সাজেক সড়কে পাল্টা ৪৮ ঘণ্টার অবরোধের ডাক পার্বত্য চট্টগ্রাম রক্ষা কমিটির

সাজেক ভ্যালি
এখন জনপদে
0

চলমান অবরোধের মধ্যেই সাজেক সড়ক সচল ও পাহাড়ে সন্ত্রাসী তৎপরতা বন্ধের দাবিতে দ্বিতীয় দফায় আগামী বুধবার (৪ নভেম্বর) ও বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) নতুন করে সাজেক সড়কে ৪৮ ঘণ্টার সর্বাত্মক অবরোধ ডেকেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম রক্ষা কমিটি। ৫ দফা দাবিতে ইউপিডিএফ নিয়ন্ত্রিত দুই পাহাড়ি সংগঠনের ডাকা অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধের মধ্যেই পাল্টা অবরোধ ডাকলো এই সংগঠন।

আজ (মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর) সন্ধ্যায় দুই সংগঠনের চলমান সাজেক সড়ক অবরোধে উৎপাদিত কৃষিপণ্য পরিবহন ও শিক্ষক শিক্ষার্থী বহনকারী যান অবরোধমুক্ত থাকার ঘোষণার জেরে নতুন এই কর্মসূচি দিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম রক্ষা কমিটি।

সংগঠনটির সদস্যসচিব বিন্দুলাল চাকমা এক বিবৃতিতে এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এর আগে সংগঠনটি গত রোববার (১ নভেম্বর) ১২ ঘণ্টার সড়ক অবরোধ শিথিলের মধ্যেই পাল্টা অবরোধ পালন করে।

মূলত কয়েক দফা বন্দুকযুদ্ধে বেহাত হওয়া সাজেক থেকে প্রতিপক্ষ জেএসএস অস্ত্রধারীদের সরানোর দাবিতে অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করছে ইউপিডিএফের দুই সংগঠন সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশন। এর মধ্যে গেল ১১ ও ১৫ অক্টোবর দুই দফায়, ২২ থেকে ৩১ অক্টোবর তৃতীয় দফায় এবং ২ নভেম্বর থেকে চতুর্থ দফায় সড়ক অবরোধ চলমান রয়েছে। এর মধ্যেই গেল শনিবার ও রোববার দুই দফায় বন্দুকযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে ইউপিডিএফ-জেএসএস সন্ত্রাসীরা। তবে এই সংঘাতে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

পার্বত্য চট্টগ্রাম রক্ষা কমিটির বিবৃতিতে বলা হয়েছে—চিহ্নিত সশস্ত্র সন্ত্রাসী দলের মদদপুষ্ট ভূঁইফোড় সংগঠন ‘সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি’ ও ‘সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশন’ এর উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অবরোধের কারণে সাজেক পর্যটন সড়ক, স্থানীয় পর্যটন শিল্প এবং সাধারণ জনগণ চরম জিম্মিদশায় পড়েছে। অযৌক্তিক টানা অবরোধের কারণে স্থানীয় পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জুমে উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করতে না পেরে পচে নষ্ট হচ্ছে। পর্যটন কার্যক্রম বন্ধ থাকায় স্থানীয় ব্যবসায়ী, যানবাহন মালিক, শ্রমিকসহ বিশাল জনগোষ্ঠীর আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে তাদের জীবন-জীবিকা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। তাছাড়া সাধারণ জনগণ বিশাল আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে এবং সরকারও বড় অংকের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

সংগঠনটি বলছে—আঞ্চলিক বিচ্ছিন্নতাপন্থী দলগুলো অস্ত্র শক্তি ও জরিমানার ভয় দেখিয়ে জুম্ম জনগণকে অবরোধ পালনে বাধ্য করছে। বিশেষ ভাবে জুম্ম নারী ও শিশু কিশোরদের জোরপূর্বক মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করে রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করছে তারা। পাশাপাশি আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি, অপহরণ ও খুনের মাধ্যমে তারা এই অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে, যা চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন ও দেশবিরোধী চক্রান্তের পরিকল্পিত নীলনকশা।

এসএস