জিসিসিভুক্ত দেশগুলো হলো—বাহরাইন, কুয়েত, ওমান, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত। গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পর থেকে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে এবং জ্বালানি ও খাদ্য সরবরাহে যে সংকট দেখা দিয়েছে, তার মধ্যেই এই গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিটি হলো। যুক্তরাজ্যের বাণিজ্যমন্ত্রী পিটার কাইল বলেন, ‘অস্থিতিশীলতার এই সময়ে আজকের এই ঘোষণা এক আস্থার বার্তা দিচ্ছে। এটি ব্রিটিশ রপ্তানিকারকদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নিশ্চয়তা দেবে।’
ব্রিটিশ সরকারের মতে, এই চুক্তির মাধ্যমে দীর্ঘ মেয়াদে প্রতিবছর ৩৭০ কোটি পাউন্ড (প্রায় ৫০০ কোটি ডলার) আয় হবে, যা আগের পূর্বাভাসের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি। চুক্তির ফলে ব্রিটিশ পণ্যের ওপর থেকে জিসিসিভুক্ত দেশগুলোর ৯৩ শতাংশ ট্যারিফ বা শুল্ক প্রত্যাহার করা হবে। বিশেষ করে গাড়ি, মহাকাশ গবেষণা, ইলেকট্রনিকস এবং খাদ্য ও পানীয় খাত এই চুক্তিতে সরাসরি লাভবান হবে।
ব্রিটিশ খাদ্যপণ্য যেমন সিরিয়াল, চিজ, চকলেট ও মাখন এখন থেকে সেখানে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে। এর বিনিময়ে যুক্তরাজ্যও জিসিসিভুক্ত দেশগুলোর জন্য শুল্ক কমিয়ে আনবে। যদিও ওই অঞ্চল থেকে লন্ডনে রপ্তানি হওয়া প্রধান দুটি পণ্য তেল ও গ্যাসের ওপর আগে থেকেই কোনো শুল্ক নেই।
জিসিসি মহাসচিব জাসেম মোহামেদ আলবুদাইউই এক বিবৃতিতে জানান, এই চুক্তি সাতটি দেশের ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী ও নাগরিকদের জন্য দৃশ্যমান অর্থনৈতিক সুবিধা বয়ে আনবে। পণ্য ও সেবা খাতের পাশাপাশি ডিজিটাল বাণিজ্য, বিনিয়োগ সুরক্ষা এবং টেলিযোগাযোগও এই চুক্তির অন্তর্ভুক্ত। তবে এই চুক্তিতে মানবাধিকার বা পরিবেশ রক্ষাসংক্রান্ত কোনো শর্ত যুক্ত না করায় সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
হিউম্যান রাইটস ক্যাম্পেইনাররা সতর্ক করে বলেছিলেন যে, বাণিজ্যের লোভে মানবাধিকারের বিষয়টি উপেক্ষা করা ঠিক হবে না। ট্রেড জাস্টিস মুভমেন্টের পরিচালক টম উইলস বলেন, ‘মানবাধিকার সুরক্ষার কোনো শর্ত না রেখে যুক্তরাজ্য নৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়ল।’ এছাড়া চুক্তিতে থাকা বিনিয়োগকারী-রাষ্ট্র বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থারও সমালোচনা করেছেন তিনি।





