ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের অনুমোদন সাপেক্ষে এই পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছে। প্রাথমিক ধাপে কাতারে আটকে থাকা ইরানের ৬০০ কোটি ডলার (৬ বিলিয়ন) ছাড় করা হতে পারে।
প্রস্তাবিত এই প্রক্রিয়ার অধীনে ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ফরমায়েশ অনুযায়ী জব্দ করা অর্থ দিয়ে খাদ্য, ওষুধসহ মানবিক সামগ্রী কেনার অনুমতি দেবে কাতার। চীন, ভারত, ইরাক ও কাতারসহ বিভিন্ন দেশে আটকে থাকা ইরানি তহবিল ছাড়ের ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়াটি একটি মডেল হিসেবে কাজ করতে পারে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আনুমানিক ২ হাজার ৪০০ কোটি ডলারের জব্দ সম্পদের একটি অংশ দ্রুত মুক্ত করতে চাইছে ইরান।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে সই হওয়া চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জব্দ করা সম্পদ ‘ব্যবহারের জন্য সম্পূর্ণভাবে উন্মুক্ত’ করার এবং সেগুলো ছাড়ের একটি প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনার অঙ্গীকার করেছে। মার্কিন এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান চলমান আলোচনায় ফলপ্রসূভাবে অংশ নিলেই কেবল এই তহবিল উন্মুক্ত হবে।
চ্যাথাম হাউসের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক পরিচালক সানাম ভাকিল ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে বলেন, ‘সীমিত পরিসরে সম্পদ ছাড় করাও অর্থনৈতিক জীবনরেখা এবং উত্তেজনা প্রশমনের রাজনৈতিক ইঙ্গিত হিসেবে কাজ করে।’ তিনি আরও বলেন, ইরানের মুদ্রার মান স্থিতিশীল করতে এবং অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চাপ কমাতে এই ধরনের পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চুক্তি স্বাক্ষরের পর ইরানকে যে তেল বিক্রির অনুমতি দিয়েছে ওয়াশিংটন, এই ব্যবস্থা তার থেকে আলাদা হবে। কাতারের এই প্রক্রিয়া নিয়ে গত মে মাসের শেষের দিকে দোহায় ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফসহ অন্যান্য ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়। চুক্তির সমালোচকেরা বলছেন, পারমাণবিক কর্মসূচিতে বড় ধরনের অগ্রগতির আগেই ইরানকে অর্থনৈতিক সুবিধা দেয়া হচ্ছে। অন্যদিকে সমর্থকদের দাবি, এটি আলোচনাকে এগিয়ে নিতে এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে সাহায্য করবে।
বুধবার সন্ধ্যায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বৈদ্যুতিক উপায়ে ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’-এ সই করেন। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও তেল আবিবের শুরু করা যুদ্ধ বন্ধের পথ সুগম করতেই এই চুক্তি।
৬০ দিনের আলোচনা শুরু করতে শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে দুই দেশের সরাসরি বৈঠকের কথা থাকলেও লেবাননে ইসরাইলের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের প্রতিবাদে তেহরান তা স্থগিত করেছে। গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পর ১২-১৩ এপ্রিল পাকিস্তানের আয়োজনে দুই দেশের মধ্যে ১৯৭৯ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ের সরাসরি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।





