গতকাল (বৃহস্পতিবার, ৪ জুন) আরব ও মুসলিম দেশগুলোর রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রিয়াদ মনসুর বলেন, ‘আমি জানি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সক্ষম। পুরো অঞ্চলকে অস্থিরতা থেকে রক্ষা করতে এবং শান্তি ও ন্যায়ের পথে এগিয়ে নিতে নেতানিয়াহুকে থামানোর ক্ষমতা তার আছে। এ কারণেই আমাদের অধিকাংশ দেশ তার সাথে কাজ করছে।’ তিনি আরও যোগ করেন, ট্রাম্প সম্প্রতি নেতানিয়াহুকে লেবাননে ‘পাগলামি’ বন্ধ করতে বলেছেন এবং এটিও মনে করিয়ে দিয়েছেন যে জমি দখল করার অনুমতি তার নেই।
জাতিসংঘের আরব গ্রুপও এই আহ্বানে একাত্মতা প্রকাশ করে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের আগ্রাসন ও সামরিক সহিংসতার বিরুদ্ধে ‘গভীর উদ্বেগ’ প্রকাশ করেছে। সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত আবদুল আজিজ আলওয়াসিল এই জোটের পক্ষ থেকে বলেন, ইসরাইল পরিকল্পিতভাবে ফিলিস্তিনিদের অধিকার হরণ করছে এবং ভূখণ্ড দখলের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় বরং ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বাধীনতার সম্ভাবনা চিরতরে মিটিয়ে দেয়ার একটি সমন্বিত কৌশল।
একই সাথে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থাও (ওআইসি) পশ্চিম তীর ও গাজায় ইসরাইলি দখলদারিত্ব বন্ধের দাবি জানিয়েছে। ওআইসির পক্ষ থেকে তুরস্কের উপ-রাষ্ট্রদূত ফিকরিয়ে আসলি গুভেন নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, পূর্ব জেরুজালেমসহ অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে জোরপূর্বক উচ্ছেদ ও অবৈধ বসতি স্থাপন বন্ধে অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
১৯৬৭ সালের আরব-ইসরাইল যুদ্ধের সময় পশ্চিম তীর, পূর্ব জেরুজালেম ও গাজা দখল করে নেয় ইসরাইল। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী এসব এলাকা ‘অধিকৃত ভূখণ্ড’ হিসেবে স্বীকৃত এবং সেখানে যেকোনো ধরনের ইহুদি বসতি স্থাপন সম্পূর্ণ অবৈধ। বর্তমানে অধিকৃত পশ্চিম তীরে প্রায় ৩০ লাখ ফিলিস্তিনির পাশাপাশি প্রায় ৬ লাখ অবৈধ ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারী বসবাস করছে। ফিলিস্তিনিদের অভিযোগ, ইসরাইল পরিকল্পিতভাবে জেরুজালেমের ইসলামি পরিচয় মুছে দিয়ে সেটিকে ‘জুডাইজেশন’ বা ইহুদিকরণের চেষ্টা চালাচ্ছে।





