লঞ্চঘাট থেকে পড়ে নিখোঁজের ১৭ ঘণ্টা পর সাগরে মিলল যুবকের মরদেহ

মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল
এখন জনপদে
0

কক্সবাজারের পেকুয়ার মগনামা লঞ্চঘাটে বোটে ওঠার সময় সাগরে পড়ে নিখোঁজ হওয়ার ১৭ ঘণ্টা পর সাগরে মিললো শামিমের মরদেহ। আজ (রোববার, ৬ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে পেকুয়া উপজেলার মগনামা লঞ্চঘাট সংলগ্ন সাগর থেকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল তার মরদেহ উদ্ধার করে।

এর আগে, গতকাল (শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে কুতুবদিয়াগামী একটি ডেনিস বোটে ওঠার সময় অসাবধানতাবশত সাগরের পানিতে পড়ে যান শামিম। এরপর ফায়ার সার্ভিস ও নৌবাহিনীর ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান শুরু করে।

নিহত শামিম ভোলা জেলার মোসলেহ উদ্দিনের ছেলে। তিনি চট্টগ্রামের একটি শিপিং কোম্পানিতে চাকরি করতেন। প্রায় এক বছর আগে করিনা বেগমের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। এবারই প্রথম স্ত্রীকে নিয়ে কুতুবদিয়ায় শ্বশুরবাড়ি যাচ্ছিলেন তিনি।

শামিমের স্ত্রী করিনা বেগম জানান, তিনি চট্টগ্রামের একটি গার্মেন্টসে চাকরি করেন। অসুস্থ থাকায় স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে বাবার বাড়ি কুতুবদিয়ায় যাচ্ছিলেন। মগনামা লঞ্চঘাটে পৌঁছে বোটে ওঠার সময় তার চোখের সামনেই পানিতে পড়ে যান শামিম।

আরও পড়ুন:

কান্নাজড়িত কণ্ঠে করিনা বলেন, ‘আমার স্বামী সাঁতার জানতেন। কিন্তু পানিতে পড়ার পর খুব দ্রুত ডুবে যান। পরে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাকে পাওয়া যায়নি।’

মগনামা লঞ্চঘাটের ইজারাদার নুরুল ইসলাম জানান, বোটে ওঠার সময় অসাবধানতাবশত ওই যুবক পানিতে পড়ে যান। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হলে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন।

পেকুয়া ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ মোহাম্মদ শফিউল আলম জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান শুরু করে। নৌবাহিনীর ডুবুরিদেরও অভিযানে যুক্ত করা হয়। সন্ধ্যার পর আলো কমে যাওয়ায় শনিবারের অভিযান স্থগিত করা হয়। রোববার সকালে পুনরায় অভিযান শুরু করে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঘটনাস্থলের কাছ থেকেই শামিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পেকুয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ইমরুল হাসান বলেন, ‘মরদেহ উদ্ধারের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে মরদেহটি থানায় নেয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’

এসএইচ