দীর্ঘ আইনি জটিলতা কাটিয়ে চালু হচ্ছে নকলা ফায়ার সার্ভিস স্টেশন

নকলা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের পরিত্যাক্ত ভবন
এখন জনপদে
0

প্রায় দু’দশকের আইনি জটিলতা শেষে অবশেষে শেরপুরের নকলা ফায়ার সার্ভিস স্টেশন চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এতে অগ্নিকাণ্ডসহ নানা দুর্যোগে দ্রুত সেবা পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে জটিলতা কাটিয়ে স্টেশনটি চালুর উদ্যোগে স্বস্তি ফিরেছে স্থানীয়দের মধ্যে।

গত ৭ সেপ্টেম্বর শেরপুরের নকলা উপজেলার চন্দ্রকোনা ইউনিয়নের হুজুন্দি গ্রামে বিদ্যুতের শর্টসার্কিট থেকে আগুন লাগে একটি বসতবাড়িতে। এসময় ঘরে থাকা গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে আগুন পাশের আরেকটি বসতঘরে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে শেরপুর সদর ও নালিতাবাড়ি ফায়ার সার্ভিসের দু’টি ইউনিট প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় দুই বসতবাড়ির আসবাবপত্র প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

নয়টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় গঠিত নকলা উপজেলায় প্রায় তিন লাখ মানুষের বাস। কিন্তু কোনো ফায়ার সার্ভিস স্টেশন না থাকায় আগুন লাগলে অন্য স্টেশনের গাড়ির জন্য অপেক্ষা করতে হয়। ফলে ক্ষয়ক্ষতি বেশি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

২০০৬ সালে নকলায় একটি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়। ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় আটকে যায় প্রায় ৩৬ লাখ টাকার প্রকল্পটি। দীর্ঘ দু’দশক বাদে গত ১৬ আগস্ট ফায়ার সার্ভিসের পক্ষে রায় দেয় আদালত। তাই দীর্ঘদিন পড়ে থাকা নির্মাণাধীন ভবনটির কাজ দ্রুত শেষ করতে চায় কর্তৃপক্ষ।

আদালতের রায়ে আশার আলো জেগেছে স্থানীয়দের মনে।

আরও পড়ুন:

আগুনে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে একজন বলেন, ‘শেরপুর এবং নালিতাবাড়ি ফায়ার সার্ভিসে খবর দিয়েছিলাম। তারা আসতে আসতে আমাদের এদিকে সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। সরকারের কাছে আমি দৃষ্টিগোচর করবো যে নকলা থানায় একটা আমাদের ফায়ার সার্ভিস দেয়ার জন্য।’

একনেকে অনুমোদন হওয়ার পর বরাদ্দ প্রাপ্তি সাপেক্ষে বাকি কাজ শুরু করা যাবে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি জনবল নিয়োগ সাপেক্ষে সেবার জন্য উন্মুক্ত করা হবে বলে জানান কর্মকর্তারা। দ্রুত প্রয়োজনীয় জনবল ও সরঞ্জাম নিশ্চিত করে স্টেশনটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা হবে বলে জানান সংসদ সদস্য।

শেরপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আতিকুর রহমান বলেন, ‘এরইমধ্যে এই ফায়ার স্টেশনটি ৩০টি গুরুত্বপূর্ণ ফায়ার স্টেশন নামে একটি প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। গণপূর্ত মন্ত্রণালয় কর্তৃক ডিপিপির প্রণয়নের কাজ চলমান রয়েছে। এই প্রকল্প একনেক অনুমোদন হওয়ার পর বরাদ্দ প্রাপ্তি সাপেক্ষে আমরা ফায়ার স্টেশনটিকে বাকি নির্মাণ কাজ শেষ করতে পারি।’

শেরপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার ফাহিম চৌধুরী বলেন, ‘প্রশাসনিক কিছু কার্যাবলী যখনই সম্পূর্ণ হবে, ফায়ার সার্ভিসের কাজটি আবার পুনরায় চালু হবে, নির্মাণ কাজ আমি আই মিন ফায়ার সার্ভিসের নির্মাণ কাজটি আবার পুনরায় চালু হলে এলাকার মানুষ যখনই আগুনে বা অন্যান্য অন্য কোনো বিপদগ্রস্ত হবে, তখন ফায়ার সার্ভিসের প্রোপার সাপোর্টটা তারা পাবে।’

দীর্ঘ দু’দশক পর নকলার ফায়ার সার্ভিস স্টেশন চালুর উদ্যোগকে ইতিবাচক মনে করছেন স্থানীয়রা। তাদের প্রত্যাশা, দীর্ঘ আইনি জটিলতা শেষ করে এই ফায়ার সার্ভিস স্টেশনটি চালু করা গেলে অগ্নিকাণ্ডসহ বিভিন্ন দুর্ঘটনায় তাৎক্ষণিক সেবা নিশ্চিত হবে।

এসএস