আইজেনকোটের ক্ষমতা গ্রহণের তোড়জোড়ের মুখে ‘ঐক্যের সরকার’ গঠনের ডাক নেতানিয়াহুর

দলীয় সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য দিচ্ছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী ও লিকুদ পার্টির নেতা বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু
বিদেশে এখন
0

ইসরাইলের সাধারণ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর পর ক্ষমতা ধরে রাখতে এবার ‘জাতীয় ঐক্যের’ সরকার গঠনের ডাক দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু। একই সঙ্গে বিরোধী জোট যাতে আরব দলগুলোর সমর্থনে সরকার গঠন করতে না পারে, সেজন্য চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, আরব দলগুলো ইসরাইলকে ‘ধ্বংস করতে চায়’। টাইম অব ইসরাইলের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

শনিবার লিকুদ পার্টির প্রকাশ করা এক ভিডিও বার্তায় নেতানিয়াহু কথিত ‘পরিবর্তনকামী জোট’ বা চেঞ্জ ব্লকের দলগুলোকে তার বিদায়ী জোটের দলগুলোর সঙ্গে মিলে জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের আহ্বান জানান। তবে এ ধরনের সরকারে তার নেতৃত্বাধীন লিকুদ পার্টির পাশাপাশি কট্টর ডানপন্থী দল রিলিজিয়াস জায়োনিজম, ওতজমা ইয়েহুদিত এবং কট্টর অর্থোডক্স (হেরেদি) দলগুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করার শর্ত জুড়ে দিয়েছেন তিনি। যদিও প্রস্তাবিত সেই সরকারের নেতৃত্ব কে দেবেন, তা উল্লেখ করেননি নেতানিয়াহু।

নির্বাচনের পর থেকেই নেতানিয়াহুর বক্তব্যে ধারাবাহিক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। গত ২৭ অক্টোবর ভোটের ফল স্পষ্ট হওয়ার পরপরই তিনি একটি কট্টর জাতীয়তাবাদী সরকার গড়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। এরপর ২ নভেম্বর নিজের নেতৃত্বে ‘বিস্তৃত জাতীয় সরকার’ গঠনের কথা বলেন। আর এবার হার নিশ্চিত দেখে আরব বিরোধিতার তাস ফেলে ঐক্যের সরকার গড়ার ডাক দিলেন তিনি।

ইসরাইলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগ নতুন সরকার গঠনের দায়িত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে বিরোধী দল ইয়াশারের নেতা গাদি আইজেনকোটকে অর্পণ করার ঠিক আগমুহূর্তে নেতানিয়াহুর এই বার্তা এল। নেসেটের (ইসরাইলি পার্লামেন্ট) সব দলের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনার পর রোববার আইজেনকোটকে সরকার গঠনের প্রথম সুযোগ দিতে পারেন প্রেসিডেন্ট। ১২০ আসনের নেসেটে নেতানিয়াহুর বিদায়ী জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন। অন্যদিকে সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোটের চারদলীয় জোট পেয়েছে ৪৮টি আসন। এছাড়া দেশটির দুটি আরব দল—রা’আম ও যৌথ তালিকা (জয়েন্ট লিস্ট) ১৯টি আসন পেয়ে আইজেনকোটকে প্রধানমন্ত্রী করার পক্ষে সমর্থন জানিয়েছে। ফলে আইজেনকোটের পক্ষে ৬৭ জন আইনপ্রণেতার স্পষ্ট সমর্থন নিশ্চিত হয়েছে।

এমন প্রেক্ষাপটে গাদি আইজেনকোটকে ইঙ্গিত করে নেতানিয়াহু বলেন, ‘কেউ একজন আগামী সপ্তাহের মধ্যেই সন্ত্রাসবাদের সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে তাড়াহুড়ো করে সরকার গঠন করতে চাইছে।’ আর আরব দলগুলোকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘ইসরাইল রাষ্ট্রের ভেতরে এমন দলগুলোকে নিয়ে সরকার গঠনের চেষ্টা চলছে, যারা ইসরাইল রাষ্ট্রকেই নিশ্চিহ্ন করতে চায়।’

নেতানিয়াহুর দাবি, হামাস সমর্থকদের ওপর নির্ভরশীল কোনো সরকার কখনোই হামাসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারবে না এবং গাজা ও লেবাননে অভিযানরত সেনাদের সুরক্ষাও দিতে পারবে না। এমনকি আরব দলগুলোর সমর্থনে সরকার গঠিত হলে ইসরাইলে গৃহযুদ্ধ শুরু হতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি। নেতানিয়াহু বলেন, ‘এ ধরনের সরকার থাকলে ইসরাইল কোনোভাবেই টিকে থাকতে পারবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি এমন একটি জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের আহ্বান জানাচ্ছি, যেখানে জাতীয় শিবিরের সব দল এবং আমাদের দেশকে রক্ষা করতে চায় এমন সব জায়োনিস্ট দল অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এই ঐক্য সরকার চিরতরে ইরানের পারমাণবিক হুমকি দূর করবে, ইসরাইলকে ইহুদি রাষ্ট্র হিসেবে রক্ষা করবে এবং আমাদের মধ্যে ঐক্য ফিরিয়ে আনবে।’

এদিকে নেতানিয়াহুকে বাদ দিয়ে সরকার গঠনে তোড়জোড় শুরু করেছে আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী পক্ষ। এমনকি নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের মিত্র কট্টর অর্থোডক্স দল ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজমও বিরোধী জোটের সঙ্গে সমঝোতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। ইসরাইল বেইতেনুর নেতা আভিগদোর লিবারম্যান কট্টর অর্থোডক্সদের সঙ্গে সরকারে যাওয়ার ওপর নিজের দীর্ঘদিনের ভেটো প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।

তবে গাদি আইজেনকোট আগেই সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, নেতানিয়াহুর সঙ্গে তিনি কোনো সরকারে যাবেন না। তবে চারটি শর্ত মেনে চলা যেকোনো দলের জন্য তার দরজা খোলা রয়েছে: ইসরাইলকে ইহুদি, গণতান্ত্রিক, উদার ও সমতাবাদী রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া; স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের মূল্যবোধের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ থাকা; সব নাগরিকের জন্য সামরিক বা জাতীয় সেবা বাধ্যতামূলক করা; এবং হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে গাজায় তাদের সামরিক ও শাসনক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংসের প্রতিশ্রুতি দেয়া।

এএম