তবে ইরান শুরু থেকেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। তেহরানের দাবি, তাদের পরমাণু কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও বেসামরিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত। বিশেষ করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ৩ থেকে ৫ শতাংশ মাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম প্রয়োজন হয়। অন্যদিকে, পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য ইউরেনিয়ামকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ করতে হয়।
জাতিসংঘের পরমাণু পর্যবেক্ষণ সংস্থার তথ্যমতে, ইরানের কাছে বর্তমানে ৬০ শতাংশ মাত্রায় সমৃদ্ধ প্রায় ৪৪০ কেজি ইউরেনিয়াম মজুত রয়েছে। তাত্ত্বিকভাবে, এই মজুতকে আরও পরিশোধিত করা হলে অন্তত ১০ থেকে ১১টি প্রাথমিক পর্যায়ের পারমাণবিক বোমা তৈরি করা সম্ভব। ইরান অবশ্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করতে নারাজ। তাদের যুক্তি, এনপিটি চুক্তি অনুযায়ী স্বাক্ষরকারী সব দেশেরই জ্বালানি, ওষুধ ও শিল্প খাতে ব্যবহারের জন্য শান্তিপূর্ণভাবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অধিকার রয়েছে।
এর আগে ২০১৫ সালে ওবামা প্রশাসনের আমলে ছয় বিশ্বশক্তির সঙ্গে ইরানের একটি ঐতিহাসিক পরমাণু চুক্তি হয়েছিল। সেখানে নিষেধাজ্ঞার বদলে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাত্রা ৩ দশমিক ৬৭ শতাংশে সীমাবদ্ধ রাখতে রাজি হয়েছিল তেহরান। তবে ২০১৮ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে সেই চুক্তিকে ‘ত্রুটিপূর্ণ’ আখ্যা দিয়ে সেখান থেকে বেরিয়ে যান। তার দাবি ছিল, ওই চুক্তি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বা আঞ্চলিক প্রভাব মোকাবিলায় ব্যর্থ হয়েছে।





