ইরান যুদ্ধে কংগ্রেসের অনুমতির তোয়াক্কা নেই ট্রাম্প প্রশাসনের, সময়সীমা নিয়ে নতুন অজুহাত হেগসেথের

পিট হেগসেথ
বিদেশে এখন
0

ভিয়েতনাম যুদ্ধ-পরবর্তী ‘ওয়ার পাওয়ারস অ্যাক্ট’ অনুযায়ী, ৬০ দিনের বেশি সময় সামরিক অভিযান চালাতে হলে মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদন নিতে হয়। সেই সময়সীমা আজ (শুক্রবার, ১ মে) শেষ হওয়ার কথা থাকলেও মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতির কারণে এই গণনা ‘স্থগিত’ রয়েছে। ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে এ নিয়ে বিস্তারিত তথ্য উঠে এসেছে।

বৃহস্পতিবার সিনেট আর্মড সার্ভিসেস কমিটির শুনানিতে হেগসেথ বলেন, ‘ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর আছে, তা ৬০ দিনের কাউন্টডাউন থামিয়ে দিয়েছে।’ তবে ট্রাম্প প্রশাসন কংগ্রেসের অনুমোদন চাইবে কি না—এ প্রশ্নে তিনি সরাসরি কিছু বলেননি। বিষয়টি হোয়াইট হাউসের ওপর ছেড়ে দেন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরাইলের সঙ্গে যৌথভাবে ইরানে হামলা শুরুর আগে কংগ্রেসের অনুমোদন নেয়নি ট্রাম্প প্রশাসন। ওয়ার পাওয়ারস অ্যাক্ট অনুযায়ী শুক্রবার সেই ৬০ দিনের সময়সীমা শেষ হচ্ছে। হোয়াইট হাউস এক বিবৃতিতে জানায়, তারা কংগ্রেসের সঙ্গে ‘সক্রিয় আলোচনা’ চালাচ্ছে এবং প্রেসিডেন্টের সাংবিধানিক ক্ষমতা খর্বের যে কোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে সতর্ক করেছে।

শুনানিতে রিপাবলিকান সিনেটর রজার উইকার বলেন, ‘তিনি ৬০ দিনের সময়সীমা নিয়ে খুব বেশি উদ্বিগ্ন নন। তবে ডেমোক্র্যাটরা তীব্র সমালোচনা করেন।’ অ্যারিজোনার সিনেটর মার্ক কেলি বলেন, ‘এই যুদ্ধ অচলাবস্থায় আটকে আছে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ, ইরানি শাসনব্যবস্থা বহাল।’

পরে সিনেটে যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাব ৫০-৪৭ ভোটে নাকচ হয়। যদিও রিপাবলিকান সিনেটর সুসান কলিন্স ও র‌্যান্ড পল প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দেন। কলিন্স বলেন, ‘প্রেসিডেন্টের ক্ষমতারও সীমা আছে। ওয়ার পাওয়ারস অ্যাক্টের সময়সীমা কোনো পরামর্শ নয়, এটি বাধ্যতামূলক।’

শুনানিতে হেগসেথের সাম্প্রতিক জনবল সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। নৌবাহিনীর সচিব জন ফেলানকে অপসারণ এবং আর্মি চিফ অব স্টাফ জেনারেল র‌্যান্ডি জর্জকে আগাম অবসরে পাঠানোর বিষয়টি নিয়ে রিপাবলিকানরাও অসন্তোষ প্রকাশ করেন। হেগসেথ বলেন, ‘পদায়নে কেবল ‘‘যোগ্যতা’’ বিবেচনা করা হচ্ছে।’

এদিকে পেন্টাগনের ভারপ্রাপ্ত কম্পট্রোলার জুলস ডব্লিউ হার্স্ট জানান, ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে ইরান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে ভবিষ্যৎ সামরিক অবস্থান অনিশ্চিত থাকায় ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ হিসাব দেয়া কঠিন বলে জানান তিনি।

ট্রাম্প প্রশাসন ১ লাখ ৫০ হাজার কোটি ডলারের রেকর্ড প্রতিরক্ষা বাজেট প্রস্তাব করেছে, যা রিপাবলিকানরা সমর্থন করলেও ডেমোক্র্যাটরা এটিকে অযৌক্তিক বলে সমালোচনা করছেন। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেয়া এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধের দাবি জানিয়েছে ওয়াশিংটন। তবে তেহরান বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার না করলে তারা কোনো প্রতিশ্রুতি দেবে না।

এএম