ট্রাম্প প্রশাসন যখন বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধিকারী জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর নীতি গ্রহণ করেছে, ঠিক তখনই জলবায়ু সংকটের কারণে সৃষ্ট ঝড়, বন্যা ও খরার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে লাখ লাখ মানুষ নিজেদের আবাসভূমি ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে। গার্ডিয়ানের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ট্রাম্প প্রশাসন যে ৩৯টি দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে পুরোপুরি বা আংশিক কড়াকড়ি আরোপ করেছে, তার মধ্যে ২২টি দেশই জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশের তালিকায় রয়েছে।
নটর ডেম গ্লোবাল অ্যাডাপটেশন ইনিশিয়েটিভের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের সবচেয়ে জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দুই দেশ চাদ ও নাইজারের অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে এখন পুরোপুরি নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। এছাড়া সুদান, সোমালিয়া ও সিয়েরা লিওনের মতো চরম ঝুঁকিপূর্ণ দেশের নাগরিকদের ওপরও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই নিষেধাজ্ঞা ‘কট্টর ইসলামি সন্ত্রাসীদের’ দেশের বাইরে রাখবে।
জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, গত এক দশকে বিশ্বজুড়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে প্রায় ২৫ কোটি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাস্তুচ্যুতদের আশ্রয়ের জন্য বর্তমানে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক পথ নেই। মার্কিন আইন বা ১৯৫১ সালের জাতিসংঘের শরণার্থী সনদে পরিবেশগত দুর্যোগকে অন্য দেশে আশ্রয়ের কারণ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়নি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের এসব কর্মকাণ্ডে বিশ্বে বাস্তুচ্যুতির ঝুঁকি আরও বাড়বে। এর পাশাপাশি ইলন মাস্কের পরিকল্পনায় ইউএসএআইডির তহবিলে যে কাটছাঁট করা হয়েছে, তার প্রভাবে সাব-সাহারান আফ্রিকার মতো অঞ্চলে আগামী পাঁচ বছরে প্রায় ৪৫ লাখ শিশুর মৃত্যু হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। শরণার্থী বিষয়ক সংস্থাগুলো মনে করছে, ট্রাম্পের এই নিষ্ঠুর ও অমানবিক নীতি মানুষকে আরও বিপদে ফেলবে।





