যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড দেয়ার প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনলো ট্রাম্প প্রশাসন

ইউএস হোমল্যান্ড সিকিউরিটির লোগো
বিদেশে এখন
0

যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বিদেশিদের গ্রিন কার্ড পেতে হলে এখন থেকে নিজ দেশে ফিরে আবেদন করতে হবে। দেশটির নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা ইউএসসিআইএস নতুন এ নীতি ঘোষণা করেছে। এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে মানবাধিকার ও সহায়তাকারী সংগঠনগুলো।

অভিবাসন ব্যবস্থা আরও কঠোর করলো যুক্তরাষ্ট্র। এবার গ্রিন কার্ড দেয়ার প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনলো ট্রাম্প প্রশাসন। এ আওতায় আগের মতো যুক্তরাষ্ট্রে থেকে স্থায়ীভাবে বসবাসের আবেদন করতে পারবেন না অস্থায়ী ভিসাধারীরা। অর্থাৎ মার্কিন গ্রিন কার্ড পাওয়ার জন্য নিজ দেশে ফিরে আবেদন করতে হবে অভিবাসন প্রত্যাশীদের। স্থানীয় সময় শুক্রবার নতুন এ নির্দেশনা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা বিভাগ- ইউএসসিআইএ।

এই নীতি অভিবাসন ব্যবস্থার ফাঁকফোকর বন্ধ করতে এবং আইন অনুযায়ী কাজ পরিচালনা করতে সাহায্য করবে করবে বলে দাবি মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের। ৬০ বছরেরও বেশি সময় ধরে অপরিবর্তিত ছিলো মার্কিন গ্রিন কার্ড প্রক্রিয়া। ক্যাটো ইনস্টিটিউটের তথ্য বলছে, ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন নীতিতে অনিশ্চয়তায় পড়বে ১০ লাখেরও বেশি অভিবাসী। যারা গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করে এরই মধ্যেই অপেক্ষায় রয়েছেন। নিঃসন্দেহে এ তালিকায় রয়েছেন আছেন বহু বাংলাদেশিও।

আরও পড়ুন:

ইউএসসিআইএসের নতুন নীতির ফলে, এরই মধ্যে যারা গ্রিন কার্ডের আবেদন করেছেন; তাদেরও প্রক্রিয়া চলাকালীন অবস্থায় নিজ দেশে ফেরার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এমনটা হলে বড় ধরণের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। কারণ নিজ দেশে ফিরতে হলে, গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের অনির্দিষ্টকালের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে থাকা চাকরি ছাড়তে হবে। এছাড়া অনেক পরিবারের সদস্যদের আলাদা হয়ে যেতে হবে; কারণ এমনও পরিবর আছে, যাদের কোনো সদস্য গ্রিনকার্ড পেয়েছে আবার কারোরটা প্রক্রিয়াধীন।

এমন পরিস্থিতিতে গ্রিন কার্ড নিয়ে নতুন মার্কিন সিদ্ধান্তে কড়া সমালোচনা করেছে অভিবাসী ও শরণার্থীদের সহায়তাকারী সংস্থা ‘হায়াস’ । তাদের দাবি, এই অমানবিক নিয়মের মাধ্যমে মানব পাচারের শিকার ব্যক্তি এবং চরম নির্যাতন ও অবহেলার শিকার শিশুদের বিপজ্জনক দেশে ফিরে যেতে বাধ্য করা হচ্ছে। যারা মানবাধিকার পাওয়ার আসায় পালিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলো।

অভিবাসন ব্যবস্থা কঠোর করার লক্ষ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের নেয়া ধারাবাহিক পদক্ষেপগুলোর মধ্যে এটি সর্বশেষ সংযোজন। এর আগে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে বিতর্কের মুখে পড়ে ট্রাম্প প্রশাসন। অভিবাসী বিরোধী আইন প্রয়োগকারী সংস্থা- আইস সদস্যদের গুলিতে অনেকের প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযানে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে হাজার খানেক শরণার্থীকে।

শুধু তাই নয়, ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর এক বছরে ১ লাখেরও বেশি ভিসা বাতিল করে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। এছাড়া গত বছর শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচিতে আসা দর্শনার্থী এবং গণমাধ্যম কর্মীদের ভিসার মেয়াদ কমিয়ে দেয় ট্রাম্প প্রশাসন।

এফএস