নারায়ণগঞ্জে ডোবা থেকে বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার

নারায়ণগঞ্জ
মরদেহের প্রতীকী
এখন জনপদে
অপরাধ
0

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ড্রেজারের তেল চুরির তথ্য মালিককে দেয়াকে কেন্দ্র করে আইয়ুব হোসেনকে (৩৫) হত্যা করা হয়েছে। হত্যার পর মরদেহ বস্তাবন্দি করে ডোবায় ফেলে গুমের চেষ্টা করা হয়। চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করে দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে সোনারগাঁ থানা পুলিশ। বিষয়টি জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী।

পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, গত ১৫ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টার দিকে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে সোনারগাঁ থানা পুলিশ সোনাপুর জালালাবাদ ওষুধ ফ্যাক্টরির পরিত্যক্ত ভাঙারি গোডাউনের পাশের একটি ডোবা থেকে বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করে। পরে মরদেহটি আইয়ুব হোসেনের বলে শনাক্ত করা হয়।

এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী মোছা. মাহফুজা আক্তার বাদী হয়ে সোনারগাঁ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে তদন্তে নামে পুলিশ।

এরই প্রেক্ষিতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোয়েন্দা তথ্যের সমন্বয়ে তদন্ত চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে জড়িত দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই আসামি হলেন— কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার মাস্টারপাড়া এলাকার মো. শাহিনুর ইসলাম (৩০) এবং সোনারগাঁয়ের কাঁচপুর উত্তরপাড়া এলাকার মো. জামির হোসেন (৫৭)।

আরও পড়ুন:

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে আরও জানান, মামলার আসামিদের একজন লিটন খানের বালুর ড্রেজারে চাকরি করতেন। ওই ড্রেজার থেকে একজন (তদন্তের স্বার্থে নাম প্রকাশ করেনি পুলিশ) তেল চুরি করার সময় আইয়ুব হোসেন বিষয়টি দেখতে পান।

পরে তিনি ড্রেজারের মালিককে ঘটনা জানিয়ে দেন। এ ঘটনায় ওই ব্যক্তির চাকরি চলে যায়। চাকরি হারানোর পর আইয়ুবের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে তার সঙ্গে শত্রুতা তৈরি হয় বলে জানায় পুলিশ।

প্রাথমিকভাবে পুলিশের ধারণা, চাকরিচ্যুত ওই ব্যক্তি গ্রেপ্তারকৃত শাহিন ও জামিরসহ আরও কয়েকজনকে নিয়ে আইয়ুবকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘটনার দিন ১০টি ইয়াবা ট্যাবলেট ও তিন হাজার ৫০০ টাকার বিনিময়ে সহযোগী শাহিনকে দিয়ে আইয়ুবকে তার ভাঙারির দোকানে প্রবেশ করানো হয়। সেখানে হাতুড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করে তাকে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহটি সাদা প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে ডোবায় ফেলে দেয়া হয়।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার শাহিনুর ইসলাম আদালতে হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।

হত্যাকাণ্ডে জড়িত মূল আসামি ও অন্য সহযোগীদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্রসহ অন্যান্য আলামত উদ্ধারে তদন্ত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে সোনারগাঁ থানা পুলিশ।

এসএস