যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম মুসলিম সিনেটর; নিউ ইয়র্কে ফিলিস্তিনি-আমেরিকান নারী আইনপ্রণেতা

আবদুল এল- সাইদ, আবের কাওয়াস
উত্তর আমেরিকা
বিদেশে এখন
0

মঙ্গলবার ভোটের ফলে দুই মুসলিম প্রার্থীর বিজয় দেখলো মার্কিনরা। ট্রাম্পের একের পর এক দুয়োধ্বনি উপেক্ষা করে মিশিগানে থেকে সিনেটের ২৩৭ বছরের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর নির্বাচিত হন আবদুল এল- সাইদ। আর একই দিন নিউ ইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের আইনসভার প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান এবং হিজাব পরা নারী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ডেমোক্রেটিক দলের আবের কাওয়াস।

নির্বাচন আসলেই বিপক্ষ মুসলিম প্রার্থীদের প্রমাণ ছাড়াই কমিউনিস্ট, জিহাদি কিংবা ইহুদিবিদ্বেষী; এমন নানা ট্যাগ দেয়ার অভ্যাস অস্থিমজ্জায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। এবার প্রেসিডেন্টের এসব দুয়োধ্বনির জবাবে ভোটের ব্যালটে দিয়ে ইতিহাসের সূচনা করলেন মার্কিনরা।

গেল বছরের নভেম্বরে ইতিহাস গড়ে নিউ ইয়র্ক সিটির প্রথম মুসলিম মেয়র নির্বাচিত হন জোহরান মামদানি। আর এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ফের আরেকবার মুসলিম প্রার্থীর বিজয়ের সাক্ষী হলো যুক্তরাষ্ট্র।

ট্রাম্পের সমালোচনার ঝড় হাসিমুখে উড়িয়ে দিয়ে নির্বাচনের ব্যাটলগ্রাউন্ড হিসেবে পরিচিত মিশিগানে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে হারিয়ে বিজয়ীর তালিকায় নাম লেখান ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সাইদ।

এর মধ্য দিয়ে মার্কিন সিনেটের ২৩৭ বছরের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর হিসেবে নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস গড়েছেন ৪২ বছর বয়সী এই মিশরীয় বংশোদ্ভূত। জয়ের পর ভক্ত- সমর্থকদের উদ্দেশে দেয়া তাৎক্ষণিক বক্তব্যে হাস্যরসাত্মক ভঙ্গিতে ট্রাম্প- ভ্যান্সের সমালোচনার জবাব দেন এল-সাইদ।

তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট আমার নামটা ঠিকভাবে উচ্চারণ করতে পারেন না। তাই জানুয়ারিতে জেডি ভ্যান্স শপথবাক্য পাঠ করানোর পর আমাকে সিনেটর বলেই ডাকতে পারেন। আর এআইপ্যাক, যারা আমার বিরুদ্ধে ৪২ মিলিয়ন ডলার খরচ করেছে, আমাকে তোমাদের দুইবার হারানোর সুযোগ দেয়ার জন্য ধন্যবাদ।’

আরও পড়ুন:

মিশিগানের রচেস্টার হিলসে মিসরীয় অভিবাসী মা-বাবার ঘরে জন্ম আবদুল এল-সাইদের। ২০০৭ সালে ইউনিভার্সিটি অব মিশিগান থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। এরপর রোডস স্কলার হিসেবে ২০১১ সালে ইউনিভার্সিটি অব অক্সফোর্ড থেকে জনস্বাস্থ্য বিষয়ে ডক্টরেট ডিগ্রি নেন এল-সাইদ।

রাজনীতিতে আসার আগে চিকিৎসা ও জনস্বাস্থ্য খাতে পেশাজীবন গড়ে তোলেন তিনি। ২০১৮ সালে মিশিগানের গভর্নর নির্বাচনে প্রার্থী হন এল-সাইদ। তবে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রাথমিক বাছাই নির্বাচনে গ্রেচেন হুইটমারের কাছে হেরে যান তিনি।

২০২৬ সালে ফের রাজনীতিতে ফেরেন আল-সাইদ। মিশিগানে ডেমোক্রেটিক পার্টির সিনেট প্রার্থী বাছাইয়ের নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য হেইলি স্টিভেন্সকে হারান তিনি।

পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে ইসরাইলকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তার কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচিতি পান আল-সাইদ। গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযানকে তিনি গণহত্যা হিসেবে আখ্যায়িত করেন। একইসঙ্গে ইসরাইলকে নিঃশর্ত মার্কিন সামরিক সহায়তা দেয়া বন্ধের আহ্বান জানান। ইসরাইল নিয়ে তার অবস্থান নির্বাচনি প্রচারের অন্যতম বিতর্কিত বিষয় হয়ে ওঠে।

মঙ্গলবার একই দিন নিউ ইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের আইনসভার প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান এবং হিজাব পরা নারী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ডেমোক্রেটিক দলের আবের কাওয়াস। অঙ্গরাজ্যের সিনেটের ১২ নম্বর নির্বাচনি আসনে রিপাবলিকান প্রার্থীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয় পেয়েছেন তিনি।

নিউ ইয়র্কে ফিলিস্তিনি অভিবাসী বাবা-মায়ের ঘরে জন্ম ও বেড়ে ওঠা কাওয়াস ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে অভিবাসীদের অধিকার, শ্রমিকদের অধিকার এবং নাগরিক স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করেছেন। তাকে ভোটে সমর্থন জানিয়েছিল জোহরান মামদানি।

এসএস