মুক্তিযুদ্ধকে যারা অস্বীকার করেন, তাদের বাংলাদেশে রাজনীতি করার অধিকার নেই: বুলু

নোয়াখালী
শিল্প ও বাণিজ্য মেলা উদ্বোধন অনুষ্ঠানে মো. বরকত উল্লাহ বুলু
রাজনীতি
এখন জনপদে
2

মুক্তিযুদ্ধকে যারা অস্বীকার করেন, তাদের বাংলাদেশে রাজনীতি করার অধিকার নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও নোয়াখালী-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. বরকত উল্লাহ বুলু।

আজ (বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল) বিকেলে মাইজদী হাউজিং বালুর মাঠে নোয়াখালী শিল্প ও বাণিজ্য মেলা উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেয়ার সময় এমন মন্তব্য করেন তিনি।

বরকত উল্লাহ বুলু বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধকে যারা অস্বীকার করেন, ত্রিশ লাখ শহিদের রক্তের সঙ্গে যারা বেইমানি করেন, দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমহানির ইতিহাসের সঙ্গে যারা বেইমানি করেন— তাদের বাংলাদেশে রাজনীতি করার কোনো অধিকার নেই।’

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে বুলু বলেন, ‘একটি কথা আমি সুস্পষ্টভাবে বলতে চাই। আজকে যারা আমাদের প্রান্তিক অঞ্চলের মা-বোনকে ভুল বুঝিয়ে বেহেশতের টিকেট বিক্রি করে তাদের ঈমান-আকিদা নষ্ট করেছেন। তাদের ব্যাপারেও হুঁশিয়ার থাকতে হবে। সেদিন মা-বোনের ইজ্জত-সম্ভ্রমহানির পর জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মওদুদী বলেছিলেন, যুদ্ধের ময়দানে মা-বোনেরা নাকি গনিমতের মাল, এটা নাকি জায়েজ। নাউজুবিল্লাহ।’

আরও পড়ুন:

তিনি বলেন, ‘বেহেশতের টিকেট কেউ বিক্রি করতে পারে না। আল্লাহর রসূলও বেহেশতের টিকেট দিতে পারে নাই। একদিন ওনার প্রিয় কন্যা ফাতেমা তাকে (নবীজী সা.) জিজ্ঞাসা করলেন, “ইয়া রাসুলুল্লাহ আমি বেহেশতে যাবো কি না?” জবাবে তিনি বলেছিলেন, “মা আমি তোমাকে বেহেশতে যাওয়ার নিশ্চয়তা দিতে পারি না। আল্লাহর কাছ থেকে একটি অনুমতি নিয়ে এসেছি। হাশরের ময়দানে উম্মতদের জন্য সুপারিশ করার অনুমতি নিয়ে এসেছি। তোমার আখলাক, ইবাদত-বন্দেগি, স্বামীর খেদমত, সবকিছুতে যদি আল্লাহ রাজি-খুশি থাকেন, তাহলে তুমি বেহেশতে যাবে। হাশরের ময়দানে তোমার জন্য সুপারিশ করতে পারি।” ’

বরকত উল্লাহ বুলু আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের গরিব মা-বোনকে এবার যারা বেহেশতের টিকেট বিক্রি করে ভোট করেছেন, তারা ইসলামকে বিদায়াতের পথে নিয়ে গেছেন, ইমান-আকীদা নষ্ট করেছেন। এদের ব্যাপারে আল্লাহ ইনশাআল্লাহ কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা করবেন। আগামি দিনে আল্লাহ নিজেই করবেন।’

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন নোয়াখালীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. সরওয়ার উদ্দিন, নোয়াখালী সদর সার্কেল মো. লিয়াকত আকবর প্রমুখ।

এসএইচ