গতকাল (বৃহস্পতিবার, ১১ জুন) হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, 'ইরানের সাথে যুদ্ধে আমরা একটি দুর্দান্ত সমঝোতায় পৌঁছেছি।' তিনি জানান, 'চুক্তি স্বাক্ষরের সাথে সাথেই হরমুজ প্রণালি আনুষ্ঠানিকভাবে খুলে দেয়া হবে। সই হতে পারে খুব শিগগির, হয়তো ইউরোপে এই সপ্তাহান্তেই।' ট্রাম্প আরও জানান, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মুজতবা খামেনি চুক্তি অনুমোদন করেছেন কি না জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, 'আমার জানামতে উত্তর হ্যাঁ।' তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি বলেছেন, চুক্তির বড় অংশ চূড়ান্ত হলেও ইরান তার 'লাল রেখায়' আপোস করবে না। তিনি বলেন, 'আমরা এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাইনি। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়, যা এখন সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী সংস্থাগুলো পর্যালোচনা করছে।'
শান্তি চুক্তির সম্ভাবনায় এশিয়ার শেয়ারবাজারে শক্তিশালী ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে এবং তেলের দাম দুই মাসের মধ্যে সর্বনিম্নে নেমেছে। তবে হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। মার্কিন বাহিনী ইরানের দুটি ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করেছে। এছাড়া ইরানের সামরিক বাহিনী একটি ট্যাঙ্কারকে প্রণালি দিয়ে যেতে বাধা দিয়েছে বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
ট্রাম্প বলেছেন, যেকোনো শান্তি চুক্তিতে ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথ বন্ধ করতে হবে। একটি প্রচারণা অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, 'মূল বিষয় হলো ইরানে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না। এর মানে না তৈরি করা, না কেনা।' অন্যদিকে ইরান দাবি করছে, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, হিমায়িত সম্পদ মুক্তি এবং হরমুজ প্রণালিতে তাদের নিয়ন্ত্রণের স্বীকৃতি দিতে হবে।
ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেছেন, ইসরাইল, সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ একাধিক দেশ এই চুক্তি অনুমোদন করেছে। তবে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার 'সমঝোতা স্মারকে' তেল আবিব পক্ষভুক্ত নয়। নেতানিয়াহু অবশ্য ট্রাম্পের সেই প্রতিশ্রুতিকে সাধুবাদ জানিয়েছেন যে চূড়ান্ত চুক্তিতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিরস্ত্র করা এবং আঞ্চলিক প্রক্সিদের সহায়তা বন্ধ করার শর্ত থাকবে।
তিন মাস ধরে চলা এই যুদ্ধে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং ইরান হরমুজ প্রণালি প্রায় বন্ধ করে দেয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানির দাম লাফিয়ে বেড়েছে। জনমত জরিপে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমছে এবং কিছু রিপাবলিকান উদ্বিগ্ন যে যুদ্ধের অজনপ্রিয়তা নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে তাদের কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণ হতে পারে।





