যুদ্ধ শুরুর সময় ধারণা করা হয়েছিল, সমন্বিত বোমা হামলার মাধ্যমে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এবং পারমাণবিক কর্মসূচিকে মারাত্মকভাবে দুর্বল করা যাবে। এতে তেহরানের ক্ষমতার কাঠামো ভেঙে পড়বে এবং একটি অনুগত সরকার প্রতিষ্ঠার সুযোগ তৈরি হবে। তবে দুই মাস পরও এমন কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি।
বরং ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক কাঠামো ভেঙে পড়ার বদলে আরও সুশৃঙ্খল হয়েছে বলে পর্যবেক্ষকদের অনেকে মনে করছেন। সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয় ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ঐক্য জোরদার হয়েছে। বাহ্যিক হামলার মুখে জনমতও সরকারের পক্ষে সংহত হয়েছে।
যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই প্রণালির মাধ্যমে বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের উল্লেখযোগ্য অংশ পরিবাহিত হয়। সংঘাত আরও বাড়লে তেল ও গ্যাস অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে, যার প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
সামরিক প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও ব্যয়-সুবিধার হিসাব বদলে গেছে বলে বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে। তুলনামূলক কম খরচে তৈরি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ইরান উচ্চমূল্যের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারছে। এতে সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় বহুগুণ বাড়বে।
এদিকে কূটনৈতিক প্রচেষ্টাও থেমে নেই। তিন দিনের যুদ্ধবিরতি এবং বন্দিবিনিময়ের ঘোষণা ইঙ্গিত দিচ্ছে, সংঘাতের স্থায়ী সমাধানের পথ খোঁজা হচ্ছে। তবে এখনো ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক প্রভাব ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নিয়ে মূল বিরোধ অমীমাংসিত রয়ে গেছে।
বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি যুদ্ধ-পূর্ব অবস্থার কাছাকাছি ফিরে যেতে পারে, যদিও কিছু বাস্তবতা বদলে যাবে। হরমুজ প্রণালিতে ইরানের প্রভাব বাড়তে পারে এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি সীমিত হতে পারে।
তবে এই মূল্যায়ন একপাক্ষিক বিশ্লেষণের ওপর ভিত্তি করে তৈরি—এ কথাও উল্লেখ করা হচ্ছে। বাস্তব পরিস্থিতি নির্ভর করবে চলমান সামরিক ও কূটনৈতিক পদক্ষেপের ওপর।





