রাজধানীর লালবাগে বাসা থেকে গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
অপরাধ
0

লালবাগের একটি বাসা থেকে তৌহিদা হোসেন তিশা নামের এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরিবারের দাবি, নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়েছে ওই গৃহবধূকে। শ্বশুরবাড়ির লোকজনের দাবি, পারিবারিক কলহ ছিলো না, বরং মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলো তিশা। এ ঘটনায় মরদেহের ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর কারণ উদঘাটনের আশ্বাস পুলিশের।

মায়ের মতো বড় বোনকে হারিয়ে আর্তনাদ করছিলেন ছোট বোন অনন্যা। গতকাল (বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে শ্বশুরবাড়ির ঘরের ফ্যানে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার হয় তার বোন তিশার মরদেহ।

তিশার পরিবারের অভিযোগ— আত্মহত্যা নয়, বরং নির্যাতনের পর হত্যা করা হয় তাকে। এ ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন তিশার ভাই।

তিশার ভাই রাজিব বলেন, ‘দেখা গেছে, ঝুলন্ত অবস্থায় পা একটা বিছানা থেকে একটু উঁচুতে ছিলো, আরেক পা বিছানার সাথে লাগানো। এটা স্বাভাবিক মৃত্যু নয়।’

এদিকে তিশার শ্বাশুড়ির দাবি, সকালে স্বাভাবিকভাবেই নাস্তা করেছে ছেলে ও বউ। যদিও তিশার মেয়ে তাসিন বলছে, রাতে দাদী ও বাবার মধ্যে ব্যবসার টাকা নিয়ে ঝগড়া হয়েছে।

আরও পড়ুন:

তিশার মেয়ে উমামা হোসেন তাসিন বলেন, ‘আমার দাদী ও আমার বাবার সঙ্গে ঝগড়া লেগেছে পারিবারিক বিষয় নিয়ে। এখানে আম্মুকে কিছু বলাও হয়নি। কেন এমন করলো বুঝতে পারছি না।’

তিশার শাশুড়ি হাসিনা বেগম বলেন, ‘চাবি আছে আমাদের রুমে। ওই চাবি দিয়ে দরজা খুলে দেখি এই অবস্থা।’

ক্যামেরায় কথা বলতে না চাইলেও তিশার শ্বশুর বাড়ির দাবি, মানসিকভাবে অসুস্থ ছিল তিশা। একাধিকবার ডাক্তার দেখানো হয়েছিলো।

এ ঘটনায় তিশার স্বামী মনিরের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে রাখা হয়ছে। পুলিশ বলছে, হত্যা না আত্মহত্যা সেটি ময়নাতদন্তের পর জানা যাবে।

ফোনে যোগাযোগ করা হলে লালবাগ পুলিশের উপ-পরিদর্শক দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘সেখানে দরজা আটকানো ছিলো, ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস। এখন ময়নাতদন্ত না হওয়া পর্যন্ত কিছু বলা যাবে না।’

অন্যদিকে, গত কয়েকদিন ধরেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হতাশাজনক পোস্ট দিচ্ছিলেন তিশা। প্রাইভেট করে রেখেছিলেন নিজের টিকটক অ্যাকাউন্ট।

এসএইচ