যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের বিমান ও নৌ সেনারা যৌথ হামলা পর ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শক্তি দেখেছে গোটা দুনিয়া। ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে তছনছ হয়েছে ইসরাইলসহ উপসাগরীয় বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন লক্ষ্যবস্তু। ওয়াশিংটন-তেহরানের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিতে মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক উত্তেজনার আঁচ পৃথিবী জুড়ে ছড়িয়ে পড়ায়; পাল্লা দিয়ে বাড়ছে অস্ত্রের ঝনঝনানিও। বিশ্বে বাড়ছে সমরাস্ত্র শিল্পের প্রতিযোগিতা।
তুরস্ক
পারমাণবিক ও আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের প্রতিযোগিতা বাড়ছে উদ্বেগজনকহারে। এবার প্রথমবারের মতো আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র সামনে আনল তুরস্ক। ইস্তাম্বুলে আয়োজিত 'সাহা ২০২৬' প্রতিরক্ষা প্রদর্শনীতে এটি উন্মোচন করা হয়। যার নাম দেয়া হয়েছে ইলদিরিমহান। এটি শব্দের চেয়েও ২৫ গুণ দ্রুতগতিতে চলতে সক্ষম। ৬ হাজার কিলোমিটার পাল্লার হওয়ায়; এটি ইউরোপ, এশিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চল এবং আফ্রিকার কিছু এলাকায় আঘাত হানতে সক্ষম। এর মধ্য দিয়ে নিজেদের প্রতিরক্ষা শিল্পকে সম্প্রসারিত করার ইঙ্গিত দিলো তুরস্ক।
রাশিয়া
আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্রের দিক দিয়ে এগিয়ে রাশিয়ার অস্ত্র ভাণ্ডার। বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘ পাল্লার আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে দেশটিতে। এরমধ্যে আরএস-২৮ সারমাত ক্ষেপণাস্ত্রটি ১৮ হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।পশ্চিমা বিশ্ব এটিকে 'শয়তান-২' নামে ডাকে। এছাড়া সোভিয়েত ইউনিয়নের সময় থেকেই ১৬ হাজার কিলোমিটার পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র আছে রাশিয়ার ভাণ্ডারে। পশ্চিমারা এটির নাম দিয়েছে SS-18 শয়তান। মস্কোর দুটি ক্ষেপণাস্ত্রই বিশ্বের যেকোনো লক্ষ্যবস্তুতে পারমাণবিক ওয়ারহেড দিয়ে আঘাত হানতে সক্ষম।
উত্তর কোরিয়া
দ্বিতীয় অবস্থানে উত্তর কোরিয়া। দেশটির নতুন ও শক্তিশালী আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের আনুমানিক পাল্লা ১৫ হাজার কিলোমিটার। যা হোয়াসং-২০ নামে পরিচিত। ২০২৫ সালের অক্টোবরে এর তথ্য সামনে আসে। এটি যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো শহরে আঘাত হানতে সক্ষম বলে দাবি পিয়ংইয়ং-এর।
ইরান
ইরানেও আছে আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। ২০২৬ সালে শুরুতে এর পরীক্ষাও চালানো হয়। তেহরানের আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রটি ১০ হাজার কিলোমিটার দূরে আঘাত হানতে সক্ষম। অর্থাৎ, যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলে আঘাত হানতে সক্ষম এটি। এর আগে ৩ থেকে ৪ হাজার কিলোমিটার পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে তেহরানের ভাণ্ডারে। যা ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোর জন্য বড় হুমকি। ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলকে এসবের শক্তি দেখিয়েছে ইরান।
বিশ্বের ক্ষমতাধর দেশ হিসেবে পরিচিত যুক্তরাষ্ট্রের ভাণ্ডারে থাকা প্রধান আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রটিও ১০ হাজার কিলোমিটারের বেশি দূরে নির্ভুলভাবে আঘাত হানতে সক্ষম। যা ঘণ্টায় হাজার মাইলের বেশি গতিতে চলতে পারে। এছাড়া সাড়ে পাঁচ হাজার দূরে আঘাত হানতে সক্ষম একাধিক আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র আছে চীনের ভাণ্ডারে। এমনকি ইউরোপের অনেক দেশেও আছে আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র।





