সংস্কারহীন ২ বছর: চট্টগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যাত্রী দুর্ভোগ চরমে

ইপিজেড থেকে ফ্রি পোর্ট পর্যন্ত সড়কের খানাখন্দ
এখন জনপদে
0

প্রায় দুই বছর ধরে বেহাল দশা চট্টগ্রামের ইপিজেড থেকে ফ্রি পোর্ট পর্যন্ত প্রধান সড়কের দেড় কিলোমিটার অংশ। গুরুত্বপূর্ণ এ সড়ক হয়েই প্রতিদিন বিমানবন্দর, দুইটি ইপিজেড, চট্টগ্রাম বন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে যাতায়াত করে কয়েক লাখ মানুষ। যানজট, ভোগান্তি, দুর্ঘটনা আর আতংক এ পথের যাত্রীদের নিত্যসঙ্গী। দুই বছরেও মেরামত বা সংস্কারে উদ্যোগ না নেয়ায় ক্ষুব্ধ মানুষ। চসিক বলছে, অন্য সংস্থা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ করায়, এ সড়ক সংস্কার সম্ভব নয়, দুর্ভোগের জন্য সিডিএ আর ঠিকাদারের গাফিলতিকে দায়ী করছেন মেয়র।

ইপিজেড এলাকার এম এ আজিজ সড়ক। এ সড়ক যুক্ত করেছে চট্টগ্রাম বন্দর, বিমান বন্দর, ইপিজেড ও কেইপিজেড সহ অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানকে। নগরীর প্রধান এ সড়কের ইপিজেড অংশ গত দুই বছর ধরে পরিত্যক্ত। বাধ্য হয়ে কারো আসতে হলে আতঙ্কে এ পথ পাড়ি দেন। প্রশ্ন হলো? কেন এ দীর্ঘ সময়েও মেরামত বা সংস্কার হয়না সড়কের দেড় কিলোমিটার অংশ?

এ সড়ক ধরে আশেপাশের হাজার হাজার মানুষ ছাড়াও ইপিজেডের লাখ লাখ শ্রমিক দৈনিক যাতায়াত করেন। বিধ্বস্ত সড়কের বড় বড় গর্তে পরে নাকাল হচ্ছেন যানবাহন চালক আর যাত্রীরা। সড়কে পাশাপাশি চলছে পণ্যবাহী কাভার্ড ভ্যান, ট্রাক, বাস এবং ছোট যানবাহন। স্থানীয়দের অভিযোগ, সিটি করপোরেশন দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি সংস্কার করছে না। এতে দিনে দিনে পরিস্থিতি ভয়ংকর হয়ে ওঠেছে।

পথচারীরা জানান, দুর্ঘটনা ঘটে, অনেক সময় দেখা গেছে গাড়ি এক্সিডেন্ট হয়, নষ্ট হয়ে যায়। যেকোনো মুহূর্তে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

বিধ্বস্ত এই সড়কে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। সড়কেই অকেজো হয়ে বন্ধ হচ্ছে যান চলাচল। সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ যানজটও। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এখানকার ব্যবসা, শিক্ষা কিংবা সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠানগুলো।

আরও পড়ুন:

স্থানীয় ব্যক্তিরা জানান, এই রাস্তা দিয়ে চট্টগ্রামের ইপিজেডের হাজার হাজার গার্মেন্টস কর্মীরা যায় সকাল বেলা, বিকাল বেলা। এটা খুবই ভোগান্তির। আমরা ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে যে কষ্ট হচ্ছে, কিন্তু রাস্তার কোনো কাজ আজ পর্যন্ত শেষ করতে পারছে না।

সড়কের পাশেই মটির স্তূপ জমিয়ে সেখানে চলছে এক্সপ্রেসওয়ের লুপ তৈরির কর্মযজ্ঞ। পাশেই চলছে ফুটপাত নালা নির্মাণের কাজ। ফলে সড়কের পাশাপাশি পায়ে হেটে যাতায়াতও দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। সিটি করপোরেশন বলছে, এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণকাজে জড়িত ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ম্যাক্স করপোরেশনের গাফিলতিতে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে সেখানে র‍্যাম্প নামার কারণে গিয়ে তারা আসলে এই মাটিগুলো জমিয়ে রেখেছে এবং সেখানে রাস্তাটার কাজও আমরা করতে পারছি না। তো আমরা তাদেরকে কালকে ডেকেছিলাম এবং স্ট্রংলি আমি বলেছি যে দুই-তিন দিনের মধ্যে তারা যেন ওখান থেকে মাটি সরিয়ে দেয়। আমরা সেই র‍্যাম্প করুক আর না করুক, আমরা সেখানে রাস্তা করে দেবো।’

এছাড়া নগরীর অক্সিজেন কোয়াইশ সড়ক, কালুরঘাট বিসিক সড়কসহ কয়েকটি সড়কের এখন এমন বেহাল দশা।

দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কটির এমনই কঙ্কালসার দশা। সড়কে পিচ ঢালাই ওঠে গিয়ে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত যা রীতিমতো মরণফাদেঁ পরিণত হয়েছে। বৃষ্টি এলে এসব গর্তে পানি জমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। দুর্ভোগ যখন চরমে তখন সড়ক সংস্কারে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না দেখায় ক্ষুব্ধ এখানকার হাজার হাজার মানুষ।

ইএ