এক পতাকায় বিশ্বজয়, উদযাপনে বৈচিত্র্য!

স্পেন ফুটবল দলের বিশ্বকাপ শিরোপা উদযাপন
বিশ্বকাপ , ফুটবল
এখন মাঠে
0

বিশ্বজয় কিংবা ইউরোপ সেরার মুকুট স্পেনের হাতে যখনই কোনো বড় শিরোপা ওঠে, ক্যামেরার লেন্স বন্দি করে এক অদ্ভুত দৃশ্য। একই লাল-হলুদ জার্সি পরা ফুটবলারদের কারও কাঁধে নীল-সাদা পতাকা, কারও হাতে লাল-হলুদ স্ট্রাইপ, আবার কেউ মাতেন সাত তারার লাল পতাকায়। এক দেশের শিরোপা উদযাপনে কেন এত ভিন্ন পতাকা?

মাঠের ৯০ মিনিটে তারা সবাই এক দল, এক প্রাণ। স্পেনের জার্সিতে প্রতিপক্ষ আর্জেন্টিনাকে চূর্ণ করে এনেছেন গৌরব, উড়িয়েছেন স্পেনের ঝান্ডা। তবে দেশের পতাকা পাশাপাশি ফাইনালের মঞ্চে উড়েছে বহু রং, ডিজাইনের পতাকাও। স্পেনের এই বৈচিত্র্যময় উদযাপনে সাক্ষী হলো ফুটবল বিশ্ব।

শিরোপা উদযাপনের আগে স্পেনের ফুটবলারদের কারও হাতে কারও বা কোমরে বাঁধা ছিলো ভিন্ন পতাকা। বিষয়টি নিশ্চয়ই দৃষ্টিগোচর হয়েছে ভক্তদের। বিশ্বমঞ্চে রদ্রিগো, ফেরান তোরেসদের ফাইনালের মঞ্চে শিরোপা উদযাপনের খুব বেশি মুহূর্ত না থাকায় ব্যাপারটির সঙ্গে অনেকেই হয়তো অপরিচিত।

আরও পড়ুন:

তারকা ফুটবলার পেদ্রি যখন ট্রফি উঁচিয়ে ধরেন, তার গায়ে জড়ানো ছিলো কানারি দ্বীপপুঞ্জের পতাকা। একটু দূরেই ট্রফি জয়ের নায়ক ফেরান তোরেসকে দেখা যায় নীল ও লাল-হলুদ স্ট্রাইপের ভ্যালেন্সিয়া অঞ্চলের। ইগলেসিয়াস গালিসিয়া অঞ্চলের, দানি ওলেমো ও অ্যালেক্স বায়েনা তেরাসা ও রোকেতাস দে মারে শহরের পতাকা নিয়ে উদযাপনে মাতেন।

স্পেন আসলে কোনো একক সংস্কৃতির দেশ নয়। এই ব্যতিক্রমী উদযাপনের নেপথ্যে রয়েছে স্পেনের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ও প্রশাসনিক ইতিহাস। পঞ্চদশ থেকে সপ্তদশ শতাব্দীর মধ্যে বেশ কয়েকটি আলাদা রাজ্য একত্রিত হয়ে বর্তমান স্পেন গঠন হয়।

ফলে ভৌগোলিক ও রাজনৈতিকভাবে এক হলেও প্রতিটি অঞ্চলের নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহাসিক পরিচয় অত্যন্ত সুদৃঢ়। স্পেন ১৭টি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের একটি ইউনিয়ন। প্রতিটি অঞ্চলের রয়েছে নিজস্ব সংসদ, নিজস্ব ভাষা, আলাদা সংস্কৃতি এবং সম্পূর্ণ নিজস্ব নকশার পতাকা।

বহু রং, বহু ভাষা আর বহু পতাকার এই মেলবন্ধনই স্পেনের ফুটবলকে পৃথিবীর বুকে অনন্য করে তুলেছে। বৈচিত্র্যের মাঝেই যে আসল সৌন্দর্য আর শক্তি, তা স্পেনের ফুটবলাররা আরও একবার প্রমাণ করেন ট্রফি হাতে নিয়ে।

এসএইচ