যুদ্ধ বন্ধে সমঝোতার ‘কাছাকাছি’ যুক্তরাষ্ট্র-ইরান

তেহরানের রাস্তায় ইসরাইল বিরোধী দেয়ালচিত্রের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন এক ইরানি নারী
বিদেশে এখন
1

পারস্য উপসাগরের যুদ্ধ বন্ধে এক পৃষ্ঠার একটি সমঝোতা স্মারকের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে বলে জানিয়েছেন আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পাকিস্তানি একটি সূত্র। মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের এই সূত্রের দাবি, আলোচনায় দ্রুত অগ্রগতি হচ্ছে এবং খুব শিগগিরই সমঝোতা হতে পারে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

এর আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানায়, যুদ্ধ বন্ধে ১৪ দফার একটি সমঝোতা স্মারক নিয়ে দুই পক্ষের আলোচনা চলছে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, সমঝোতার আওতায় ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে সাময়িক বিরতিতে সম্মত হতে পারে। বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা শিথিল করবে, ইরানের জব্দকৃত কয়েক শ কোটি ডলার ছাড় করবে এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে দুই পক্ষই বিধিনিষেধ কমাবে।

পাকিস্তানি সূত্রটি বলেছে, গত মাসে একমাত্র শান্তি আলোচনা আয়োজনের পর থেকে ইসলামাবাদ দুই পক্ষের মধ্যে প্রস্তাব আদান-প্রদান অব্যাহত রেখেছে। এই সম্ভাব্য সমঝোতার খবরে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ৮ শতাংশের বেশি কমে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১০০ ডলারে নেমে আসে। শেয়ারবাজারেও ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে।

অ্যাক্সিওসের তথ্য অনুযায়ী, এক পৃষ্ঠার এই ১৪ দফার সমঝোতা স্মারকটি কার্যকর হলে অঞ্চলজুড়ে যুদ্ধের ইতি টানা হবে এবং পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে বিস্তারিত চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলবে। সেই আলোচনায় হরমুজ প্রণালি খুলে দেয়া, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিষয়গুলো থাকবে।

এই ৩০ দিনের মধ্যে ধাপে ধাপে প্রণালিতে ইরানের বিধিনিষেধ এবং ইরানি বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নৌ অবরোধ শিথিল হতে পারে। তবে আলোচনা ভেঙে গেলে যুক্তরাষ্ট্র আবারও অবরোধ জোরদার বা সামরিক অভিযান শুরু করতে পারবে।

এই অগ্রগতির মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া জাহাজ সরিয়ে নেয়ার ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ সাময়িকভাবে স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনায় ‘ব্যাপক অগ্রগতি’ হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে রয়টার্সের প্রশ্নের জবাব দেয়নি হোয়াইট হাউস, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বা ইরানি কর্তৃপক্ষ।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি চীন সফরকালে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য নিয়ে কিছু বলেননি। তবে তিনি আবারও বলেছেন, তেহরান কেবল ‘ন্যায্য ও পূর্ণাঙ্গ চুক্তি’ই গ্রহণ করবে।

এএম