ইনজুরিতে প্রতিপক্ষের সর্বনাশ, স্পেনের পৌষ মাস!

বিশ্বকাপ ট্রফি হাতে স্পেনের খেলোয়াড়দের উদযাপন
বিশ্বকাপ , ফুটবল
এখন মাঠে
0

একের পর এক পরাশক্তিকে কাবু করে বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুকুট মাথায় তুলেছে স্পেন। তবে সোনালি ট্রফিটা বাগিয়ে নিতে তাদের সাহায্য করেছে চ্যাম্পিয়ন্স ভাগ্যও। নকআউট পর্বের প্রতিটি ম্যাচে ইনজুরিতে পড়েছে তাদের প্রতিপক্ষ দলের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়েরা।

নুনো মেন্দেস, থিবো কর্তোয়া, উইলিয়াম সালিবা আর সবশেষ লিসান্দ্রো মার্টিনেজ। শুধু চারটি নামই নয়, এটি যেন সদ্য বিশ্বজয়ী স্পেনের চারটি চ্যাম্পিয়ন্স ভাগ্যের রসদ। নকআউট পর্বের প্রতিটি ম্যাচে যা লা রোহাদের দিয়েছে লাইফলাইন।

পর্তুগাল, বেলজিয়াম, ফ্রান্সের পর আর্জেন্টিনা। রাউন্ড অব সিক্সটিন থেকে বাঘা বাঘা দলকে হারিয়েই শিরোপা পুনরুদ্ধার করেছে স্পানিশরা। পুরো টুর্নামেন্টে দলটি গোল হজম করেছে মাত্র ১টি।

বিশ্বের নামি-দামি সব তারকাদের বাক্সবন্দি করে বিশ্বজয় করা দে লা ফুয়েন্তের দল নিঃসন্দেহে শিরোপার যোগ্য দাবিদার। তবুও আছে কিছু যদি-কিন্তু'র আক্ষেপ আর অপয়া স্মৃতি।

দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থের সবশেষ মঞ্চটা নিজেদের রঙে রাঙিয়েছিলো স্পেনের ডিফেন্স ও মিড। তবে দলটির একমাত্র দুর্বলতা ছিলো ফিনিশিংয়ে। সেখানেই যেন বিধাতা হাজির হন তার আশীর্বাদ নিয়ে।

প্রতিপক্ষকে হারাতে স্পেন যে সুবিধা পেয়েছে তা এই বিশ্বকাপে আলোচনায় আসা কোন তান্ত্রিক, সাধু বা প্রেডিকশন করা প্রাণীর পক্ষেও হয়তো করা সম্ভব ছিলো না।

আরও পড়ুন:

রাউন্ড অব সিক্সটিনে স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচের ৫৫ মিনিটের মাথায় বা পায়ের ইনজুরিতে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন পর্তুগিজ তারকা ডিফেন্ডার নুনো মেন্দেস। এই লেফট ব্যাক উঠে যাওয়ার পরই পর্তুগালের আক্রমণের ধার কমে, ডিফেন্সেও ফাটল ধরে।

এরপর শেষ মুহূর্তে গোল করে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে স্পেন। কোয়ার্টার ফাইনালেও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি। ৭১ মিনিটে ১-১ সমতায় থাকা ম্যাচে ইনজুরি নিয়ে এই জেনারেশনের অন্যতম সেরা গোলরক্ষক কর্তোয়া উঠে গেলে আবারও শেষ সময়ের গোলে সেমিফাইনালে পৌঁছে যায় ইয়ামাল-ওলমোরা।

শেষ চারে অতিমানবীয় দল ফ্রান্সের বিপক্ষেও সৌভাগ্যর ছোয়া পায় বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। ২৯ মিনিটে ফ্রান্সের সবচেয়ে সেরা ডিফেন্ডার সালিবাও কাকতালীয় ভাবে মাঠ ছাড়েন ইনজুরি নিয়েই। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে এমবাপ্পে-দেম্বেলে-ওলিসেদের ফ্রান্সকেও বশে আনে কুকুরেয়া-কুবারসিরা।

কথায় আছে, ‘ফরচুন ফেভারস দ্য ব্রেভ’। তাই হয়তো ফাইনালের মঞ্চে ফুটবল বিধাতা ফের একবার মুখ তুলে তাকালেন স্পানিশদের দিকে।

মেসি-আলভারেজদের রুখে দেয়া স্পেন আটকা পড়ছিলো আর্জেন্টিনার রক্ষণে লিসান্দ্রো ও এমি মার্টিনেজ ডুওর কাছে। কিন্তু ৪৩ মিনিটে ইনজুরি নিয়ে লিসান্দ্রো মাঠ ছাড়লে কার্যত ওখানেই শেষ হয়ে যায় আর্জেন্টিনার ডিফেন্স সামলে আক্রমণের ধার। আর লা রোহারা পেয়ে যায় দ্বিতীয়বারের মতো সোনালি ট্রফিটা জয়ের স্বাদ।

এসএইচ