পাঁচ দিন ধরে ডেঙ্গু আক্রান্ত শিশু ইরান শেখ মুগদা হাসপাতালে ভর্তি। প্লাটিলেট ১ লাখ ৮০ হাজার থেকে নেমে ৫৫ হাজারে। হাতে রিপোর্ট নিয়ে চিকিৎসকদের দ্বারে দ্বারে ছুটছেন উদ্বিগ্ন মা-বাবা। সন্তানের এমন আশঙ্কাজনক অবস্থায় দিশেহারা বাবা ফরিদ শেখ। সঙ্গে হাসপাতাল কর্মীদের ব্যবস্থাপনায় নিয়েও রয়েছে ক্ষোভ।
স্বজন ফরিদ শেখ বলেন, ‘হাসপাতালে ব্যবস্থাপনা ভালো না। ফলে আমরা অনেক ভোগান্তিতে পড়েছি।’
এদিকে বিছানায় সংকটাপন্ন খোরশেদ আলম। প্লাটিলেট নেমেছে ২০ হাজারে। রয়েছে শ্বাসকষ্ট। প্রিয়জনকে সুস্থ করতে পরীক্ষা, ওষুধ আর চিকিৎসকের পরামর্শের জন্য উদ্বিগ্ন স্বজনদের নিরন্তর ছোটাছুটি। অপর প্রান্তে তিন বছরের শিশু সানিম ও তার বাবা আমিনুল। শিশুর কিছুটা উন্নতি হলেও অবনতি হচ্ছে বাবার শারীরিক অবস্থার। একদিকে সন্তানের সুস্থতার আশা, অন্যদিকে বাবাকে নিয়ে শঙ্কা ও উৎকণ্ঠায় স্বজনরা।
এমন চিত্র শুধু মুগদা হাসপাতালে নয়, রাজধানীসহ দেশের সবকটি সরকারি বেসরকারি হাসপাতালেই একই চিত্র। ডেঙ্গু সংক্রমণ বাড়ার সঙ্গে প্রতিদিনই বাড়ছে রোগী, বাড়ছে মৃত্যু। চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৯৪ হাজারেরও বেশি মানুষ। প্রাণ হারিয়েছেন ২৯৪ জন।
একই পরিস্থিতি আরেক ভাইরাস হামেও। এ রোগে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত শিশুরা। একদিনে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৪ শিশুসহ মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৪৪ জনে।
ময়মনসিংহেও কোনোভাবেই থামছে না ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। মেডিকেলের ডেঙ্গু ওয়ার্ড তো দূরের কথা; বারান্দার মেঝেতেও জায়গা হচ্ছে না রোগীদের। একদিনের হিসাবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরো ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে ময়মনসিংহে ডেঙ্গুতে মৃত্যু দাঁড়ালো ২৯ জনে। নতুন করে ভর্তি হয়েছে ৫১ জন। মোট রোগী ভর্তি ১২৭ জন। ন্যাশনাল থেকে ফুটেজ নেবেন
বিশ্লেষকরা বলছেন, চলতি মাসে আরো অবনতি হতে পারে ডেঙ্গু পরিস্থিতির। আগামী নভেম্বরেও কমবে না রোগী। হাসপাতালের চাপ কমাতে চিকিৎসার পাশাপাশি মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা জোরদার করাই এখন সবচেয়ে জরুরি।





