শ্রমিকরা ধ্বংসাত্মক কাজে না জড়ালে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হবে না: নারায়ণগঞ্জের ডিসি

নারায়ণগঞ্জ
বিজিবি মোতায়েন
এখন জনপদে
0

বেতন বৃদ্ধির দাবিতে টানা তিন দিনের বিক্ষোভের পর নারায়ণগঞ্জের শিল্পাঞ্চলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। শ্রমিকরা ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে জড়িত না হলে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হবে না বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. রায়হান কবির।

আজ (বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর) সকাল থেকে ফতুল্লার শিবু মার্কেট, কাঠেরপুল, বিসিক শিল্পনগরী ও আদমজী ইপিজেডসহ বিভিন্ন শিল্প এলাকায় স্বাভাবিকভাবে কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম চলছে।

জেলা প্রশাসক বলেন, ‘শ্রমিকরা খুব বেশি উত্তেজিত নন। হয়তো কেউ কেউ প্ররোচনার শিকার হয়ে কারখানার বাইরে আসছেন। তাদের বুঝিয়ে কারখানায় ফিরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে তারা ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে না জড়ালে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হবে না।’

বৃহস্পতিবার নারায়ণগঞ্জের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা নিয়ে জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে। পুলিশ, শিল্প পুলিশ, বিজিবি, এসআরবি ব্যাটালিয়ন ও আনসারসহ পাঁচ ধরনের বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। পাশাপাশি কাজ করছে তিনটি গোয়েন্দা সংস্থা।

তিনি জানান, শুধু নারায়ণগঞ্জ শহরেই দায়িত্ব পালন করছেন ছয়জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। প্রতিটি উপজেলাতেও একই ধরনের নিরাপত্তাব্যবস্থা রাখা হয়েছে। শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তায় ছয় প্লাটুন বিজিবি এবং বিভিন্ন স্থানে ৫০ জন করে পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছেন। এ ছাড়া দিনভর দেড় শতাধিক আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।

জেলা প্রশাসক আরও জানান, নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করতে মুন্সিগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ ও নরসিংদী জেলা থেকে তিন শতাধিক অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য আনা হয়েছে। পাশাপাশি শিল্পাঞ্চলগুলোতে গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী জানান, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ফতুল্লার শিবু মার্কেট ও কাঠেরপুল এলাকার সব কারখানায় শ্রমিকরা কাজে যোগ দিয়েছেন। একইভাবে বিসিক শিল্পনগরী ও আদমজী ইপিজেডসহ নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন শিল্প এলাকায়ও স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ বিরাজ করছে।

উল্লেখ্য, বেতন বৃদ্ধির দাবিতে গত তিন দিন ধরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার শিবু মার্কেট, কাঠেরপুল এলাকায় শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও আন্দোলন চলে। এ পরিস্থিতিতে শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

এএইচ