আমি যখন মিরপুরে গিয়েছি, তখন হয়তো আমার সঙ্গে কেউ গেছেন। এর বাইরে আমার কোনো সহকারী সেখানে গিয়ে কোনো ধরনের প্রভাব বিস্তার করেনি।
বর্তমানে আমরা শুনছি, ক্রীড়াপ্রতিমন্ত্রীর এপিএসের দায়িত্বই হচ্ছে বিসিবি-সংক্রান্ত বিষয় দেখা। খেলা চলাকালে তাকে মাঠে পরিচালক ও সভাপতির সঙ্গে দেখা যায়। এ ধরনের চর্চা আমার সময়ে ছিল না।
কিছু ফ্রিল্যান্সার সাংবাদিক বর্তমান বিসিবির দায়িত্বশীলদের সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে কাজ করেছেন। তারাই নানা ধরনের বক্তব্য দিয়ে বিষয়টিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করছেন।
এখন টিভি: আপনাকে ধন্যবাদ।
আসিফ মাহমুদ: ধন্যবাদ আমাকে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য।
—অনুলিখন নাজমুল হোসেন




