ফেব্রুয়ারিতে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যৌথ হামলার পর থেকে জ্বালানিসহ জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় নিয়ে মার্কিনদের রোষানলে ছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগে থেকেই বিশ্লেষকদের শঙ্কা ছিল, এই যুদ্ধই মধ্যবর্তী নির্বাচনে চূর্ণ- বিচূর্ণ করবে ট্রাম্পের দম্ভের। সত্যিও হলো তাই, প্রায় ২০ বছর পর মধ্যবর্তী নির্বাচনে একই সাথে কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারালো ক্ষমতাসীন দল।
লাল দুর্গের ভরাডুবির জন্য ইরান যুদ্ধ দায়ী তা অকপটে স্বীকার করে নিয়েছেন ট্রাম্পও। কিন্তু কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারানো ট্রাম্পকে কি ইরান যুদ্ধের অর্থায়ন বন্ধে বাধ্য করাতে পারবেন ডেমোক্র্যাটরা- তা নিয়েই চলছে বিস্তর আলোচনা।
হিসেব- নিকেশ বলছে, মধ্যবর্তী নির্বাচনে ব্যাপক ভরাডুবির পর ট্রাম্প চাইলেই কংগ্রেসকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ইরানে নতুন দফা হামলা চালাতে পারবে না। কিন্তু এখানেও রয়েছে পাল্টা হিসেবের মারপ্যাঁচ। নতুন আইনপ্রণেতার শপথ ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে। তাই ক্ষ্যাপাটে ট্রাম্প চাইলেই নভেম্বর থেকে ডিসেম্বর এই দুই মাস সময়ের মধ্যে ইরানে নতুন দফা হামলা চালাতেই পারেন।
এছাড়াও, নতুন কংগ্রেস গঠিত হওয়ার পর ইরানে সামরিক অভিযান চালাতে যে বাধাগুলোর সম্মুখীন হতে পারেন ট্রাম্প; তা তিনি চাইলেই কাটিয়ে উঠতে পারবেন। কেননা ট্রাম্পের কাছে আছে ভেটো প্রদানের ক্ষমতা। একারণে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসে যুদ্ধ সংক্রান্ত কোনো বিল পাসে বাধা দিলে তাতে ভেটো দিতে পারবেন ট্রাম্প।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী, প্রেসিডেন্টের ভেটো অকার্যকর করতে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে বিলটি পুনরায় পাস করতে হয়। কিন্তু সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও ভেটো অকার্যকর করার মতো আসন নেই ডেমোক্র্যাটদের। একারণে বিরোধীরা চাইলেই রাতারাতি ইরান যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্পকে বাধ্য করতে পারবেন না।
আবার যেহেতু মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী আর প্রেসিডেন্ট পদে দাঁড়াতে পারবেন না ট্রাম্প। তাই তিনি চাইলেই নিজের ক্ষ্যাপাটে রূপ জাহিরে কঠোর করতে পারেন মার্কিন মধ্যপ্রাচ্য নীতি। তবে মধ্যবর্তী নির্বাচনের শোচনীয় পরাজয়ের পর ফের নিজের পায়ে কুড়াল মারবেন কি ট্রাম্প? তাই এখন দেখার বিষয়। ইতোমধ্যে ইরান যুদ্ধের বিরোধিতা করেছেন ২০২৮ সালে রিপাবলিকানদের সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট প্রার্থী জেডি ভ্যান্স।
এদিকে, রিপাবলিকানদের ভরাডুবির খবরে বিজয় উল্লাস তেহরানে। ট্রাম্পের ব্যঙ্গাত্মক ছবি হাতে, মার্কিন পতাকা পুড়িয়ে রিপাবলিকানদের পরাজয় উদযাপন করেন ইরানিরা। রাস্তার বিলবোর্ডে শোভা পাচ্ছে ট্রাম্প, নেতানিয়াহু, ভ্যান্স ও স্টিভ উইটকভের বিধ্বস্ত ছবি।
ইরানের এক অধিবাসী বলেন, ‘নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট জিতলেও আমাদের প্রতিরোধে কোনো পরিবর্তন আসবে না। ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পের পথেই হাঁটবে। তবে আমরা অন্যায়কারীদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছি। ইরানিরা কাউকেই ভয় পাই না।’
আরেক অধিবাসী বলেন, ‘সর্বশক্তিমানের কৃপায় রিপাবলিকানরা পরাজিত হয়েছে। নেতানিয়াহুর ভাগ্যও ঝুলে আছে। যারাই ইরানে আগ্রাসন চালিয়েছে, তারাই এখন পরাজিত হচ্ছে।’
আর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি জানান, মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানরা হারলেও ইরান নীতিতে খুব একটা পরিবর্তন আনবে না যুক্তরাষ্ট্র। এছাড়াও, যুক্তরাষ্ট্র নতুন দফায় হামলা চালালে পালটা জবাব দিতে তেহরান প্রস্তুত বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সুপ্রিম লিডার।
এর আগে এক এক্স বার্তায় ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার বাঘের গালিবাফ জানিয়েছেন, ব্যালটে যুদ্ধের বিপক্ষে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন মার্কিনিরা।





