এনসিএলে খেলোয়াড়দের মূল্যায়ন, দেশি কোচদের নিয়ে বিসিবির ভাবনা কতদূর?

রাজিন সালেহ ও সিরাজউদ্দিন আলমগীর
ক্রিকেট
এখন মাঠে
0

আভিজাত্য আর আধুনিকতার মোড়কে এনসিএলের শুরু হলেও ঘরোয়া ক্রিকেটে কোচদের গল্পটা এখনও বিবর্ণ। খেলোয়াড়দের ম্যাচ ফি বাড়িয়ে এনসিএল আর ঘরোয়া ক্রিকেট মৌসুমের উদ্বোধন ঘটেছে। তবে, মাঠের গুরুদের জন্য আসেনি নতুন ঘোষণা। দেশি কোচদের এখন পর্যন্ত যথাযথ মূল্যায়ন করতে পারছে কি না বিসিবি, সেটাও এখন এক প্রশ্ন।

নতুন ম্যাচ ফি কাঠামো আর নতুন সরঞ্জাম. এনসিএলে কিছুটা নতুন রঙ লাগিয়েই শুরু হয়েছে মাঠের খেলা। কিন্তু ক্রিকেটাররা যখন মাঠে পেয়েছেন নতুনত্বের স্বাদ, তখন কোচদের জন্য স্ক্রিপ্টটা পুরাতনই রয়ে গেছে।

একদিকে বিপিএল বন্ধ, তাই ডাগআউটে বিদেশি ক্রিকেটার-কোচদের সঙ্গে কাজ করা কিংবা অভিজ্ঞতা ভাগ করার সুযোগটা আর নেই। অন্যদিকে ক্রিকেটারদের জন্য নতুন বেতনের ঘোষণা এলেও কোচদের জন্য আসেনি তেমন কিছু। বিসিবির প্রতি উচ্চাশা ছাড়া তাই অন্য কোনো পথ খোলা নেই কোচদের জন্য।

সিলেট বিভাগের কোচ রাজিন সালেহ বলেন, ‘ক্রিকেট বোর্ড প্লেয়ারদের প্রতি অনেক ফোকাসড। তাদের বেতন, ম্যাচ ফি বাড়ানোতে। আমি আশা করবো যে সাথে সাথে কোচদের নিয়ে ওনারা চিন্তাভাবনা করছেন। কোচদের ফাইন্যান্সিয়াল সাপোর্টের বিষয়টিও তাদের দেখা উচিত। কারণ দিনশেষে ফ্যামিলি চালানোর জন্য কোচের ফাইন্যান্সিয়াল সাপোর্ট প্রয়োজন।’

সাবেক ক্রিকেটার ও ২০০৮ সালে বিসিবির অন্তর্বর্তী কমিটির পরিচালক ইশতিয়াক আহমেদ মনে করেন, ঘরোয়া ক্রিকেটের কোচরা অবমূল্যায়নের শিকার। দেশি কোচদের জন্য সুবিধা আরও বৃদ্ধি পাওয়া দরকার বলেই অভিমত তার।

ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, ‘কোচরা বেশ নেগলেক্টেড। সেই সঙ্গে কোচদের স্ট্যাটাস, সুযোগ সুবিধা ও মান এলিভেট করা উচিত বলে আমি মনে করি। কারণ বাংলাদেশের কোচ এমন হওয়া উচিত যেন তারা বিদেশে নিয়োগ পায়। আমাদের কোচদের তৈরি করতে হবে। আর অবশ্যই স্যালারির দিক দিয়ে তারা অনেক পিছিয়ে আছে।’

অবশ্য ঘরোয়া ক্রিকেটের প্রথম সারির কোচদের বেতন বাড়ানোর দিকে নজর আছে বিসিবিরও। এখন টিভিকে বিসিবি টুর্নামেন্ট কমিটি প্রধান সিরাজউদ্দিন আলমগীর বললেন, সবকিছুই আছে বিসিবির পরিকল্পনার খাতায়।

তিনি বলেন, আমরা শুধু প্লেয়ারদের স্যালারিই বাড়াচ্ছি না। আ মাদের পরিকল্পনায় একটা ক্রিকেট টিমের সঙ্গে সম্পৃক্ত আম্পায়ারস, স্কোরার, ফিটনেস কোচ, ট্রেইনার, গ্রাউন্ডসম্যান আছেন। সবার স্যালারি বাড়ানোর জন্য আমাদের প্রেসিডেন্ট কমিটি করেছেন।’

নতুন ঘোষণার অপেক্ষা নিয়ে এনসিএলের ড্রেসিংরুমে পা রেখেছেন কোচরা। নতুন সংযোজন ডি থ্রি টুর্নামেন্টের আগে বিসিবি প্রত্যাশিত সেই সুখবর কোচদের জন্য দেবে কিনা, সেটাই দেখার বিষয়।

এএইচ