বাতাসে এখন সাম্বার চড়া সুর, আর রিও ডি জেনিরোর আকাশে ডানা মেলছে কোটি ভক্তের হেক্সার স্বপ্ন! ২০২৬ বিশ্বকাপের সোনালী ট্রফিটা এবার ঘরে তুলতেই হবে—এই জেদ নিয়ে আজ থেকে শুরু হলো ব্রাজিলের চূড়ান্ত রণপ্রস্তুতি। রোববারের মারাকানায় পানামা বধের ছক আঁকতে তেরেদোপোলিসের বিখ্যাত ‘গ্রানজা কোমারি’ এখন সাধারণ কোনো ক্যাম্প নয়, এ যেন এক আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্র!
মঙ্গলবার শেষ বিকেলেই যখন টিম ডিরেক্টর আর কোচিং স্টাফরা ক্যাম্পে পৌঁছান, তখন স্কোয়াডের বাকিদের দেখা না মিললেও ক্যাসিমেরো সবার আগে। এরপরে একে একে আসতে থাকেন বাকি খেলোয়াড়েরা। ক্যাম্পে পা রেখেই মাস্টারমাইন্ড কার্লো আনচেলত্তি এবং কো-অর্ডিনেটর রদ্রিগো কায়েতানো ফুটবলারদের দিয়েছেন কঠিন মেডিকেল ও ফিজিক্যাল টেস্ট।
আরও পড়ুন:
তবে সব আলো কেড়ে নিয়েছেন দলের পোস্টার বয় নেইমার জুনিয়র। ক্যাম্পে যোগ দেওয়ার আগে তার চোট আর ফিটনেস নিয়ে ফুটবল পাড়ায় চলছিল তুমুল গুঞ্জন, জেগেছিলো হাজারো শঙ্কা। কিন্তু সব জল্পনা-কল্পনা এক ফুঁতে উড়িয়ে দিয়ে নেইমার নিজেই আশ্বস্ত করেছেন—তিনি সম্পূর্ণ ফিট।
রিওর চেনা ট্রাফিক জ্যাম যেন ফুটবলারদের ক্লান্তি ভর করতে না পারে, সেজন্য পুরো দলকে আকাশপথে হেলিকপ্টারে করে উড়িয়ে এনেছে সিবিএফ। অন্যদিকে নিজের বিলাসবহুল ব্যক্তিগত বিমানে চড়ে ক্যাম্পে হাজির হন নেইমার জুনিয়র।
এদিকে ইউরোপ সেরার মুকুট পরতে আর্সেনাল আর পিএসজির ব্রাজিলিয়ান তারকারা ব্যস্ত থাকায় পহেলা জুনের আগে যোগ দিতে পারছেন না ক্যাম্পে। আর তাই অনুশীলনের ধার বাড়াতে ফ্ল্যামেঙ্গোর তরুণ গোলরক্ষক লিও ন্যানেত্তি এবং অনূর্ধ্ব-২০ দলের দুই প্রতিভাবান ফুটবলারকে স্কোয়াডে ডেকেছেন ইতালিয়ান ডন আনচেলত্তি।
ক্যামেরা নিষিদ্ধ, মিডিয়ার প্রবেশাধিকার মাত্র ১৫ মিনিটের। আগামী চারদিন তেরেদোপোলিসের এই রুদ্ধদ্বার দুর্গেই তৈরি হবে বিশ্বজয়ের ব্লু-প্রিন্ট। তবে শুরুর লক্ষ্য —৩১ মে, রোববার ঠিক সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় মারাকানার বুক চিরে পানামাকে স্তব্ধ করে দেয়া। হেক্সার আক্ষেপ ঘুচানোর এই মহাযজ্ঞে সেলেসাওরা এবার কতটা নির্মম হবে? উত্তর দেবে ব্রাজিলের মাঠের ফুটবল।





