যশোরে রঞ্জন হত্যা: ইনজেকশন পুশ করে নদীতে ফেলা হয় মরদেহ—সিআইডি

রঞ্জন হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার ২
অপরাধ
এখন জনপদে
0

যশোরের কেশবপুরের ঘের ব্যবসায়ী রঞ্জন মণ্ডল (৬০) হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সিআইডির দাবি, ইনজেকশন পুশ করে রঞ্জনকে হত্যার পর তার মরদেহ বস্তায় ভরে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। তবে কী কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে, তা এখনো জানা যায়নি।

আজ (রোববার, ৮ নভেম্বর) দুপুরে সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার ভাদলিয়া সীমান্ত এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন যশোরের মনিরামপুর উপজেলার মহিদিয়া মধ্যপাড়ার বিষ্ণুপদ ধরের ছেলে মিঠুন ধর এবং সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার দক্ষিণ ভাদলিয়া গ্রামের মৃত জব্বার গাজীর ছেলে মো. আব্দুল হান্নান গাজী।

তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির উপপরিদর্শক (এসআই) দেলোয়ার হোসেন জানান, গত ৭ নভেম্বর মনিরামপুর উপজেলার হেলারঘাট এলাকায় মুক্তেশ্বরী নদী থেকে বস্তাবন্দী অবস্থায় রঞ্জন মণ্ডলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি কেশবপুর উপজেলার কালিচরণপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং পেশায় ঘের ব্যবসায়ী ছিলেন।

গত ৬ নভেম্বর বাড়ি থেকে কাটাখালী বাজারের উদ্দেশে বের হন রঞ্জন। এরপর রাতে আর বাড়ি ফেরেননি। পরদিন তার মরদেহ উদ্ধার হয়। এ ঘটনায় নিহতের ভাতিজা দেবাশীষ মন্ডল বাদী হয়ে মনিরামপুর থানায় মামলা করেন। পরে সিআইডি হেডকোয়ার্টার্সের নির্দেশে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব নেয় সংস্থাটি।

এসআই দেলোয়ার হোসেন আরও জানান, নিহতের মোবাইল ফোনের কল ডিটেইলস রেকর্ড (সিডিআর) বিশ্লেষণ, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা ও স্থানীয়ভাবে অনুসন্ধান করে জানা যায়, ৬ নভেম্বর দুপুর ১২টার দিকে রঞ্জন মন্ডল কাটাখালী বাজারে পল্লিচিকিৎসক মিঠুন ধরের চেম্বারে গিয়েছিলেন। এরপর থেকে মিঠুনও নিখোঁজ ছিলেন।

তদন্তে জানা যায়, মিঠুন সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার ভাদলিয়া সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। এ কাজে তাকে সহায়তা করছিলেন আব্দুল হান্নান গাজী। পরে অভিযান চালিয়ে দুজনকে আটক করা হয়।

তদন্ত কর্মকর্তা জানান, মিঠুন জিজ্ঞাসাবাদে ইনজেকশন পুশ করে রঞ্জনকে হত্যার কথা জানিয়েছেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিহতের ব্যবহৃত স্বর্ণের চেইন ও আংটি এবং মরদেহ বহনে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া ইনজেকশনের পটও উদ্ধার করা হয়েছে। কী কারণে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে, তা জানার চেষ্টা চলছে বলে জানান সিআইডির এ কর্মকর্তা।

এএইচ