পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান এক নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে বলেন, 'মিন জিন গুপ্তচরবৃত্তি এবং চীনের জাতীয় নিরাপত্তা বিপন্ন করার সন্দেহে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইন অনুযায়ী তাকে ফৌজদারি আটকাদেশে রেখেছে।' তিনি আরও জানান, এ বিষয়ে দক্ষিণ চীনের গুয়াংজুতে মার্কিন কনসুলেট জেনারেলকে অবহিত করা হয়েছে।
ঘটনার সঙ্গে পরিচিত তিনটি সূত্র জানিয়েছে, মিয়ানমার বিষয়ক ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড পলিসির (আইএসপি-মিয়ানমার) নির্বাহী পরিচালক মিন জিন দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের কুনমিং শহরে উড়ে আসার পর তাকে আটক করা হয়েছে। সূত্রগুলো জানায়, 'মিন জিনকে প্রায় দুই সপ্তাহ আগে কুনমিং বিমানবন্দরে গ্রেপ্তার করা হয়।' বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় তারা নাম প্রকাশে রাজি হননি। এ বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এবং আইএসপি-মিয়ানমার তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।
মিন জিন মিয়ানমারের ১৯৮৮ সালের গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন। পরে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, বার্কলে থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে পড়াশোনা করেন। তিনি আইএসপি-মিয়ানমার প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করেছিলেন। ২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানে নোবেলজয়ী অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারকে উৎখাতের পর থিংক ট্যাংকটি মিয়ানমার থেকে বিদেশে স্থানান্তরিত হয়। ওই অভ্যুত্থানের পর মিয়ানমারে দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধ শুরু হয়, যা আইএসপি-মিয়ানমার ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করে আসছে।
চীন মিয়ানমারের নতুন প্রশাসনকে প্রকাশ্যে সমর্থন দিয়ে আসছে। ব্যাপকভাবে সমালোচিত একটি নির্বাচনের পর সামরিক প্রধান মিন অং হ্লাইং প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেন। ওই নির্বাচনে সু চির রাজনৈতিক দলসহ প্রধান বিরোধী দলগুলোকে বাদ দেয়া হয়েছিল।
উল্লেখ্য, গত মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেইজিং সফরের পর দুই দেশ তাদের টানাপোড়েনমূলক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে মিন জিনের গ্রেপ্তার নতুন উত্তেজনা তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।





