ইরানের সম্পদ জব্দ করার ছক যুক্তরাষ্ট্রের, ক্ষুব্ধ তেহরান

তেহরান ব্যস্ত সড়কে ইমাম খামেনি ব্যানার
বিদেশে এখন
0

উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর পুনর্গঠন ও ক্ষয়ক্ষতি মেরামতের কাজে ইরানের সম্পদ ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এক সূত্র জানিয়েছে, ইরানের চালানো হামলায় যে ক্ষতি হয়েছে তা মেরামতের ব্যয় নির্ধারণে একটি দলকে নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। ভবিষ্যতে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির ক্ষেত্রেও ইরানি সম্পদ ব্যবহার বিবেচনায় নেয়া হবে বলে জানান তিনি। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

এই তথ্য এমন সময়ে প্রকাশিত হলো, যখন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মুজতবা খামেনির উপদেষ্টা মোহসেন রেজায়ি সিএনএনকে বলেছেন, যুদ্ধ বন্ধে সম্ভাব্য শান্তিচুক্তি নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্রে জব্দ করা ২৪ বিলিয়ন ডলারের ইরানি সম্পদ মুক্তির ওপর।

এদিকে শনিবার এক মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের একজন মন্ত্রী তেহরানে সফর করেন। তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মুজতবা খামেনির কাছে একটি চিঠি নিয়ে যান বলে দেশটির আধা-সরকারি আইএসএনএ জানিয়েছে।

একই সময় কুয়েত ও বাহরাইনে ইরানের হামলা এবং পাল্টা উত্তেজনায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। মার্কিন সেন্টকম জানায়, শনিবার ভোরে তারা ইরানের গোড়ুক ও কেশম দ্বীপে রাডার স্থাপনায় হামলা চালায়। হরমুজ প্রণালিতে সামুদ্রিক চলাচলের জন্য হুমকি তৈরি করা ড্রোনও তারা ধ্বংস করে।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী পরে জানায়, ওই প্রণালিতে হুমকি তৈরি করা আরও দুটি ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা কুয়েত ও বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। কুয়েতের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা আবাসিক এলাকার ওপর দিয়ে যাওয়া সাতটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে, যাতে কোনো প্রাণহানি না হলেও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

বাহরাইনে সাইরেন বেজে ওঠে এবং বাসিন্দাদের আশ্রয় নিতে বলা হয়। দুই দেশই হামলার নিন্দা জানিয়েছে। পরে ইরান দাবি করে, তারা কুয়েত ও বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানায়, ছয়টি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে এবং একটি লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছায়নি।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান তৃতীয় মাসে প্রবেশ করা যুদ্ধ থামাতে আংশিক সমঝোতার জন্য পরোক্ষ আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে অগ্রগতি না হওয়ায় পরিস্থিতি অচলাবস্থায় রয়েছে। তেহরান চাইছে তেল রপ্তানির আয় থেকে বিলিয়ন ডলারে প্রবেশাধিকার, নিষেধাজ্ঞা শিথিল, বন্দর অবরোধ প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালিতে প্রভাব বিস্তার।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এনবিসি নিউজকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন সক্ষমতার বড় অংশ ধ্বংস হলেও এখনো তাদের কাছে প্রায় ২১ থেকে ২২ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র মজুত রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘তাদের কিছু ক্ষেপণাস্ত্র আছে, কিছু ড্রোন আছে। প্রথম দিকের তুলনায় প্রায় ২১ থেকে ২২ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র তাদের হাতে আছে।’

সংঘাতের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়েছে এবং মুদ্রাস্ফীতির চাপ তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় তেল উৎপাদনকারী জোট ওপেক প্লাস উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে।

এদিকে লেবানন থেকে ইসরাইলের ভূখণ্ডে দুটি প্রজেক্টাইল প্রবেশ করেছে বলে দেশটির সেনাবাহিনী জানিয়েছে। এর একদিন আগে দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি হামলায় দুই সেনা কর্মকর্তা ও এক সেনাসদস্য নিহত হয় বলে জানায় লেবানন।

এএম