গাজীপুরে মাদ্রাসায় শিশুকে নিপীড়নের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ২

পুলিশি হেফাজতে গ্রেপ্তার ২ জন
এখন জনপদে
অপরাধ
1

গাজীপুরের গাছা এলাকায় একটি আবাসিক কওমি মাদ্রাসায় আট বছর বয়সী এক ছেলে শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ওই শিক্ষকসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। মামলার পর বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) গ্রেপ্তার দুজনকে আদালতে পাঠানো হয়।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানার কলমেশ্বর এলাকার ডেঙ্গুর আলী সড়কে অবস্থিত দারুল হেদায়া কওমি মাদ্রাসার আবাসিক বিভাগে থেকে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়াশোনা করতো শিশুটি।

মামলার আসামিরা হলেন— মো. অলিউল্লাহ ইসলাম (২৩), মোহাম্মদ মিজান (৩৮) ও মো. আব্দুল কুদ্দুস শেখ (৪৫)। এজাহারে অলিউল্লাহ ইসলামকে মাদ্রাসাটির শিক্ষক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

শিশুটির মায়ের অভিযোগ, গত ৭ অক্টোবর ছেলেকে মাদ্রাসার আবাসিক বিভাগে রেখে আসার পর ১৩ অক্টোবর দুপুরে ছেলে বাসায় খেতে এলে গোসল করানোর সময় শরীরের একটি অংশে প্রচণ্ড ব্যথার কথা জানায়। পরে ব্যথার কারণ জানতে চাইলে শিশুটি তার সঙ্গে ঘটা নিপীড়নের কথা মাকে জানায়।

অভিযোগ রয়েছে, গত ১০ অক্টোবর রাতে শিশুটিকে ঘুম থেকে জাগিয়ে ভয়ভীতি ও প্রলোভন দেখিয়ে মাদ্রাসার স্টোররুমে নিয়ে যৌন নিপীড়ন করা হয়। একইভাবে ১১ ও ১২ অক্টোবর রাতেও তাকে নিপীড়নের অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি কাউকে জানালে মারধরের ভয় দেখানো হয়েছিল বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

শিশুটির মায়ের দাবি, ঘটনা জানার পর মাদ্রাসায় গিয়ে কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানালেও মাদ্রাসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুই ব্যক্তি অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করেন। পরে অভিযুক্ত শিক্ষককে কৌশলে মাদ্রাসা থেকে সরিয়ে দেয়া হয়।

এ ঘটনায় শিশুটিকে চিকিৎসা করানো হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। শিশুটির মা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং সন্তানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম রব্বানী বলেন, ‘এ ঘটনায় তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তাদের মধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।’

এসএইচ